চীনের পর বিরল খনিজে চোখ যুক্তরাষ্ট্রের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিরল খনিজ পদার্থ স্ক্যান্ডিয়ামের মজুত রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় বিরল খনিজ স্ক্যান্ডিয়ামের একটি খনিতে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ শুক্রবার (৭ জুলাই) এই ঘোষণা দেয়। খবর আলজাজিরার।

নিউ সাউথ ওয়েলসের ফিফিল্ডে খনিটি নির্মাণ করবে অস্ট্রেলিয়ার খনি কোম্পানি সানরাইজ এনার্জি মেটালস। এটি হবে স্ক্যান্ডিয়ামের জন্য বিশ্বের প্রথম খনি।

স্ক্যান্ডিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরল মাটির উপাদান। প্রতিরক্ষা, উড়োজাহাজ ও ডেটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এটি ব্যবহার করা হয়। মহাকাশ, ৫জি ও ৬জি টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে খনি খাতের নির্বাহীদের বৈঠকের পর পেন্টাগন এই ঘোষণা দেয়।

সানরাইজ এনার্জি মেটালস জানায়, তাদের ‘সায়ারস্টন স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্প’ পশ্চিমা দেশগুলোর স্ক্যান্ডিয়াম সরবরাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠবে।

স্ক্যান্ডিয়াম সাধারণত অন্য খনিজ উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়ামকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকরী। একইসঙ্গে এটি নমনীয় এবং তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধী।

বর্তমানে বিরল খনিজের ৭০ শতাংশ, প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯০ শতাংশ এবং চুম্বক তৈরির ৯৩ শতাংশ চীনের অধীনে রয়েছে।

বিশ্বে স্ক্যান্ডিয়ামের অন্যতম বড় মজুত রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে। তবে এর সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্য রয়েছে।

গত বছর প্রতিরক্ষা সামগ্রীতে ব্যবহারের জন্য স্ক্যান্ডিয়ামসহ বিরল খনিজের রপ্তানি সীমিত করে চীন। এরপর নতুন সরবরাহকারীর সন্ধানে নামে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের একচেটিয়া প্রভাব মোকাবিলায় গত অক্টোবরে বিরল খনিজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিতে দুদেশই বিভিন্ন প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়।

এদিকে, গত বছর সানরাইজ এনার্জি মেটালসের সঙ্গে চুক্তি করে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, খনি চালুর পর প্রথম পাঁচ বছর সানরাইজের উৎপাদিত স্ক্যান্ডিয়ামের ২৫ শতাংশ কিনবে লকহিড মার্টিন।

শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন বিরল খনিজ ও ব্যাটারি প্রকল্পে মোট ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্পনীতিকে শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

বর্তমানে বিরল খনিজের ৭০ শতাংশ, প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯০ শতাংশ এবং চুম্বক তৈরির ৯৩ শতাংশ চীনের অধীনে রয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত