leadT1ad

মর্যাদা প্রশ্নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৪৭
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে বেরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে ও একাধিকবার মার্কিন জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অন্য দেশগুলোর তুলনায়, বিশেষ করে চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওতে অনেক বেশি অর্থায়ন করেছে। অথচ সংস্থার ইতিহাসে কখনোই কোনো মার্কিন নাগরিক মহাপরিচালক পদে আসীন হননি।

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থা ছাড়ার এক বছর আগে নোটিশ দিতে হয় ও বকেয়া পরিশোধ করতে হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডব্লিউএইচওর ২৭ কোটি ডলারের বেশি পাওনা রয়েছে। তবে এইচএইচএস কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ১৯৪৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে এই বকেয়া পরিশোধে বাধ্য নয়।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইনফেকশাস ডিজিজেস সোসাইটি অব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড নাহাস একে ‘অদূরদর্শী’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, জীবাণু সীমানা মানে না, তাই বৈশ্বিক সহযোগিতা ছাড়া ইবোলা বা ফ্লুর মতো প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও নজরদারি কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও কাঠামোর বাইরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করবে। এইচএইচএস কর্মকর্তার মতে, ৬৩টি দেশে তাদের দুই হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে এবং শতাধিক দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কাজ অব্যাহত রাখা হবে।

ডব্লিউএইচওর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়টি ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের সভায় আলোচনা করা হবে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় যোগ দেওয়া বা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত