মার্কিন আদালতে খারিজ ট্রাম্পের ‘ইসরায়েলপ্রীতি’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১: ১৯
২০২৫ সালে ফ্লোরিডার বাসভবনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
২০২৫ সালে ফ্লোরিডার বাসভবনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের সমালোচনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, এমন পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিচারক নোয়েল ওয়াইজ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্রের পক্ষে রায় দেন। ওই পত্রিকা জানিয়েছিল, বিতাড়নের ভয়ে কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

ওয়াইজ জানান, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘আমেরিকার গণতন্ত্রের ভিত্তি’। বিতাড়নসংক্রান্ত সরকারি বিধানের কিছু অংশ অস্পষ্ট এবং বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে। যা সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনীর পরিপন্থী হওয়ায় ওই অংশ বাতিল করেন তিনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা এসে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি 'অ্যাডিশনাল মেজার্স টু কমব্যাট অ্যান্টি-সেমিটিজম' শীর্ষক নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে (ডিএইচএস) ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের ভিসা বাতিল ও বিতাড়নের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এটি মাঠপর্যায়ে কার্যকর শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মী মাহমুদ খলিলকে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে।

রায়ে ২০২৫ সালের মার্চে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কথা বলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন ওয়াইজ। ওই সময় ইসরায়েলের আগ্রাসনের সমালোচনা করায় অনেক ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এক বছর আগে বোস্টনের এক বিচারকের দেওয়া রায়েও বলা হয়েছিল, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন ও ইসরায়েলের সমালোচনা করায় বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাঁদের এভাবে টার্গেট ও বিতাড়নের চেষ্টা সংবিধান পরিপন্থী।

গত সেপ্টেম্বরে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক হত্যার পর তাঁর সমালোচকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিচারক। তিনি বলেন, সরকারের অপছন্দের মতামত প্রকাশ করলেই যে কেউ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে; এটি সংবিধানের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সবাইকে স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার দিয়েছে। কোনো বক্তব্য আপনার পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু সেই বক্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হবে।

রায়ের পর মামলার বাদী ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশনের আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক জানান, আমেরিকায় বাক্‌স্বাধীনতা শুধু সরকারের পছন্দের কথা বলার জন্য নয়।

তবে এ বিষয়ে শনিবার পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন বিচার বিভাগ।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত