তামান্না আনজুম

কখনও কি লিংকডইনে ঢুকে আপনার মনে হয়েছে, জীবনযুদ্ধে সবাই এগিয়ে যাচ্ছে, শুধু আপনিই পিছে পড়ে আছেন?
ধরুন, সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধুর পোস্ট। নতুন চাকরি পেয়েছেন বড় একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। পোস্টের নিচে অভিনন্দনের সারি। আবার স্ক্রল করতেই দেখলেন, আপনার আরেক সহপাঠী স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এসব দেখে মনের অজান্তেই যেন বুকের ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে। কোনো ঈর্ষা থেকে নয়। বরং তুলনা করতে গিয়ে নিজের অগ্রগতিকে ছোট মনে হয়।
অথচ আপনি ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিংবা এরই মধ্যে চাকরিও শুরু করেছেন। কিন্তু অন্যের সাফল্যের গল্প দেখতে দেখতে নিজের অর্জনগুলো আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেক তরুণই এমন অনুভূতির মধ্য দিয়ে যান। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই আছে।
লিংকডইনে একজন মানুষ সাধারণত তাঁর পুরো গল্প বলেন না। তিনি জানান নতুন চাকরি পাওয়ার কথা, কিন্তু সেই চাকরির জন্য কত জায়গায় আবেদন করেছিলেন, কতবার রিজেক্টেড হয়েছেন তা হয়তো বলেন না। প্রমোশনের খবরটি আমরা দেখি, কিন্তু এই দিনের জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে বা কত কাঠখড় পুড়িয়ে এই প্রমোশন পেতে হয়েছে, সেই কথা কেউ লেখে না। ফলে আমরা নিজের জীবনের সঙ্গে অন্যের জীবনের বেছে নেওয়া কয়েকটি সুন্দর মুহূর্তের তুলনা করতে শুরু করি।
মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘আপওয়ার্ড সোশ্যাল কম্পেরিজন’ বা ‘ঊর্ধ্বমুখী সামাজিক তুলনা’। সহজ কথায়, নিজের সঙ্গে এমন কারও তুলনা করা, যাকে কোনো একটি ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে এগিয়ে মনে হচ্ছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে লিংকডইন ব্যবহার করলেই মানসিক চাপ তৈরি হবে। বরং বিষয়টি নির্ভর করে একজন মানুষ সেটিকে কীভাবে ব্যবহার করছেন তার ওপর। লিংকডইন যদি নতুন সুযোগ, কাজ শেখা ও নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যম হয়, তাহলে সেটি উপকারী। কিন্তু যদি সেখানে অন্যের সাফল্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা বিচার করা শুরু হয়, তখনই সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর ভালো চাকরি পাওয়া, প্রত্যাশামতো বেতন পাওয়া কিংবা পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সবকিছু নিয়েই থাকে বাড়তি চাপ। তার ওপর চারপাশ থেকে আসে নানা প্রশ্ন। ‘চাকরি পেয়েছ?’ ‘বেতন কত?’ ‘বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছ না?’ ‘সরকারি চাকরি করবে না?’
এমন প্রশ্নের সঙ্গে যোগ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাফল্যের ছবি। তখন নিজের সাফল্যও ম্লান মনে হতে পারে। ধরা যাক, একজন তরুণ ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বন্ধু ৭০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি পেয়েছেন। আরেকজন বিদেশে চলে গেছেন। তখন সেই তুলনা আর শুধু চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ধীরে ধীরে তা হয়ে ওঠে জীবনযাত্রার তুলনা। যে তরুণ আগে ৩০ হাজার টাকার চাকরি নিয়ে খুশি ছিলেন, তিনিই হয়তো ভাবতে শুরু করেন, ‘ওদের মতো ভালো করতে পারলাম না।’
কে আগে গাড়ি কিনল, কে বিদেশ গেল, কে বড় প্রতিষ্ঠানে ঢুকল, কার চাকরির সোশ্যাল ভ্যালু বেশি; সবকিছু মিলিয়ে সাফল্যের অদৃশ্য মাপকাঠি তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনকে এভাবে মাপা ঠিক নয়। কারও জন্য ২৫ বছর বয়সে চাকরি পাওয়া বড় অর্জন। আবার কারও জন্য পরিবারের দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা শেষ করাটাই বড় সাফল্য। কেউ দ্রুত এগিয়ে যান, কেউ নিজের জায়গা তৈরি করতে একটু বেশি সময় নেন।
তবে তরুণদের এই উদ্বেগের সব দায় অবশ্য লিংকডইনের ওপর দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের চাকরির বাজার, পারিবারিক প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক চাপ আর কর্মজীবনে প্রবেশের কঠিন বাস্তবতাও এর সঙ্গে জড়িত। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের এক গবেষণায় তরুণদের চাকরি নিয়ে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বেতন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের সময় এবং কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফারাকের কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ একজন তরুণ যখন লিংকডইনে অন্যের সাফল্য দেখছেন, তখন তাঁর নিজের জীবনেও হয়তো ইতিমধ্যে নানা চাপ কাজ করছে। ফলে অন্যের অর্জন কখনো কখনো সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
লিংকডইনে নিজের প্রোফাইল সাজানো যেন আরেক পরিশ্রমের কাজ। প্রোফাইলের ছবিটি প্রফেশনাল হতে হবে। এক্সপেরিয়েন্স সেকশনে নিজের অর্জনগুলো তুলে ধরতে হবে। অনেক সার্টিফিকেট যোগ করতে হবে। পোস্ট লিখতে হবে। নেটওয়ার্কিং করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে অনেক তরুণের কাছে মনে হতে পারে, কাজ করার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের মার্কেটিংও করতে হচ্ছে।
পারফেকশনিজমের ঝুঁকি এখানেই। লিংকডইন নিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরা এবং অন্যের সাফল্য দেখার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে অন্যের সঙ্গে তুলনা করার চাপ বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য মনে না হওয়া, সবকিছু ‘পারফেক্ট’ করার চাপ এবং ব্যর্থতার ভয়ও জড়িয়ে যেতে পারে।
তবে নিজের ক্যারিয়ার প্রোফাইল তৈরি করা যে খারাপ, তা নয়। বরং একটি ভালো প্রফেশনাল প্রোফাইল চাকরি খোঁজা ও নেটওয়ার্কিংয়ের কাজে সহায়ক হতে পারে। তবে এই প্রোফাইল যখন নিজের যোগ্যতা বিচার করার একমাত্র মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখনই উদ্বেগ আর হতাশার জন্ম হয়।
লিংকডইনের আরেকটি বিষয়ও তরুণদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। সেটি হলো নিজেকে সবসময় সফল হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা। নতুন চাকরি পেয়েছেন? জানাতে হবে। পদোন্নতি হয়েছে? জানাতে হবে। নতুন কোনো সনদ পেয়েছেন? সেটিও জানাতে হবে। কোনো সম্মেলনে গেছেন? ছবি দিতে হবে। কেউ কেউ আবার খুব সাধারণ বিষয়কেও বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। এসব দেখে মনে হতে পারে, তাঁর জীবনে বুঝি কোনো ব্যর্থতাই নেই।
তবে এসব অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই পেশাগত যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু ভালো কাজ করছি, এর প্রমাণও সবাইকে দেখাতে হবে; এমন প্রবণতা থাকলে আসল কাজের চেয়ে ‘শো অফ’ করাই বেশি হয়। কিন্তু কেউ যদি নিজের সব খুঁটিনাটি লিংকডইনে দিতে চান, তা দেখে নিজেকে ‘অযোগ্য’ ভাবার কোনো কারণ নেই। অন্যের প্রমোশনের খবর বা সাফল্য দেখে নিজের ব্যর্থতা খোঁজার বদলে ভাবা যায় এই মানুষটি কী কী দক্ষতা অর্জন করেছেন? তাঁর কাজ থেকে আমি কী শিখতে পারি? কোন ধরনের দক্ষতার এখন চাহিদা বেশি?
আর নিজের অগ্রগতি মাপার সময় অন্যের বয়স, বেতন কিংবা পদবি না দেখে নিজের আগের অবস্থার দিকে তাকানো যেতে পারে। যেমন, ছয় মাস আগে যে কাজটি পারতেন না, এখন কি পারেন? গত বছর যে দক্ষতা ছিল না, এখন কি কিছুটা হয়েছে? আগে যে কাজ করতে ভয় পেতেন, এখন কি আত্মবিশ্বাস নিয়ে করতে পারেন? নিজের কাজের মান কি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলো ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই প্রতিযোগিতা অন্যের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গে। কারণ কর্মজীবনে সবাই একই জায়গা থেকে শুরু করেন না, একই পথে হাঁটেন না, আবার একই সময়ে গন্তব্যেও পৌঁছান না।

কখনও কি লিংকডইনে ঢুকে আপনার মনে হয়েছে, জীবনযুদ্ধে সবাই এগিয়ে যাচ্ছে, শুধু আপনিই পিছে পড়ে আছেন?
ধরুন, সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধুর পোস্ট। নতুন চাকরি পেয়েছেন বড় একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। পোস্টের নিচে অভিনন্দনের সারি। আবার স্ক্রল করতেই দেখলেন, আপনার আরেক সহপাঠী স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এসব দেখে মনের অজান্তেই যেন বুকের ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে। কোনো ঈর্ষা থেকে নয়। বরং তুলনা করতে গিয়ে নিজের অগ্রগতিকে ছোট মনে হয়।
অথচ আপনি ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিংবা এরই মধ্যে চাকরিও শুরু করেছেন। কিন্তু অন্যের সাফল্যের গল্প দেখতে দেখতে নিজের অর্জনগুলো আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেক তরুণই এমন অনুভূতির মধ্য দিয়ে যান। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই আছে।
লিংকডইনে একজন মানুষ সাধারণত তাঁর পুরো গল্প বলেন না। তিনি জানান নতুন চাকরি পাওয়ার কথা, কিন্তু সেই চাকরির জন্য কত জায়গায় আবেদন করেছিলেন, কতবার রিজেক্টেড হয়েছেন তা হয়তো বলেন না। প্রমোশনের খবরটি আমরা দেখি, কিন্তু এই দিনের জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে বা কত কাঠখড় পুড়িয়ে এই প্রমোশন পেতে হয়েছে, সেই কথা কেউ লেখে না। ফলে আমরা নিজের জীবনের সঙ্গে অন্যের জীবনের বেছে নেওয়া কয়েকটি সুন্দর মুহূর্তের তুলনা করতে শুরু করি।
মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘আপওয়ার্ড সোশ্যাল কম্পেরিজন’ বা ‘ঊর্ধ্বমুখী সামাজিক তুলনা’। সহজ কথায়, নিজের সঙ্গে এমন কারও তুলনা করা, যাকে কোনো একটি ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে এগিয়ে মনে হচ্ছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে লিংকডইন ব্যবহার করলেই মানসিক চাপ তৈরি হবে। বরং বিষয়টি নির্ভর করে একজন মানুষ সেটিকে কীভাবে ব্যবহার করছেন তার ওপর। লিংকডইন যদি নতুন সুযোগ, কাজ শেখা ও নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যম হয়, তাহলে সেটি উপকারী। কিন্তু যদি সেখানে অন্যের সাফল্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা বিচার করা শুরু হয়, তখনই সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর ভালো চাকরি পাওয়া, প্রত্যাশামতো বেতন পাওয়া কিংবা পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সবকিছু নিয়েই থাকে বাড়তি চাপ। তার ওপর চারপাশ থেকে আসে নানা প্রশ্ন। ‘চাকরি পেয়েছ?’ ‘বেতন কত?’ ‘বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছ না?’ ‘সরকারি চাকরি করবে না?’
এমন প্রশ্নের সঙ্গে যোগ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাফল্যের ছবি। তখন নিজের সাফল্যও ম্লান মনে হতে পারে। ধরা যাক, একজন তরুণ ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বন্ধু ৭০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি পেয়েছেন। আরেকজন বিদেশে চলে গেছেন। তখন সেই তুলনা আর শুধু চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ধীরে ধীরে তা হয়ে ওঠে জীবনযাত্রার তুলনা। যে তরুণ আগে ৩০ হাজার টাকার চাকরি নিয়ে খুশি ছিলেন, তিনিই হয়তো ভাবতে শুরু করেন, ‘ওদের মতো ভালো করতে পারলাম না।’
কে আগে গাড়ি কিনল, কে বিদেশ গেল, কে বড় প্রতিষ্ঠানে ঢুকল, কার চাকরির সোশ্যাল ভ্যালু বেশি; সবকিছু মিলিয়ে সাফল্যের অদৃশ্য মাপকাঠি তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনকে এভাবে মাপা ঠিক নয়। কারও জন্য ২৫ বছর বয়সে চাকরি পাওয়া বড় অর্জন। আবার কারও জন্য পরিবারের দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা শেষ করাটাই বড় সাফল্য। কেউ দ্রুত এগিয়ে যান, কেউ নিজের জায়গা তৈরি করতে একটু বেশি সময় নেন।
তবে তরুণদের এই উদ্বেগের সব দায় অবশ্য লিংকডইনের ওপর দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের চাকরির বাজার, পারিবারিক প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক চাপ আর কর্মজীবনে প্রবেশের কঠিন বাস্তবতাও এর সঙ্গে জড়িত। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের এক গবেষণায় তরুণদের চাকরি নিয়ে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বেতন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের সময় এবং কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফারাকের কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ একজন তরুণ যখন লিংকডইনে অন্যের সাফল্য দেখছেন, তখন তাঁর নিজের জীবনেও হয়তো ইতিমধ্যে নানা চাপ কাজ করছে। ফলে অন্যের অর্জন কখনো কখনো সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
লিংকডইনে নিজের প্রোফাইল সাজানো যেন আরেক পরিশ্রমের কাজ। প্রোফাইলের ছবিটি প্রফেশনাল হতে হবে। এক্সপেরিয়েন্স সেকশনে নিজের অর্জনগুলো তুলে ধরতে হবে। অনেক সার্টিফিকেট যোগ করতে হবে। পোস্ট লিখতে হবে। নেটওয়ার্কিং করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে অনেক তরুণের কাছে মনে হতে পারে, কাজ করার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের মার্কেটিংও করতে হচ্ছে।
পারফেকশনিজমের ঝুঁকি এখানেই। লিংকডইন নিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরা এবং অন্যের সাফল্য দেখার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে অন্যের সঙ্গে তুলনা করার চাপ বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য মনে না হওয়া, সবকিছু ‘পারফেক্ট’ করার চাপ এবং ব্যর্থতার ভয়ও জড়িয়ে যেতে পারে।
তবে নিজের ক্যারিয়ার প্রোফাইল তৈরি করা যে খারাপ, তা নয়। বরং একটি ভালো প্রফেশনাল প্রোফাইল চাকরি খোঁজা ও নেটওয়ার্কিংয়ের কাজে সহায়ক হতে পারে। তবে এই প্রোফাইল যখন নিজের যোগ্যতা বিচার করার একমাত্র মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখনই উদ্বেগ আর হতাশার জন্ম হয়।
লিংকডইনের আরেকটি বিষয়ও তরুণদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। সেটি হলো নিজেকে সবসময় সফল হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা। নতুন চাকরি পেয়েছেন? জানাতে হবে। পদোন্নতি হয়েছে? জানাতে হবে। নতুন কোনো সনদ পেয়েছেন? সেটিও জানাতে হবে। কোনো সম্মেলনে গেছেন? ছবি দিতে হবে। কেউ কেউ আবার খুব সাধারণ বিষয়কেও বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। এসব দেখে মনে হতে পারে, তাঁর জীবনে বুঝি কোনো ব্যর্থতাই নেই।
তবে এসব অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই পেশাগত যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু ভালো কাজ করছি, এর প্রমাণও সবাইকে দেখাতে হবে; এমন প্রবণতা থাকলে আসল কাজের চেয়ে ‘শো অফ’ করাই বেশি হয়। কিন্তু কেউ যদি নিজের সব খুঁটিনাটি লিংকডইনে দিতে চান, তা দেখে নিজেকে ‘অযোগ্য’ ভাবার কোনো কারণ নেই। অন্যের প্রমোশনের খবর বা সাফল্য দেখে নিজের ব্যর্থতা খোঁজার বদলে ভাবা যায় এই মানুষটি কী কী দক্ষতা অর্জন করেছেন? তাঁর কাজ থেকে আমি কী শিখতে পারি? কোন ধরনের দক্ষতার এখন চাহিদা বেশি?
আর নিজের অগ্রগতি মাপার সময় অন্যের বয়স, বেতন কিংবা পদবি না দেখে নিজের আগের অবস্থার দিকে তাকানো যেতে পারে। যেমন, ছয় মাস আগে যে কাজটি পারতেন না, এখন কি পারেন? গত বছর যে দক্ষতা ছিল না, এখন কি কিছুটা হয়েছে? আগে যে কাজ করতে ভয় পেতেন, এখন কি আত্মবিশ্বাস নিয়ে করতে পারেন? নিজের কাজের মান কি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলো ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই প্রতিযোগিতা অন্যের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গে। কারণ কর্মজীবনে সবাই একই জায়গা থেকে শুরু করেন না, একই পথে হাঁটেন না, আবার একই সময়ে গন্তব্যেও পৌঁছান না।
.png)

সকাল সাড়ে আটটা। ঢাকার রাস্তায় তখন তীব্র যানজট। মিরপুর থেকে বনানীতে অফিসে যাচ্ছেন তানভীর। কিছুদিন হলো চাকরিজীবনে পা রেখেছেন তিনি। অফিস শুরু নয়টায়। কিন্তু রাস্তায় বসে থাকতে থাকতে তাঁর মনে হচ্ছে, দিনের শুরুটাই হলো যেন ক্লান্তি দিয়ে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। অফিস ছুটির সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এর
২৫ আগস্ট ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজজীবন নতুন কিছু শেখার, নিজের দক্ষতা গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি এমন কিছু করতে চান, যাতে নিজের হাতখরচ চালানো যায়, পরিবারের ওপর চাপ কমে এবং একই সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়। এখানেই শুরু হতে পারে অনলাইনে ছোট পরিসরে ব্যবসার
২২ আগস্ট ২০২৬
হঠাৎ একদিন অফিস থেকে জানানো হলো, আপনার চাকরি আর নেই। এমন পরিস্থিতিতে রাগ, দুশ্চিন্তা বা হতাশা কাজ করা স্বাভাবিক। তবে চাকরি হারানো মানেই আপনার যোগ্যতা নেই, এমন নয়। অনেক সময় কর্মীর কাজের মানের সঙ্গে চাকরি হারানোর সরাসরি সম্পর্কও থাকে না। চাকরি হারানোর পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় আব
১৭ আগস্ট ২০২৬
‘থমসন ফাউন্ডেশন ইয়াং জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। তরুণ সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে এই পুরস্কার আয়োজন করা হয়।
০৭ আগস্ট ২০২৬