তৌফিক হাসান

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস ৩৩৮ বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই সংস্থাগুলো দেশটিতে কর্মী পাঠাতে পারবে। তালিকা অনুমোদন দিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলেছে। তবে জনশক্তি ব্যবসায়ীরা একে ২৫ এজেন্সিরই ‘সিন্ডিকেট’ বলছেন।
গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশি ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। এ নিয়ে বিতর্ক এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পর ২৭ আগস্ট সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলকে যুক্ত করে ২৬ এজেন্সি এবং তাদের ৩১২ সহযোগী এজেন্সির তালিকা দেয় এফডব্লিউসিএমএস, যেটি শুক্রবার অনুমোদন দিল প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় প্রথম তালিকার ২৫ এজেন্সির অধীনে ১০টি করে ২৫০ এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ বলা হয়েছে। বাকি ৬২টিকে সরকারি এজেন্সি বোয়েসেলের সহযোগী বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের অনুরোধে মালয়েশিয়া শুধু বাংলাদেশকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ এই সুযোগ দিয়েছে। নেপাল, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ এই সুবিধা পায়নি। এমনকি সরকারি এজেন্সি বোয়েসেল বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটে এজেন্সির নামে কর্মী পাঠাতে হলে, তা হবে অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি। কারণ, যাদের সহযোগী এজেন্সি করা হয়েছে, তারা মূল এজেন্সির কাছে জিম্মি এবং ফি দিয়েই কর্মী পাঠাতে হবে। এই কারণেই এই বিষয়ে মন্ত্রী-সচিবের মুখে কুলুপ।
একাধিক দিন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সচিব মোখতার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও স্ট্রিম তাদের বক্তব্য পায়নি। এমনকি গত ২৭ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরব থেকে আসা বাংলাদেশিদের লাশ গ্রহণের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে যান। তবে সচিব জানান, তাঁর কাছে কোনো খবর নেই।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী– কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের করা ৪২৩টির অন্তর্ভুক্ত।
আগেও আমরা ১ হাজার ৪০০ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম এফডব্লিউসিএমএসে পেয়েছি। কিন্তু কাজ করেছে ২৫ জন। ফলে এখানে নতুন কিছু নেই। পুরোনো জিনিসকে ঘুরিফিরিয়ে হাজির করা হয়েছে। ফখরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা
এই তালিকার ব্যাপারে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল– বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত, তাদের যেন বাদ দেওয়া হয়। এরপরই মালয়েশিয়া ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিল। পাশাপাশি বোয়েসেল একই প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।
প্রশ্ন রেখে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘যাদের শুক্রবার এফডব্লিউসিএমএসে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তারা কি সরাসরি কর্মী পাঠাতে পারবে? পারবে না। মূলত এরা ২৫ জনের সাব-এজেন্ট। এরা কিন্তু ২৫ জনের মুনাফার অংশও পাবে না। ২৫ এজেন্সিকে টাকা দিয়েই তবে তারা কর্মী পাঠাতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আগেও আমরা ১ হাজার ৪০০ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম এফডব্লিউসিএমএসে পেয়েছি। কিন্তু কাজ করেছে ২৫ জন। ফলে এখানে নতুন কিছু নেই। পুরোনো জিনিসকে ঘুরিফিরিয়ে হাজির করা হয়েছে।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর স্ট্রিমকে বলেন, ‘অতীতে যা হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এখনো তা-ই হচ্ছে। মালয়েশিয়ার দিক থেকে তারা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এমনকি দ্বিপক্ষীয় যে সমঝোতা স্মারক, সেখানেও দেখা যাচ্ছে– তারা যেসব শর্ত দিচ্ছে, বাংলাদেশ পুরোপুরি মেনে নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সব সময় এই শ্রমবাজারে পেছন থেকে যেসব প্রভাবশালী কলকাঠি নেড়েছেন, তারাই বহাল। নতুন করে শুরু হতে যাওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের ছায়াই স্পষ্ট হলো। আর এই সিন্ডিকেটের বড় অংশ মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। এখানে আমরা নতুন কিছু পাচ্ছি না। শুধু কিছু মুখ পরিবর্তন হচ্ছে এজেন্সির নামে।’
বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন ছাড়াও গত ২২ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, রেস্তোরাঁ খাতের জন্য দেশটির সঙ্গে চুক্তি থাকা সব সোর্স কান্ট্রি থেকে ১৫ হাজার কর্মী নেওয়া হবে। কোন দেশ থেকে কতজন নেবে, তা উল্লেখ নেই। তবে ইতোমধ্যে ৫ হাজার কর্মীর কোটা পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। ফলে এই কোটায় আরও ১০ হাজার কর্মী যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে শিগগির মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে। বড় মাইলফলক হলো– সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে বিনামূল্যে নিতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। এই ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষিত ১৫ হাজারের কোটার নাকি সম্পূর্ণ আলাদ, তা উল্লেখ নেই বিজ্ঞপ্তিতে।
মালয়েশিয়ার একটি সূত্র স্ট্রিমকে জানায়, ২০২১ সালে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের সঙ্গে কর্মী নেওয়ার চুক্তি করে মালয়শিয়া, যা আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। মূলত ওই চুক্তির শেষ কোটা ১৫ হাজার। ফলে আলাদা করে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সুযোগ খুবই কম। আবার ১৬ দেশের ভাগেই যদি ১৫ হাজার কর্মী হয়, তাহলে বাংলাদেশের অংশ ১ থেকে ২ হাজার। ফলে সত্যিকার অর্থে কতজন কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
আমরা এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করলে, তারাও কিছু জানাতে পারেননি। আব্দুস সালাম, স্বত্বাধিকারী, বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড
এফডব্লিউসিএমএসে যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির নাম, তারাও এই বিষয়ে কিছু জানে না। বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেডের কর্ণধার আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করলে, তারাও কিছু জানাতে পারেননি।’
বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু এফডব্লিউসিএমএসে নাম দেখেছি। কিন্তু কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি।’
অবশ্য শ্রমবাজার উন্মুক্তের ঘোষণাতেও প্রক্রিয়া ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো শুরু হবে, তা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি মন্ত্রণালয় যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি/নির্দেশনা জারি না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস ৩৩৮ বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই সংস্থাগুলো দেশটিতে কর্মী পাঠাতে পারবে। তালিকা অনুমোদন দিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলেছে। তবে জনশক্তি ব্যবসায়ীরা একে ২৫ এজেন্সিরই ‘সিন্ডিকেট’ বলছেন।
গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশি ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। এ নিয়ে বিতর্ক এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পর ২৭ আগস্ট সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলকে যুক্ত করে ২৬ এজেন্সি এবং তাদের ৩১২ সহযোগী এজেন্সির তালিকা দেয় এফডব্লিউসিএমএস, যেটি শুক্রবার অনুমোদন দিল প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় প্রথম তালিকার ২৫ এজেন্সির অধীনে ১০টি করে ২৫০ এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ বলা হয়েছে। বাকি ৬২টিকে সরকারি এজেন্সি বোয়েসেলের সহযোগী বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের অনুরোধে মালয়েশিয়া শুধু বাংলাদেশকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ এই সুযোগ দিয়েছে। নেপাল, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ এই সুবিধা পায়নি। এমনকি সরকারি এজেন্সি বোয়েসেল বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটে এজেন্সির নামে কর্মী পাঠাতে হলে, তা হবে অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি। কারণ, যাদের সহযোগী এজেন্সি করা হয়েছে, তারা মূল এজেন্সির কাছে জিম্মি এবং ফি দিয়েই কর্মী পাঠাতে হবে। এই কারণেই এই বিষয়ে মন্ত্রী-সচিবের মুখে কুলুপ।
একাধিক দিন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সচিব মোখতার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও স্ট্রিম তাদের বক্তব্য পায়নি। এমনকি গত ২৭ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরব থেকে আসা বাংলাদেশিদের লাশ গ্রহণের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে যান। তবে সচিব জানান, তাঁর কাছে কোনো খবর নেই।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী– কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের করা ৪২৩টির অন্তর্ভুক্ত।
আগেও আমরা ১ হাজার ৪০০ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম এফডব্লিউসিএমএসে পেয়েছি। কিন্তু কাজ করেছে ২৫ জন। ফলে এখানে নতুন কিছু নেই। পুরোনো জিনিসকে ঘুরিফিরিয়ে হাজির করা হয়েছে। ফখরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা
এই তালিকার ব্যাপারে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল– বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত, তাদের যেন বাদ দেওয়া হয়। এরপরই মালয়েশিয়া ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিল। পাশাপাশি বোয়েসেল একই প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।
প্রশ্ন রেখে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘যাদের শুক্রবার এফডব্লিউসিএমএসে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তারা কি সরাসরি কর্মী পাঠাতে পারবে? পারবে না। মূলত এরা ২৫ জনের সাব-এজেন্ট। এরা কিন্তু ২৫ জনের মুনাফার অংশও পাবে না। ২৫ এজেন্সিকে টাকা দিয়েই তবে তারা কর্মী পাঠাতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আগেও আমরা ১ হাজার ৪০০ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম এফডব্লিউসিএমএসে পেয়েছি। কিন্তু কাজ করেছে ২৫ জন। ফলে এখানে নতুন কিছু নেই। পুরোনো জিনিসকে ঘুরিফিরিয়ে হাজির করা হয়েছে।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর স্ট্রিমকে বলেন, ‘অতীতে যা হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এখনো তা-ই হচ্ছে। মালয়েশিয়ার দিক থেকে তারা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এমনকি দ্বিপক্ষীয় যে সমঝোতা স্মারক, সেখানেও দেখা যাচ্ছে– তারা যেসব শর্ত দিচ্ছে, বাংলাদেশ পুরোপুরি মেনে নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সব সময় এই শ্রমবাজারে পেছন থেকে যেসব প্রভাবশালী কলকাঠি নেড়েছেন, তারাই বহাল। নতুন করে শুরু হতে যাওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের ছায়াই স্পষ্ট হলো। আর এই সিন্ডিকেটের বড় অংশ মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। এখানে আমরা নতুন কিছু পাচ্ছি না। শুধু কিছু মুখ পরিবর্তন হচ্ছে এজেন্সির নামে।’
বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন ছাড়াও গত ২২ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, রেস্তোরাঁ খাতের জন্য দেশটির সঙ্গে চুক্তি থাকা সব সোর্স কান্ট্রি থেকে ১৫ হাজার কর্মী নেওয়া হবে। কোন দেশ থেকে কতজন নেবে, তা উল্লেখ নেই। তবে ইতোমধ্যে ৫ হাজার কর্মীর কোটা পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। ফলে এই কোটায় আরও ১০ হাজার কর্মী যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে শিগগির মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে। বড় মাইলফলক হলো– সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে বিনামূল্যে নিতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। এই ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষিত ১৫ হাজারের কোটার নাকি সম্পূর্ণ আলাদ, তা উল্লেখ নেই বিজ্ঞপ্তিতে।
মালয়েশিয়ার একটি সূত্র স্ট্রিমকে জানায়, ২০২১ সালে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের সঙ্গে কর্মী নেওয়ার চুক্তি করে মালয়শিয়া, যা আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। মূলত ওই চুক্তির শেষ কোটা ১৫ হাজার। ফলে আলাদা করে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সুযোগ খুবই কম। আবার ১৬ দেশের ভাগেই যদি ১৫ হাজার কর্মী হয়, তাহলে বাংলাদেশের অংশ ১ থেকে ২ হাজার। ফলে সত্যিকার অর্থে কতজন কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
আমরা এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করলে, তারাও কিছু জানাতে পারেননি। আব্দুস সালাম, স্বত্বাধিকারী, বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড
এফডব্লিউসিএমএসে যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির নাম, তারাও এই বিষয়ে কিছু জানে না। বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেডের কর্ণধার আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করলে, তারাও কিছু জানাতে পারেননি।’
বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু এফডব্লিউসিএমএসে নাম দেখেছি। কিন্তু কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি।’
অবশ্য শ্রমবাজার উন্মুক্তের ঘোষণাতেও প্রক্রিয়া ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো শুরু হবে, তা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি মন্ত্রণালয় যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি/নির্দেশনা জারি না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
.png)

চুয়াডাঙ্গা থেকে আন্তঃজেলার পাঁচ রুটে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বাস-মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর ও বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এই কর্মসূচি পালন করছে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ।
২ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের বৈঠক হতে পারে। আগামী নভেম্বরে তুরস্কে জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) যোগ দিতে যাবেন তারেক রহমান। আনাতালিয়ায় এই সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
সিলেটের বিয়ানীবাজারের নৌকাবাইচ অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীর এই প্রতিযোগিতায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ উপস্থিত হয়েছেন, দাবি আয়োজকদের। এর আগে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে আপত্তি জানালে সোনাই নদীর ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
১৬ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা থামছেই না। রাত নামলেই নদীর তীরে এবং পার্শ্ববর্তী ভিটেয় ড্রেজার বসিয়ে যত্রতত্র তোলা হচ্ছে বালু। এতে নদী ভাঙন বেড়ে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘর থেকে শুরু করে সড়কও। সম্প্রতি জেলার তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে যাদুকাটার ভাঙন তীব্র হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে