নেপাল-চীনে বন্যায় নিখোঁজ ৩ হাজার ছাড়াল, মৃত বেড়ে ৬৮২

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৩৬
নেপালে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহতা ছাপ ফুটে উঠছে নদীর কাছাকাছি আবাসনগুলোতে। ছবি: সংগৃহীত।
নেপালে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহতা ছাপ ফুটে উঠছে নদীর কাছাকাছি আবাসনগুলোতে। ছবি: সংগৃহীত।

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রলয়ঙ্করী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮২ জনে।

উদ্ধার অভিযানের চতুর্থ দিন শনিবারও দিনভর নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালিয়েছে নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল। নেপালে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনের তিব্বত অঞ্চলে মারা গেছেন আরও ৭ জন।

নেপালে নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি। চীনের অংশে নিখোঁজ ৫৫৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটক ও অঞ্চলটির বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরিকও আছেন।

শনিবার পর্যন্ত নেপালে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার হিমালয়ের নেপাল-তিব্বত সীমান্তে একটি বিশাল হিমবাহ ও পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ার পর এই বিপর্যয় শুরু হয়। ধসে পড়া বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় এক কিলোমিটার নিচে উপত্যকায় গিয়ে পড়ে। এরপর পাহাড়ি নদীগুলোতে আকস্মিক পানির ঢল নামে এবং মুহূর্তেই ভেসে যায় জনপদ, সেতু, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো।

বিজ্ঞানীরা এখনো এই বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করছেন। তবে স্যাটেলাইট চিত্র ও প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হিমবাহের একটি বিশাল অংশের সঙ্গে পাহাড়েরও বিশাল অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে নেমে আসে।

এদিকে বন্যার পর সীমান্ত এলাকায় তৈরি হওয়া দুটি নতুন হ্রদ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদটির পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে যাচ্ছে এবং এর আয়তন কমছে। কিছু অংশে এর তলদেশও দৃশ্যমান হয়েছে।

তবে হিমবাহের কাছে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় ও বড় হ্রদটি এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এর গভীরতা ও সেখানে জমে থাকা পানির পরিমাণ পুরোপুরি জানা যায়নি। নতুন করে ভূমিধস বা হ্রদের পাড় ভেঙে গেলে আবারও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।

পরিস্থিতির ঝুঁকির কারণে শুক্রবার কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও উদ্ধারকাজ শুরু হয়।

বর্তমানে উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন টানেল। নেপালের আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কাদায় ভরা টানেলে শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল।

এদিকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের পর নেপালে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা অনেক মরদেহ পচতে শুরু করেছে। এতে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া বিপুলসংখ্যক মরদেহ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল ও মর্গগুলো। পর্যাপ্ত জায়গা, কোল্ড স্টোরেজ এবং মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজারের অভাব দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ডিএনএ পরীক্ষার সক্ষমতার সংকটও রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে। মরদেহ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং অতিরিক্ত ফ্রিজার পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পচন ও সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দ্রুত দাফন করা হচ্ছে। তবে দাফনের আগে সেগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পরে স্বজনদের পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে মৃতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নেপালের ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ত্রাণ ও কারিগরি সহায়তা পাঠাতে শুরু করেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত