ফারুক হোসাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তখন মাসখানেক বাকি। চারদিকে ভোটের ব্যস্ততা। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময় শুরু হয় নিয়োগের তোড়জোড়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে আবেদন গ্রহণ, পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নিয়োগ— পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হয় মাত্র ২৫ দিনে। ভোটের দুই দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) সিন্ডিকেট বসিয়ে ১৯ শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্তও করা হয়।
শুধু এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নির্বাচনের আগ দিয়ে দেদারসে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দায়িত্ব পাওয়া উপাচার্যসহ শীর্ষ কর্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে পদ হারাতে পারেন— এমন শঙ্কা থেকেই উপাচার্যরা তখন দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন।
নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের শুরুতেই অবশ্য এর প্রমাণ মিলেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর এরই মধ্যে দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো পর্যায়ের নিয়োগ বোর্ডে মূলত এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তারই কেউ না কেউ প্রধান থাকেন।
দেশে ৫৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টির গত দুই বছরের নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করেছে স্ট্রিম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, নির্বাচনী ডামাডোলের তিন মাসে এই ছয় প্রতিষ্ঠানে যে নিয়োগ হয়েছে, তা অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের নিয়োগের প্রায় অর্ধেক।
নথি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৯ মাসে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৭০ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিয়োগের তোড়জোড় বাড়ে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগেই ২৭৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিল আফরোজ বেগম স্ট্রিমকে বলেন, নতুন সরকার এসেই নিজেদের পছন্দে উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এ কারণে নির্বাচনের আগের সময়টি নিজেদের শেষ সময় মনে করে তড়িঘড়ি নিয়োগ দিতে পারেন উপাচার্যরা।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের নীতিমালা আছে, তা লঙ্ঘন করে চাহিদার বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না তদন্ত করে দেখা দরকার। অবশ্য পদ যেহেতু ছাড় করে ইউজিসি, তাই শক্ত অবস্থান নিলে এমনটি হওয়ার কথা না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন ৩৭০ জন। ৭৮ শিক্ষক, ২২ কর্মকর্তা ও ২৭০ কর্মচারীর এই বহরের মধ্যে ১৭১ জনই নিয়োগ পেয়েছেন ইউনূস সরকারের শেষ তিন মাসে।
ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান। বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাস না পেরোতেই ১০ মার্চ তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ইয়াহ্ইয়া আখতারের আগে অন্য কোনো উপাচার্য এত কম সময়ে এত নিয়োগ দেননি। এ বিষয়ে তিনি স্ট্রিমকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় অনেক জায়গায় জনবল সংকট ছিল। সব নিয়োগই যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান জানিয়েছেন, অতীতের নিয়োগ নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। ইউজিসিও এ বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর নিয়োগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার আশরাফুল মুনিম। গত ২৭ জুলাই তাঁকে সরিয়ে দেয় সরকার। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগ পান ৬৮ জন। তাদের ৩৭ জনই নিয়োগ পান শেষ তিন মাসে– ডিসেম্বরে ১৮ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৯ জন।
গত ২৭ জুলাই অব্যাহতির আগে এপ্রিলে আরও ১৩ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন উপাচার্য খন্দকার আশরাফুল মুনিম। এরপর জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
স্বল্প সময়ে নিয়োগ নিয়ে অধ্যাপক আশরাফুল মুনিম বলেন, ‘সাধারণত কোনো কাজই আমরা দীর্ঘায়িত করিনি, এ কারণে নিয়োগও দ্রুত সময়ে করা হয়েছে।’
তবে নথি বলছে ভিন্ন কথা। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটের আগ দিয়ে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ হয়েছিল ১৬ জানুয়ারি। ৩৮ পদের মধ্যে শিক্ষক চাওয়া হয়েছিল ২৩ জন। এক মাসের কম সময়ে ১৯ শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্তও করা হয়। তবে গত বছরের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় দুই মাস লেগেছিল।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ১৯ মাসে নিয়োগ পাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে রয়েছেন ২৮ শিক্ষক ও ৭ কর্মকর্তা। নথিপত্র বলছে, ৩৫ জনের মধ্যে ২৮ জনই ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিয়েছেন, যা মোট নিয়োগের ৮০ শতাংশ।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মজিদ যবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। গত ১৩ এপ্রিল তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তথ্য বলছে, তাঁর সময়ে যোগ দেওয়া ২৮ শিক্ষকের মধ্যে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ১৩ জন, পরদিন একজন, ২১ জানুয়ারি সাতজন এবং ২৪ জানুয়ারি আরও দুজন শিক্ষক হন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান সমাজকর্ম বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রেজাউল করিম। গত ১৮ মার্চ তাঁকে সরিয়ে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগের দেড় বছরে তিনি ১৭ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
নথিপত্র বলছে, ১৭ শিক্ষকের মধ্যে ১৬ জনই নিয়োগ পেয়েছেন সবশেষ ফেব্রুয়ারিতে। এর মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি দর্শন বিভাগে তিনজন, ৫ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস বিভাগে তিনজন, ৮ ফেব্রুয়ারি আরও কয়েকটি বিভাগে ৯ জন এবং ৯ ফেব্রুয়ারি আরেকজন নিয়োগ পান।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটের তিন দিন আগে (৮ ফেব্রুয়ারি) ১৪ শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ঢাবির ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক শওকত আলী এখনও পদে রয়েছেন।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পান চার শিক্ষক ও ১০ কর্মচারী।
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন ঢাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হায়দার আলী। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩০ শিক্ষক ও ২১ কর্মচারী নিয়োগ পান। এই শিক্ষকের মধ্যে ১২ জনই নিয়োগ পান গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। আরেকজনের নিয়োগ হয় চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন নিয়োগ নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রাক্কালে এভাবে বড় বড় ব্যাচে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থি। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত বিজ্ঞপ্তির তারিখ ও ভাইভা বোর্ডের প্রক্রিয়া পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে দাবি করা হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু দিনে বা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুলসংখ্যক নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন ও যোগদান স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন স্ট্রিমকে বলেন, কমিশন থেকে পদ ছাড় করা হলে বা অনাপত্তি থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বেশি নিয়োগ বা নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তখন মাসখানেক বাকি। চারদিকে ভোটের ব্যস্ততা। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময় শুরু হয় নিয়োগের তোড়জোড়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে আবেদন গ্রহণ, পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নিয়োগ— পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হয় মাত্র ২৫ দিনে। ভোটের দুই দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) সিন্ডিকেট বসিয়ে ১৯ শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্তও করা হয়।
শুধু এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নির্বাচনের আগ দিয়ে দেদারসে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দায়িত্ব পাওয়া উপাচার্যসহ শীর্ষ কর্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে পদ হারাতে পারেন— এমন শঙ্কা থেকেই উপাচার্যরা তখন দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন।
নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের শুরুতেই অবশ্য এর প্রমাণ মিলেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর এরই মধ্যে দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো পর্যায়ের নিয়োগ বোর্ডে মূলত এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তারই কেউ না কেউ প্রধান থাকেন।
দেশে ৫৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টির গত দুই বছরের নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করেছে স্ট্রিম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, নির্বাচনী ডামাডোলের তিন মাসে এই ছয় প্রতিষ্ঠানে যে নিয়োগ হয়েছে, তা অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের নিয়োগের প্রায় অর্ধেক।
নথি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৯ মাসে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৭০ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিয়োগের তোড়জোড় বাড়ে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগেই ২৭৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিল আফরোজ বেগম স্ট্রিমকে বলেন, নতুন সরকার এসেই নিজেদের পছন্দে উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এ কারণে নির্বাচনের আগের সময়টি নিজেদের শেষ সময় মনে করে তড়িঘড়ি নিয়োগ দিতে পারেন উপাচার্যরা।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের নীতিমালা আছে, তা লঙ্ঘন করে চাহিদার বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না তদন্ত করে দেখা দরকার। অবশ্য পদ যেহেতু ছাড় করে ইউজিসি, তাই শক্ত অবস্থান নিলে এমনটি হওয়ার কথা না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন ৩৭০ জন। ৭৮ শিক্ষক, ২২ কর্মকর্তা ও ২৭০ কর্মচারীর এই বহরের মধ্যে ১৭১ জনই নিয়োগ পেয়েছেন ইউনূস সরকারের শেষ তিন মাসে।
ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান। বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাস না পেরোতেই ১০ মার্চ তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ইয়াহ্ইয়া আখতারের আগে অন্য কোনো উপাচার্য এত কম সময়ে এত নিয়োগ দেননি। এ বিষয়ে তিনি স্ট্রিমকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় অনেক জায়গায় জনবল সংকট ছিল। সব নিয়োগই যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান জানিয়েছেন, অতীতের নিয়োগ নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। ইউজিসিও এ বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর নিয়োগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার আশরাফুল মুনিম। গত ২৭ জুলাই তাঁকে সরিয়ে দেয় সরকার। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগ পান ৬৮ জন। তাদের ৩৭ জনই নিয়োগ পান শেষ তিন মাসে– ডিসেম্বরে ১৮ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৯ জন।
গত ২৭ জুলাই অব্যাহতির আগে এপ্রিলে আরও ১৩ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন উপাচার্য খন্দকার আশরাফুল মুনিম। এরপর জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
স্বল্প সময়ে নিয়োগ নিয়ে অধ্যাপক আশরাফুল মুনিম বলেন, ‘সাধারণত কোনো কাজই আমরা দীর্ঘায়িত করিনি, এ কারণে নিয়োগও দ্রুত সময়ে করা হয়েছে।’
তবে নথি বলছে ভিন্ন কথা। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটের আগ দিয়ে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ হয়েছিল ১৬ জানুয়ারি। ৩৮ পদের মধ্যে শিক্ষক চাওয়া হয়েছিল ২৩ জন। এক মাসের কম সময়ে ১৯ শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্তও করা হয়। তবে গত বছরের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় দুই মাস লেগেছিল।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ১৯ মাসে নিয়োগ পাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে রয়েছেন ২৮ শিক্ষক ও ৭ কর্মকর্তা। নথিপত্র বলছে, ৩৫ জনের মধ্যে ২৮ জনই ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিয়েছেন, যা মোট নিয়োগের ৮০ শতাংশ।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মজিদ যবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। গত ১৩ এপ্রিল তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তথ্য বলছে, তাঁর সময়ে যোগ দেওয়া ২৮ শিক্ষকের মধ্যে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ১৩ জন, পরদিন একজন, ২১ জানুয়ারি সাতজন এবং ২৪ জানুয়ারি আরও দুজন শিক্ষক হন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান সমাজকর্ম বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রেজাউল করিম। গত ১৮ মার্চ তাঁকে সরিয়ে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগের দেড় বছরে তিনি ১৭ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
নথিপত্র বলছে, ১৭ শিক্ষকের মধ্যে ১৬ জনই নিয়োগ পেয়েছেন সবশেষ ফেব্রুয়ারিতে। এর মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি দর্শন বিভাগে তিনজন, ৫ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস বিভাগে তিনজন, ৮ ফেব্রুয়ারি আরও কয়েকটি বিভাগে ৯ জন এবং ৯ ফেব্রুয়ারি আরেকজন নিয়োগ পান।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটের তিন দিন আগে (৮ ফেব্রুয়ারি) ১৪ শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ঢাবির ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক শওকত আলী এখনও পদে রয়েছেন।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পান চার শিক্ষক ও ১০ কর্মচারী।
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন ঢাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হায়দার আলী। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩০ শিক্ষক ও ২১ কর্মচারী নিয়োগ পান। এই শিক্ষকের মধ্যে ১২ জনই নিয়োগ পান গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। আরেকজনের নিয়োগ হয় চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন নিয়োগ নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রাক্কালে এভাবে বড় বড় ব্যাচে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থি। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত বিজ্ঞপ্তির তারিখ ও ভাইভা বোর্ডের প্রক্রিয়া পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে দাবি করা হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু দিনে বা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুলসংখ্যক নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন ও যোগদান স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন স্ট্রিমকে বলেন, কমিশন থেকে পদ ছাড় করা হলে বা অনাপত্তি থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বেশি নিয়োগ বা নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
.png)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় নিলস-এলইবি ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০০-এর অধিক অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করছেন।
২ ঘণ্টা আগে
তবে গত ৬ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রধান তিন পদসহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল আবাসন নিয়ে কিছুই করেনি। এমনকি প্যানেল থেকে নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে হল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও, আছেন হাত গুটিয়ে।
১৩ ঘণ্টা আগে
কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে। অনলাইনে এই আবেদন করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
২৫ আগস্ট ২০২৬