ad

‘সাম্প্রদায়িক’ নজরুল

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৪১
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

‘সাম্প্রদায়িকতা’ শব্দটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নেতিবাচক শব্দ। শুধু বাংলাদেশ কেন, বিশ শতকীয় ‘আধুনিক’বৈশ্বিক মূল্যবোধে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ গৃহীত হয়েছে ‘প্রগতিশীলতা’র বিপরীত ধারণা হিসেবে, রক্ষণশীলতার অনুগামী অর্থে। কিন্তু সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানুষ কোনো না কোনো সম্প্রদায়ের আওতায় বসবাস করে। অনেকসময় একইসঙ্গে একাধিক সম্প্রদায়-পরিচয়কেও সে ধারণ করতে পারে। কোনো সম্প্রদায়কে নিজের মনে করা একটি স্বাভাবিক বিষয়।

কিন্তু সম্প্রদায়গত পরিচয়ের আছে রকমফের। সাম্প্রদায়িক পরিচয় নির্ধারণে কখনো ভাষা, কখনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, কখনো পেশা, কখনো ধর্ম মুখ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। তবে এই এত এত উপাদানের মিথস্ক্রিয়া সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের মূল ভিত্তি প্রধানত জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য। একটি সম্প্রদায়ের আওতায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী সম্প্রদায়গত অধিকারচেতন থাকবে, এটিও একটি সহজাত প্রবণতা। ধর্ম-বিশ্বাসের প্রতি আনুগত্য আর নিজ সম্প্রদায়কে ধারণ করা এক বিষয় নয়।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে, বিশেষত বৃহৎ বাংলায় সাম্প্রদায়িকতা গৃহীত হয়েছে একমাত্রিক অর্থে। এখানে সম্প্রদায়গত অধিকারচেতনার যে নামকরণ করা হয়েছে, তা হলো—সাম্প্রদায়িকতা। মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পর্বে হিন্দু ও মুসলমান এই দুই জনগোষ্ঠীর সম্প্রদায়গত ঐক্যচেতনা আত্মপরিচয়গত রাজনীতি এবং আর্থরাজনৈতিক সমীকরণে একমাত্রিক ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমার্থক হিসেবে ‘সাম্প্রদায়িকতা’শব্দটি গৃহীত হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে বৃহত্তর ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন ভাষাভাষী, নানা জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মগোষ্ঠীর বসবাস। রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অংশ হিসেবে শাসনকাঠামোর দিক থেকে ভারতবর্ষে বিভিন্ন কালপর্বে মুসলমান নৃপতিদের শাসন ছিল—ছয় শতকব্যাপী। ফলে ধীরে ধীরে ভারতবর্ষে এবং বিশেষত বাংলা অঞ্চলে মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাংলা অঞ্চলে দুই সম্প্রদায় হিন্দু ও মুসলমান শতকের পর শতক ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। একই সঙ্গে প্রাচীন যুগ থেকেই বঙ্গ জনপদ তথা পূর্ববঙ্গ প্রাকৃতিক, ভৌগোলিক, নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক মানদণ্ডে স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় বহন করে চলেছে। পূর্ববঙ্গের অঞ্চলগত স্বাতন্ত্র্যের মধ্যে আবার মুসলমান ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যও ছিল, যা অনেকখানি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক। যেহেতু এই পরিচয়ের সঙ্গে ধর্মের সংযোগ আছে, তাই এই সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণে বিভিন্ন যাপনগত ধর্মীয় উপাদানের উপস্থিতি আছে। কিন্তু ঔপনিবেশিক কালপর্বে বিশ শতকে সম্প্রদায়গত চেতনার সঙ্গে যখন যুক্ত হলো ক্ষমতার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় রাজনীতি, দাঙ্গা-সংঘাত-হত্যা, তখন এই সম্প্রদায়গত চেতনা আর নিরীহ থাকল না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িকতা বলতে এখন কেবল হিন্দু-মুসলমানের শতাব্দীব্যাপী রক্তাক্ত ইতিহাসকে নির্দেশ করা হয়।

বিশ শতকের ঔপনিবেশিক শাসনের তুঙ্গপর্বে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব। জন্মগতভাবে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত, ভৌগোলিক বিবেচনায় বঙ্গবাসী, ভাষার দিক থেকে বাংলাভাষী। নজরুলের সমকাল থেকে হাল আমল পর্যন্ত কবি নজরুল বিবেচিত হন ‘অসাম্প্রদায়িক’ হিসেবে। এই বিবেচনার মধ্যে একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক অবস্থান আছে। সাহিত্য ও রাজনীতির জগতে নজরুল এমন সময় এলেন যখন ঔপনিবেশিক শাসন তার শক্ত আসন গেড়ে বসেছে, হিন্দু ও মুসলমানের নেতৃবৃন্দ ক্ষমতার দরকষকষিতে ব্যস্ত, বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সংঘাত ও মৃত্যু।

এতো কিছু সত্ত্বেও কাজী নজরুল ইসলাম নিছক সম্প্রদায়নিরপেক্ষ নন। প্রায় সব নজরুলবিশ্লেষক ও সমালোচকরা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে থিতু হন যে, নজরুল বাঙালি মুসলমানের জীবন ও সমাজের রূপায়ণ ও তাদের ভাষা-নির্মাণ করেছেন সফলভাবে। বাঙালির ভাষা-নির্মাণে ও ইতিহাস-গঠনে দীর্ঘকাল যে অংশটি ছিল পর্দার আড়ালে, সেই অংশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে নজরুল নিজ সমাজের ও ঐতিহ্যের অনুসন্ধান করেছেন তাঁর সাহিত্যকর্মে—কবিতায় , কথাসাহিত্যে, গানে, অভিভাষণে, প্রবন্ধে—সর্বত্র। এই ‘নিজ’ সমাজ-ঐতিহ্য হলো নজরুলের সম্প্রদায়।

কিন্তু কবি নজরুল কোন সম্প্রদায় ভুক্ত? আগেই বলা হয়েছে—নজরুল একইসঙ্গে বঙ্গবাসী, বাংলাভাষী ও মুসলমান। তাই নজরুলের সম্প্রদায়গত পরিচয় নির্মাণ কোনো একক বিষয়ের ওপর নির্ভশীল নয়। কেবল মুসলমানিত্ব দিয়ে যেমন নজরুলকে শনাক্ত করা যায় না, তেমনি তাঁর সৃজনসত্তা, দর্শন ও ক্রিয়াশীলতা থেকে মুসলমানিত্বকে বাদও দেওয়া সম্ভব নয়। স্বয়ং নজরুল তাঁর আত্মপরিচয় নির্মাণে ও প্রকাশে বিভিন্ন মুসলমানি উপাদানকে অঙ্গীভুত করেছেন। এজন্যই তিনি লিখতে পারেন ‘কোরবানী’, ‘মর্রম’,‘শাত্-ইল-আরবে’র মতো কবিতা। তিনি অনায়াসে আল্লাহ, খোদা, নবি মুহম্মদ, ফেরেশতা, সাহাবি (হজরত ওমর, হজরত আলি), আমিনা, ফাতিমা কিংবা কারবালা, চেঙ্গিস, ইস্রাফিল, শবে মিরাজ, রফরফ-বোর্রাকের অনুষঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন।

লিখতে পারেন অসংখ্য গজল ও হামদ-নাত। তার চেয়েও বড় কথা তিনি নিজ সম্প্রদায়ভুক্ত জীবন্ত মানুষের কথা বলেন; বলেন বিচিত্র জীবনের কথা। জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই তাঁর সৃষ্টিকর্মে সাবলীলভাবে থাকে নামাজ, রোজা, মসজিদ, আজান, হাশর, কিয়ামত, নিকাহ্, তালাক—এমন সব মুসলমান সংস্কৃতির অনুষঙ্গ। বিশেষত তাঁর কথাসাহিত্যে পাওয়া যায় মুসলমান জনজীবনের নিবিড় ও অন্তরঙ্গ পরিচয়। নজরুলের স্বজাত্যপ্রীতি লক্ষ করা যায় তাঁর একাধিক অভিভাষণে। যেমন, ১৯২৯ সালে চট্টগ্রাম এডুকেশন সোসাইটির প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতির অভিভাষণে তিনি বলেন: ‘হিন্দু আমাদের অপরিচ্ছন্ন অশিক্ষিত কৃষাণ-মজুরদের—(আর, তাদের সংখ্যাই আমাদের জাতের মধ্যে বেশি) দেখে মনে করে, মুসলমান মাত্রই এই রকম নোংরা, এমনি মূর্খ, গোঁড়া। হয়তো বা এরা যথা পূর্বম্ তথা পরম্। দরিদ্র মূর্খ কালিমদ্দি মিয়াই তার কাছে এ্যাভারেজ মুসলমানের মাপকাঠি। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে শিল্পে-সঙ্গীতে সাহিত্যে মুসলমানের বিরাট দানের কথা হয় তারা জানেই না, কিংবা শুনলেও আমাদের কেউ তাদের সামনে তার সত্যকার ইতিহাস ধরে দেখাতে পারে না বলে বিশ্বাস করে না; মনে করে-ও শুধু কাহিনী।’

নজরুলের সম্প্রদায়ের পরিসর বিস্তৃত হয় পশ্চিম এশিয়া—পারস্য-তুরস্ক-আরব-মেসোপটেমিয়া পর্যন্ত। যে জীবনের মধ্যে থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন, তথা বাঙালি মুসলমানের জীবন, সেই জীবনকে তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মে রূপদান করেছেন। বাঙালি মুসলমানের জীবনযাপন, ভাষাভঙ্গি, উৎসব-আনন্দ, বিরহ-বেদনা, গার্হস্থ্যজীবন—এমন অনেক জীবন্ত বিষয়কে বাংলা সাহিত্যের মহাস্রোতে যুক্ত করে তিনি বাংলা সাহিত্যকেই পূর্ণতা দিয়েছেন। নিজের সম্প্রদায়ের কথা বলা যে দোষের কিছু নয়, এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বক্তব্য স্মরণ করা যেতে পারে।

১৯৩৩ সালে প্রকাশিত কাজী ইমদাদুল হকের লেখা উপন্যাস ‘আবদুল্লাহ্’ রবীন্দ্রনাথের কাছে পৌঁছালে রবীন্দ্রনাথ বলেন: ‘‘আবদুল্লাহ্’ উপন্যাস পড়ে আমি খুশি হয়েছি—বিশেষ কারণে, এই বই থেকে মুসলমানের ঘরের কথা জানা গেল।’ কাজী নজরুলও একই ধরনের কাজ করেছেন তাঁর ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসে—নিম্নবিত্ত মুসলমান পরিবারের কথকতা নির্মাণে। নজরুলের ছোটগল্পগুলোও হয়ে ওঠে মুসলমান জীবনায়নের শিল্প-আলেখ্য। বিশেষত মুসলমান নারী অন্তর্বাহিরের জীবনসত্য উন্মোচনে নজরুলের ‘পদ্ম-গোখ্রো’, ‘ব্যথার দান’, ‘শিউলিমালা’য় নজরুল অনবদ্য শিল্পনৈপূণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। নজরুল মুসলমানদের কথা বলার সূত্রেই ধর্মতন্ত্র, মোল্লাতন্ত্র, পুরোহিততন্ত্রের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। যেমন ‘মানুষ’ কবিতায় তিনি নির্দ্বিধায় মোল্লা ও পুরোহিতের অমানবিক আচরণের দৃশ্য উপস্থাপন করেন, জানান ধিক্কার। যাপিত জীবন, পরিপার্শ্ব, পারিবারিক কাঠামো থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাই কবি নজরুলকে করে তুলেছে সম্প্রদায়লগ্ন।

কবি নজরুল তাঁর সম্প্রদায়ের জীবনচেতনাকে ঠিকঠাকভাবে আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন বলেই তিনি অসংকোচে লিখতে পারেন: ‘ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া / খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া, / উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর’। আবার একইসঙ্গে লেখেন: ‘আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান-বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন!’ (‘বিদ্রোহী’) নজরুল নিজ সম্প্রদায় সম্পর্কে আন্তরিক বলেই আত্মসমলোচনাতেও কুণ্ঠিত হন না; বলেন: ‘কোনো মুসলমান যদি তার সভ্যতা ইতিহাস ধর্মশাস্ত্র কোনো কিছু জানতে চায় তাহলে তাকে আরবি-ফার্সি বা উর্দুর দেয়াল টপকাবার জন্য আগে ভালো করে কসরৎ শিখতে হবে। ইংরেজি ভাষায় ইসলামের ফিরিঙ্গি রূপ দেখতে হবে।

কিন্তু সাধারণ মুসলমান বাংলাও ভালো করে শেখে না, তার আবার আরবি-ফার্সি!’ (‘মুসলিম সংস্কৃতির চর্চা’) মুসলমানদের কল্যাণ প্রত্যাশা করেন বলেই এই ধরনের বাক্য তিনি লিখতে পারেন। নারীদের পর্দা-প্রথা বিশেষত মুসলমান নারীদের সম্পর্কে বলেন: ‘দূর করে দাও তাঁদের সামনের ঐ অসুন্দর চটের পর্দা—যে পর্দার কুশ্রীতা ইসলাম-জগতের, মুসলিম জাহানের আর কোথাও নেই।’ (‘বাঙলার মুসলিমকে বাঁচাও’)

কাজী নজরুল ইসলামের সম্প্রদায়লগ্নতা কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং নিজ সম্প্রদায়ের স্বর নির্মাণ ও উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তিনি ঘুচিয়ে দিয়েছেন একের সঙ্গে অপরের অপরিচয়ের দূরত্ব ও সংকট। প্রথাসর্বস্ব ধর্মতন্ত্রের প্রতি নয়, নজরুলের আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা মূলত সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত নিজ সম্প্রদায়ের জনমানুষের প্রতি। নজরুল একই সঙ্গে বাঙালি ও মুসলমান। তাই চিরায়ত বাংলার লোকায়ত পুরাণ ব্যবহারে তিনি যেমন স্বচ্ছন্দ, তেমনি পশ্চিম এশীয় মিথ ব্যবহারেও তাঁর ছুৎমার্গ নেই। একই কবিতায় তিনি অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন প্রচুর তৎসম ও আরবি-ফারসি শব্দ। একই সময়ে লিখতে পারেন গজল ও শ্যামাসংগীত এবং বৈষ্ণবধারার ও সুফিবাদী গান। মূলত, নজরুলকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ হিসেবে বিবেচনা একটি রাজনৈতিক প্রপঞ্চ। এখানে নজরুল নিজের যে সম্প্রদায়গত সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের কথা আজীবন লিখেছেন, সেগুলোকে ভুলিয়ে দেওয়ার সূক্ষ্ম তৎপরতা আছে। নিজের সম্প্রদায়কে ধারণ করেও যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করা যায়, অপরকে আপন করা যায়, ক্ষুদ্রতাকে বড়ো পরিসরে মধ্যে বিবেচনা করা যায় কাজী নজরুলকৃত সৃষ্টিকর্ম সেই সাক্ষ্য দেয়।

বাংলাদেশে নজরুল-বিবেচনার আছে মাত্রাগত বৈচিত্র্য ও বিশেষ বিশেষ সমীকরণ। এক পক্ষের কাছে নজরুল কেবলই ‘অসাম্প্রদায়িক’। আরেক পক্ষের কাছে নজরুল পুরোমাত্রায় ইসলামপন্থী। পাকিস্তান-পর্বেও দেখা গেছে কেবল মুসলমান-সত্তাকে বিবেচনায় নিয়ে কবি নজরুলের গ্রহণ করার প্রবণতা। বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কবি নজরুল ‘অসাম্প্রদায়িক’ হিসেবেই আদরণীয়। এই প্রবণতার মধ্যে আছে নিরাপদ ও সমন্বয়বাদী মানসিকতা। অস্থির রাজনৈতিক পরিসরে এর ইতিবাচক দিকও আছে। এমনকি যারা নজরুলকে কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করেন, তারাও ‘অসাম্প্রদায়িক’ শব্দবন্ধকে ব্যবহার করে তাদের অবস্থানকে মহৎ হিসেবে দেখাতে চান। কিন্তু এর ফলে নজরুলকে পুরোপুরি পাঠ করা হয় না। কিছু আরোপিত ভীতি ও আশঙ্কার কারণে তাঁর সম্প্রদায়গততাকে স্বীকার করা হচ্ছে না। কিন্তু নজরুলসত্তার বড়ো দিকই তো বিপ্লব, বিদ্রোহ ও পুরাতনকে ভেঙে নতুন করে গড়া। সেই বিবেচনায় সম্প্রদায়লগ্ন নজরুলকে পড়া অ্যাকাডেমিক পরিসরে নজরুল-পাঠে যোগ করতে পারে পদ্ধতিগত নতুন মাত্রা।

ড. রাফাত আলম: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত