খামেনির জানাজার তারিখ থেকে মহা আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা ইরানের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২: ৫৫
শুক্রবার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণসভায় অংশ নেওয়া শোকাতুর জনতার একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারানোর চার মাস পর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। তবে তাঁর জানাজা ও দাফনের জন্য বেছে নেওয়া তারিখ এবং আয়োজনের ব্যাপকতার সুপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট প্রতীকী তাৎপর্যকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কম।

সূচি অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে আগামীকাল ৪ জুলাই। এটি সেই দিন, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র দেশজুড়ে বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করবে। ভাষণ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

খামেনির এই শেষযাত্রার দিনটি শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের শাহাদাত বার্ষিকীর স্মরণের সঙ্গেও মিলে গেছে। পুরো এই শোকযাত্রা ও আনুষ্ঠানিকতাটি হচ্ছে হিজরি সন অনুযায়ী পবিত্র মহররম মাসে।

শিয়া ইসলামে মাসটি গভীর শোক, বিশ্বাসঘাতকতা এবং শাহাদাতের—বিশেষ করে সপ্তম শতাব্দীতে ইমাম হোসেনের (রা.) শাহাদাতবরণের ঘটনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইমাম হোসেন শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সম্মানিত ইমাম এবং খামেনি নিজের বংশধারা এই ইমাম হোসেনের সঙ্গেই যুক্ত করে থাকেন।

শুক্রবার খামেনির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের এক পোস্ট অনুযায়ী, তাঁর কফিনটি একটি পবিত্র পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল—যা একসময় ইমাম হোসেনের পবিত্র মাজারের ওপর উড়ত।

ইরান সরকারের পোস্ট অনুসারে, সাদা অক্ষরে লেখা এই লাল পতাকাটি ‘প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও সত্যের প্রতি অবিচল আনুগত্যের প্রতীক’।

বিশাল আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুই সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধ এবং কয়েক দশকের চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও খামেনিকে জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় জানাতে তেহরান কোনো খামতি রাখছে না। আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ বিদায়ে দুই দেশের পাঁচটি শহরজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী স্মরণসভার। এতে লাখ লাখ শোকাতুর মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ লজিস্টিক ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু করেছে। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহর এবং পবিত্র স্থানগুলোতে আসা লাখ লাখ শোকাতুর জনতাকে সামলাতে এবং জানাজা আয়োজন করতে সরকারি কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, ফায়ার সার্ভিস, সেনা সদস্য ও ত্রাণকর্মীদের নিয়োজিত করা হয়েছে।

শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ ইরাকও জানিয়েছে, সেখানে লাখ লাখ মানুষ খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইরানি গণমাধ্যমগুলোর সিংহভাগ জুড়েই এই মুহূর্তটির প্রস্তুতি নিয়ে খবর প্রচার করা হচ্ছে। এর আগে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে থাকত।

এই বিশাল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ‘শত্রুদের’ কাছে একটি বার্তা পাঠানো– এই শাসনব্যবস্থা কেবল একটি অস্তিত্ব সংকটের যুদ্ধ থেকেই বেঁচে ফেরেনি, বরং তার নিহত নেতাকে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বদ্ধপরিকর।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত