স্ট্রিম ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি আগামী শুক্রবার স্বাক্ষরিত হবে। গত কয়েক দিনে তিনি একাধিক বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোষ্টে লিখেছেন, আগামী ১৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
অন্যদিকে তেহরানও এ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ইরান জানিয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রথম এই চুক্তির খবর জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
শাহবাজ শরিফ জানান, ‘সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার’ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে লেবানন সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘হরমুজ প্রণালির টোলমুক্ত উন্মুক্ত ব্যবহার’ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার’ করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন, তিনি খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ঘোষণা দেবেন। পত্রিকাটির তথ্যানুযায়ী, তিনি বলেন, চুক্তিটি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করা হবে এবং এতে তিনি নিজে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বাক্ষর করতে পারেন।
পরে রোববার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে অথবা মধ্যপ্রাচ্যের ‘অভিভাবক’ হিসেবে ভূমিকা নিতে পারে। এর বিনিময়ে অঞ্চলটির মোট আয়ের ২০ শতাংশ পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে। তবে সাক্ষাৎকারটি চুক্তি ঘোষণার আগে নাকি পরে নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির ঘোষণার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘোষণা প্রেসিডেন্টের জন্মদিনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রুবিও বলেন, ‘অসাধারণ সাহস, দৃঢ় নেতৃত্ব, অনন্য রসবোধ এবং দেশের প্রতি অতুলনীয় ভালোবাসাসম্পন্ন একজন নেতা পেয়ে আমেরিকা সৌভাগ্যবান। শুভ জন্মদিন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘নতুন যুগের’ সূচনা করতে পারে। তিনি এই চুক্তি বাস্তবায়নে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং উপসাগরীয় দেশসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে তার সমন্বয়কে কৃতিত্ব দেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এমন একটি সুযোগ তৈরি করেছেন, যা এই অঞ্চলে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। এখন আশা করছি, ইরানকে ঘিরে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।’
ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। তাঁর মতে, ‘আমরা এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না।’
ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান শিগগিরই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে গারিবাবাদি বলেন, সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ও সামরিক তৎপরতার ‘তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ী সমাপ্তি’ ঘোষণা করা হবে। এর আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক কার্যক্রমও বন্ধ হবে।
গারিবাবাদি আরও জানান, চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে কি না, তা ইরান যাচাই করার ওপর।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ করা, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় মোট ১৪টি ধারা রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, সব ফ্রন্টে লেবাননসহ তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এছাড়া ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রনালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা, চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এবং ওই সময়ের মধ্যে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মেহরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের জব্দকৃত সম্পদের অন্তত অর্ধেক মুক্ত না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির খসড়া সম্পর্কে মেহরে প্রকাশিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা।
পাকিস্তান ও কাতার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। চুক্তি ঘোষণার আগে শেষ মুহূর্তের আলোচনাতেও তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা এ সপ্তাহে ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন করবে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করার ঘোষণা দিয়েছে।
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, এ সপ্তাহে ধারাবাহিক কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এবং চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ভিত্তি তৈরি করবে।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়সহ চুক্তির বিভিন্ন দিক টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান বিন জসিম আল থানিও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানান। তিনি পাকিস্তান এবং সব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের এ সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখার ব্যাপারে প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে তুরস্কে ইরান দূতাবাস তাদের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে হরমুজ প্রণালির ওপর স্থাপিত একটি শিলার প্রতীকে ইরানের জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে বা হামলার হুমকি দিয়ে ওই জলপথে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি আগামী শুক্রবার স্বাক্ষরিত হবে। গত কয়েক দিনে তিনি একাধিক বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোষ্টে লিখেছেন, আগামী ১৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
অন্যদিকে তেহরানও এ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ইরান জানিয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রথম এই চুক্তির খবর জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
শাহবাজ শরিফ জানান, ‘সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার’ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে লেবানন সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘হরমুজ প্রণালির টোলমুক্ত উন্মুক্ত ব্যবহার’ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার’ করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন, তিনি খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ঘোষণা দেবেন। পত্রিকাটির তথ্যানুযায়ী, তিনি বলেন, চুক্তিটি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করা হবে এবং এতে তিনি নিজে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বাক্ষর করতে পারেন।
পরে রোববার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে অথবা মধ্যপ্রাচ্যের ‘অভিভাবক’ হিসেবে ভূমিকা নিতে পারে। এর বিনিময়ে অঞ্চলটির মোট আয়ের ২০ শতাংশ পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে। তবে সাক্ষাৎকারটি চুক্তি ঘোষণার আগে নাকি পরে নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির ঘোষণার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘোষণা প্রেসিডেন্টের জন্মদিনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রুবিও বলেন, ‘অসাধারণ সাহস, দৃঢ় নেতৃত্ব, অনন্য রসবোধ এবং দেশের প্রতি অতুলনীয় ভালোবাসাসম্পন্ন একজন নেতা পেয়ে আমেরিকা সৌভাগ্যবান। শুভ জন্মদিন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘নতুন যুগের’ সূচনা করতে পারে। তিনি এই চুক্তি বাস্তবায়নে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং উপসাগরীয় দেশসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে তার সমন্বয়কে কৃতিত্ব দেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এমন একটি সুযোগ তৈরি করেছেন, যা এই অঞ্চলে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। এখন আশা করছি, ইরানকে ঘিরে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।’
ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। তাঁর মতে, ‘আমরা এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না।’
ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান শিগগিরই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে গারিবাবাদি বলেন, সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ও সামরিক তৎপরতার ‘তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ী সমাপ্তি’ ঘোষণা করা হবে। এর আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক কার্যক্রমও বন্ধ হবে।
গারিবাবাদি আরও জানান, চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে কি না, তা ইরান যাচাই করার ওপর।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ করা, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় মোট ১৪টি ধারা রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, সব ফ্রন্টে লেবাননসহ তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এছাড়া ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রনালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা, চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এবং ওই সময়ের মধ্যে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মেহরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের জব্দকৃত সম্পদের অন্তত অর্ধেক মুক্ত না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির খসড়া সম্পর্কে মেহরে প্রকাশিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা।
পাকিস্তান ও কাতার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। চুক্তি ঘোষণার আগে শেষ মুহূর্তের আলোচনাতেও তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা এ সপ্তাহে ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন করবে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করার ঘোষণা দিয়েছে।
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, এ সপ্তাহে ধারাবাহিক কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এবং চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ভিত্তি তৈরি করবে।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়সহ চুক্তির বিভিন্ন দিক টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান বিন জসিম আল থানিও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানান। তিনি পাকিস্তান এবং সব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের এ সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখার ব্যাপারে প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে তুরস্কে ইরান দূতাবাস তাদের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে হরমুজ প্রণালির ওপর স্থাপিত একটি শিলার প্রতীকে ইরানের জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে বা হামলার হুমকি দিয়ে ওই জলপথে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির ঘোষণা এসেছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।
৫ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। যেখানে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়তে পারে ইসরায়েল।
৭ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হাকিমপুর গ্রাম। সেখানে একটি চেকপোস্টের কাছে তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন রাইসুল ইসলাম।
২১ ঘণ্টা আগে
স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হয়েছেন ইলন মাস্ক। তবে বিপুল সম্পদের এই মালিক জীবনযাপন করেন বেশ সাদামাটাভাবে।
১ দিন আগে