স্ট্রিম ডেস্ক

দায়লিন আলিয়াস। শিক্ষক স্বামীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন ২৪ জুলাই। রাত তখন ৪টা ৫৭। এরপর আর তাঁকে পাননি ৩৬ বছর বয়সী দায়লিন। এখন লা গুইরার রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি দেখেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নিজেদের বাড়ি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বামী সেই রাতে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরেছিলেন কিনা, জানেন না দায়লিন। স্বামীর স্মৃতিচারণে কাঁদতে থাকেন তিনি। আল-জাজিরাকে দায়লিন বলেন, ‘কল দিলে একটি ক্লাস আছে, একটু পরে ফোন করব জানান। তারপর থেকে আর কোনো খবর মিলছে না। আমি এখনো তাঁকে খুঁজে পাইনি।’
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। গত ২৪ জুন এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। শনিবার (৪ জুলাই) পর্যন্ত নিহত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৫ জন। এখনো নিখোঁজ প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ জন। মরদেহ সংরক্ষণের জন্য সরকার ১০ হাজার ব্যাগ সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় শহর লা গুইরা। শহরটিতে একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ক্যারিবিয়ান বাতাসে ভেসে আসছে পচা গন্ধ। এরই মধ্যে রাস্তায় স্বজনদের জন্য অন্তহীন অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ। কেউ অলৌকিক কোনো কিছুর প্রত্যাশায়, কেউ শুধু প্রিয়জনকে কবর দেওয়ার সুযোগের আশায়।
৫৮ বছর বয়সী রিনেরি পেরেইরা সেই রাতের কথা মনে করতে পারেন এখনো। ‘আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ভয়াবহ কয়েকটি সেকেন্ড ছিল ওগুলো। চোখের সামনে একের পর এক ভবন ভেঙে পড়তে দেখছিলাম। এত শব্দ আগে কখনো শুনিনি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ফোন তুললেই পরিচিত কারও মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। মনে হচ্ছে একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছি, যার শেষ নেই। কোথায় যাব, কী করব—কিছুই জানি না।’
হাজার হাজার মানুষ এখন বাস করছেন পার্কে, খোলা মাঠে। তাঁবু খাটিয়ে, আকাশের নিচে। ৪৯ বছর বয়সী রাস্তার খাবার বিক্রেতা ফ্রান্সিস আলেকজান্ডার গোমেজ ছেলেকে নিয়ে এখন কারাকাসের একটি পার্কে থাকছেন। ভূমিকম্পের সময় বাইরে হাঁটতে গিয়েছিলেন তিনি, তাই বেঁচে গেছেন। ‘পুরো বিল্ডিং ধসে গেল। পরের দিন একটা পরিত্যক্ত গাড়িতে রাত কাটালাম। তারপর হেঁটে হেঁটে এখানে এলাম। এখানে কাপড় দিয়েছে, খাবার দিয়েছে, তাঁবু দিয়েছে।’
৩০ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া রোবাইনা সমুদ্রসৈকতে ছিলেন ভূমিকম্পের মুহূর্তে। পাশের সব ভবন ধসে পড়তে দেখেছেন। এখন রাতে ঘুমাতে পারেন না ছেলের জন্য। ‘ও সেই রাতটা ভুলতে পারছে না। মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে পড়ে—দুঃস্বপ্ন দেখে। আমাকে শান্ত করতে হয়।’ লা গুইরায় আর ফিরতে পারছেন না তাঁরা—পানি নেই, বিদ্যুৎ সবে এসেছে, আর সর্বত্র মৃত্যুর গন্ধ।
কারাকাসের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী হেয়ারড্রেসার লুজমিদলা আরেচেদেরা ভূমিকম্পের সময় মায়ের বাড়িতে ছিলেন। প্রাণে বেঁচে গেছেন, বাড়ি ফিরে দেখেন, তাঁর কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। লুজমিদলার কণ্ঠে ক্ষোভ, 'সরকারের কেউ কখনো আসেনি। কোনো দিনও না।'
সরকারি সাহায্যের প্রশ্নে প্রায় সবার একই অভিযোগ। রিনেরি বলেন, ‘যা সাহায্য পেয়েছি সব স্বেচ্ছাসেবকরা দিয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়েছে, বিদেশি দূতাবাস দিয়েছে। সরকারকে কোথাও দেখিনি।’ গোমেজও একই কথা বললেন, ‘বিদেশি নেতারা সাহায্য করছেন। কিন্তু এই সরকার? না। এটা দুর্নীতি- সব নিজেদের পকেটে পুরছে।’
অবশ্য আলজাজিরার কাছে এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার দ্রুত সাড়া দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার চিকিৎসাসেবায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। একজন প্যারামেডিক জানান, ‘ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের অবস্থা ভূমিকম্পের পর আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ওষুধের সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।’
ধ্বংসস্তূপে এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা হাতুড়ি, কোদাল নিয়ে দিন-রাত কাজ করছেন। জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। কিন্তু দায়লিন এখনো প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, স্বামীর অপেক্ষায়। হয়তো সেই অপেক্ষার শেষ নেই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

দায়লিন আলিয়াস। শিক্ষক স্বামীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন ২৪ জুলাই। রাত তখন ৪টা ৫৭। এরপর আর তাঁকে পাননি ৩৬ বছর বয়সী দায়লিন। এখন লা গুইরার রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি দেখেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নিজেদের বাড়ি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বামী সেই রাতে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরেছিলেন কিনা, জানেন না দায়লিন। স্বামীর স্মৃতিচারণে কাঁদতে থাকেন তিনি। আল-জাজিরাকে দায়লিন বলেন, ‘কল দিলে একটি ক্লাস আছে, একটু পরে ফোন করব জানান। তারপর থেকে আর কোনো খবর মিলছে না। আমি এখনো তাঁকে খুঁজে পাইনি।’
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। গত ২৪ জুন এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। শনিবার (৪ জুলাই) পর্যন্ত নিহত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৫ জন। এখনো নিখোঁজ প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ জন। মরদেহ সংরক্ষণের জন্য সরকার ১০ হাজার ব্যাগ সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় শহর লা গুইরা। শহরটিতে একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ক্যারিবিয়ান বাতাসে ভেসে আসছে পচা গন্ধ। এরই মধ্যে রাস্তায় স্বজনদের জন্য অন্তহীন অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ। কেউ অলৌকিক কোনো কিছুর প্রত্যাশায়, কেউ শুধু প্রিয়জনকে কবর দেওয়ার সুযোগের আশায়।
৫৮ বছর বয়সী রিনেরি পেরেইরা সেই রাতের কথা মনে করতে পারেন এখনো। ‘আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ভয়াবহ কয়েকটি সেকেন্ড ছিল ওগুলো। চোখের সামনে একের পর এক ভবন ভেঙে পড়তে দেখছিলাম। এত শব্দ আগে কখনো শুনিনি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ফোন তুললেই পরিচিত কারও মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। মনে হচ্ছে একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছি, যার শেষ নেই। কোথায় যাব, কী করব—কিছুই জানি না।’
হাজার হাজার মানুষ এখন বাস করছেন পার্কে, খোলা মাঠে। তাঁবু খাটিয়ে, আকাশের নিচে। ৪৯ বছর বয়সী রাস্তার খাবার বিক্রেতা ফ্রান্সিস আলেকজান্ডার গোমেজ ছেলেকে নিয়ে এখন কারাকাসের একটি পার্কে থাকছেন। ভূমিকম্পের সময় বাইরে হাঁটতে গিয়েছিলেন তিনি, তাই বেঁচে গেছেন। ‘পুরো বিল্ডিং ধসে গেল। পরের দিন একটা পরিত্যক্ত গাড়িতে রাত কাটালাম। তারপর হেঁটে হেঁটে এখানে এলাম। এখানে কাপড় দিয়েছে, খাবার দিয়েছে, তাঁবু দিয়েছে।’
৩০ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া রোবাইনা সমুদ্রসৈকতে ছিলেন ভূমিকম্পের মুহূর্তে। পাশের সব ভবন ধসে পড়তে দেখেছেন। এখন রাতে ঘুমাতে পারেন না ছেলের জন্য। ‘ও সেই রাতটা ভুলতে পারছে না। মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে পড়ে—দুঃস্বপ্ন দেখে। আমাকে শান্ত করতে হয়।’ লা গুইরায় আর ফিরতে পারছেন না তাঁরা—পানি নেই, বিদ্যুৎ সবে এসেছে, আর সর্বত্র মৃত্যুর গন্ধ।
কারাকাসের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী হেয়ারড্রেসার লুজমিদলা আরেচেদেরা ভূমিকম্পের সময় মায়ের বাড়িতে ছিলেন। প্রাণে বেঁচে গেছেন, বাড়ি ফিরে দেখেন, তাঁর কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। লুজমিদলার কণ্ঠে ক্ষোভ, 'সরকারের কেউ কখনো আসেনি। কোনো দিনও না।'
সরকারি সাহায্যের প্রশ্নে প্রায় সবার একই অভিযোগ। রিনেরি বলেন, ‘যা সাহায্য পেয়েছি সব স্বেচ্ছাসেবকরা দিয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়েছে, বিদেশি দূতাবাস দিয়েছে। সরকারকে কোথাও দেখিনি।’ গোমেজও একই কথা বললেন, ‘বিদেশি নেতারা সাহায্য করছেন। কিন্তু এই সরকার? না। এটা দুর্নীতি- সব নিজেদের পকেটে পুরছে।’
অবশ্য আলজাজিরার কাছে এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার দ্রুত সাড়া দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার চিকিৎসাসেবায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। একজন প্যারামেডিক জানান, ‘ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের অবস্থা ভূমিকম্পের পর আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ওষুধের সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।’
ধ্বংসস্তূপে এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা হাতুড়ি, কোদাল নিয়ে দিন-রাত কাজ করছেন। জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। কিন্তু দায়লিন এখনো প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, স্বামীর অপেক্ষায়। হয়তো সেই অপেক্ষার শেষ নেই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
.png)

টানা ছয় দিনের বিক্ষোভের মুখে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মেজর জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতি। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ভিড় দেখা গেছে। অনশনরত সোনম ওয়াংচুক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, লন্ডন এবং ডাবলিনেও বিক্ষোভ হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকির মুখে চীন ও ভারতগামী সৌদি আরবের দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার লোহিত সাগরে পথ পরিবর্তন করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে কংগ্রেসের কাছে জরুরি তহবিল চেয়েছে পেন্টাগন।
৫ ঘণ্টা আগে