মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন

সেউতায় অভিবাসীর ঢল: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে স্পেনে বিতর্ক

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৪৮
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশ করেন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এ সংকটের পেছনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্পেনের কয়েকজন রাজনীতিক ও বিশ্লেষক।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননের এক বার্তাকে কেন্দ্র করে। তিনি লেখেন, অভিবাসন সংকটের কারণে সেউতায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্পেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্যদের সমালোচনা করার আগে আফ্রিকায় স্পেন কেন এখনো ঔপনিবেশিক ছিটমহল ধরে রেখেছে।

ড্যাননের ওই বার্তা শেয়ার করে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে মন্তব্য করেন, 'এখন মনে হচ্ছে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।' তার এই মন্তব্যের পরই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

স্পেনের বামপন্থী দল রিপাবলিকান লেফট অব কাতালোনিয়ার সংসদীয় মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল রুফিয়ান দাবি করেন, এই সংকট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।

স্প্যানিশ সাংবাদিক হোসে ভিজনের ২০১৯ সালে ইয়াইর নেতানিয়াহুর দেওয়া একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তার তথ্য সামনে আনেন। সেখানে সেউতায় বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা নিয়ে আলোচনা ছিল। একই অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন স্পেনের অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম।

পর্তুগালের সাবেক মন্ত্রী ও বিশ্লেষক ব্রুনো মাসায়েসের মতে, ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে ঘটনার পর বর্তমান স্প্যানিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারে তারা সক্রিয় ছিল।

সেউতা ও মেলিয়া মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এ দুটি অঞ্চলই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার মধ্যে একমাত্র স্থলসীমান্ত।

স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিশু রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেকেই সাঁতরে বা ভাসমান রিং ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করছেন।

এ ঘটনার পর ফ্রান্স স্পেন সীমান্তে নজরদারি জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার সীমান্তমুক্ত ভ্রমণ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে শনিবার স্পেন জানায়, স্প্যানিশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪৮ হাজার অভিবাসী এরই মধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সংঘাত ও সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টায় অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

কেন হঠাৎ এত বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক বিরোধের সময় প্রায় ৮ হাজার মরক্কান সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। তখন স্পেন অভিযোগ করেছিল, মরক্কো অভিবাসীদের রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে, যদিও মরক্কো তা অস্বীকার করেছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মরক্কোর সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আকারে সীমান্ত পার হওয়া সম্ভব নয়। বার্সেলোনার পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেঞ্জো গ্যাব্রিয়েলি জানান, মরক্কোর ভূমিকা ছাড়া একদিনে এত বিপুল মানুষের সীমান্ত অতিক্রম করা অসম্ভব।

অন্যদিকে স্পেনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত করিমা বেনইয়াইচ দাবি করেছেন, তার দেশ সব সময় বৈধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসনকে সমর্থন করে। সাম্প্রতিক সীমান্ত পারাপার মরক্কো সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেউতার পরিস্থিতিকে 'একটি বিপর্যয়' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা যদি ক্ষমতায় না থাকি, তাহলে আমাদের দেশ আরও বড় মাত্রার অভিবাসনের মুখে পড়বে, যার তুলনায় স্পেনের পরিস্থিতি ছোট মনে হবে।'

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত