গ্যাস খাত থেকে দৃষ্টি সরানো যাবে না

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২২: ১৪
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

চলমান গ্যাস সংকটে এলপিজির দাম বাড়ার খবর হতাশা আরও বাড়াবে। সাধারণত রান্নায় এই গ্যাস ব্যবহৃত। বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। গ্রামেও লাকড়ির বদলে এর ব্যবহার বৃদ্ধি লক্ষণীয়। মাঝে এলপিজির দাম অনেক বাড়ার পর দুই দফায় কমেছিল। যানবাহনেও এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। তাদেরও এখন কিছুটা বেশি দাম দিতে হবে এলপিজির জন্য।

দাম যা-ই হোক, এলপিজির প্রাপ্যতা নিয়ে সংকটের কথা অবশ্য শোনা যাচ্ছে না। যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজি নিয়ে সংকট বরং তীব্র। গ্যাসের কম অংশ সিএনজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর ব্যবহারকারী অনেক। সিএনজিনির্ভর যানবাহন চালিয়ে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর দাম না বাড়লেও অনেক স্টেশনে সিএনজি মিলছে না। চাপের সমস্যায়ও এটা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চালকদের দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে স্টেশনে। সে জন্য বেশি ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও বেড়েছে তাদের মধ্যে। ভালো যে, এ মাসে ডিজেলসহ তরল জ্বালানির দাম বাড়েনি। তাহলে এসব ব্যবহারকারীরও খরচ বেড়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মাঝে এসব জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছিল। তাতে মূল্যস্ফীতিতে এরই মধ্যে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

গ্যাসের বিরাজমান সংকটে হালে নতুন মাত্রা যোগ হয় দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি বিকল হয়ে পড়ায়। সেটির মেরামতেও অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগছে। রান্নাঘর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়ে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা হয় পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না; নয়তো পাচ্ছে না পর্যাপ্ত চাপে গ্যাস। ৫০ শতাংশের মতো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা শিল্পাঞ্চল বাদে সারা দেশের কলকারখানাই গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরাসরি। এই সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিংও বাড়াতে হয়েছে। বেশ কিছু কারখানা একযোগে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতির শিকার বলে সেগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। পলাতক উদ্যোক্তা, খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে শিল্প খাত এমনিতেই ছিল সংকটে। তার মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত গ্যাস না পেলে কী পরিস্থিতি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। কারখানা বন্ধ কিংবা কম ক্ষমতায় উৎপাদন বজায় রাখার খবর মিলছে বেশি করে। বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন বহাল রাখা আবার অধিক ব্যয়সাপেক্ষ। এ অবস্থায় শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। কর্মসংস্থান পরিস্থিতি যখন আগে থেকে খারাপ, তখন গ্যাস সংকটে মানুষ কাজ হারালে তাতে জনঅসন্তোষ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাটাও অমূলক নয়।

গ্যাসের সরবরাহ না বাড়লে সরকার নতুন শিল্পে সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সংযোগ যাদের রয়েছে, গ্যাস পাওয়াটা তাদের ন্যূনতম অধিকার। গ্যাসের দাম বিগত আওয়ামী শাসনামলে অনেক বাড়ানোও হয়েছিল, বিশেষত শিল্পে। প্রতিশ্রুতি ছিল নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের। এখন দেখা যাচ্ছে, চাহিদার চেয়ে অনেক কম গ্যাসও সন্তোষজনকভাবে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আমদানিকৃত এলএনজি-নির্ভরতায় এর সরবরাহটাও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তার কথা। এটা প্রয়োজন মূলত উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে। বিদ্যুৎ আর সার উৎপাদনেও আমরা অনেকখানি গ্যাসনির্ভর। এই সংকটে রপ্তানিমুখী পোশাক ও বস্ত্র খাত কী পরিস্থিতিতে আছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন রয়েছে স্ট্রিমে। এ অবস্থায় গ্যাস খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করার পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে। স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে কেউ আর আশ্বস্ত হবে না। সেটা জরুরি হলেও মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত এর বাস্তবায়নে যাওয়াটা এখনকার অগ্রাধিকার। এ জন্য বর্তমান সরকারের গোটা মেয়াদেই গ্যাস খাত থেকে দৃষ্টি সরানো যাবে না।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত