ইরানে ফের হামলা হলে ‘আরও কঠিন জবাব’: গালিবাফ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ২২
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর ফের হামলা হলে দ্রুত, কঠোর এবং আরও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ‘নিয়ম বদলে গেছে’। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই বুঝতে হবে।

গালিবাফ বলেন, ‘এখন থেকে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জবাব হবে আরও দ্রুত, আরও কঠোর ও আরও বেদনাদায়ক।’

শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়।

আগস্টের বড় একটি সময় সামরিক সংঘাত বন্ধ থাকার পর দুই দেশের মধ্যে ফের পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর কূটনৈতিকভাবেও শান্তিপ্রক্রিয়া এগোয়নি।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেল রপ্তানিতে অবরোধের কারণে চাপে থাকা অর্থনীতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ‘ইকোনমিক ওয়ার হেডকোয়ার্টার্স’-এর কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম।

গালিবাফ বলেন, সামরিক ফ্রন্টের পাশাপাশি ইরানের প্রধান লড়াই এখন উৎপাদন ও মানুষের জীবিকা নিয়ে। মুদ্রার দরপতন, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ইরানের মানুষ কষ্ট সহ্য করতে পারে, কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও নিষ্ক্রিয়তা মেনে নেবে না।

এদিকে একইদিনে অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সংস্কারের মাধ্যমে এগোবে তেহরান। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তার নীতি পরিবর্তন করবে- এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানান, গত কয়েক মাসে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে প্রায় ৫৫০ বার হামলা হয়েছে। তবে উপর্যুপরি হামলার পরও দ্বীপটির কার্যক্রম চালু রয়েছে।

যুদ্ধের আগে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্র ছিল খার্গ দ্বীপ। এপ্রিলের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে অবরোধ আরোপের পর সেখানকার তেল সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহন হচ্ছে।

রোববার তাসনিম নিউজ জানায়, উত্তর ইরাকের এরবিলে একটি মার্কিন নজরদারি বেলুন ভূপাতিত করেছে আইআরজিসি। এটিকে এ অঞ্চলে মার্কিন আকাশ নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ধ্বংসের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরান।

সূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত