শিল্প ও একাডেমিয়ার দূরত্ব কমালে উভয় পক্ষই লাভবান হবে
অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের টেকসই উন্নয়নে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পখাতের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিরহাজুল শিবলী।
স্ট্রিম ডেস্ক

অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের টেকসই উন্নয়নে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পখাতের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিরহাজুল শিবলী।
.png)
স্ট্রিম: বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। তবে সেই উন্নয়নের টেকসইতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সম্পর্ককে আপনি কীভাবে দেখেন?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: আমরা বিভিন্ন সময় বলি যে, দেশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে, অনেকদূর এগিয়ে গেছে বা এধরণের কথা। কিন্তু কোনো দেশই তার শিক্ষাব্যবস্থাকে পিছিয়ে রেখে পৃথিবীতে উন্নত হতে পারেনি। উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়।
আপনি সিঙ্গাপুরের কথা চিন্তা করেন। ছোট্ট একটি দেশ, কিন্তু তারা উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। জাপান, ইউরোপ ও আমেরিকার অভিজ্ঞতাও একই কথা বলে। একটি দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তার শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানচর্চার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশকে যদি উন্নত করতে চাই, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়কে হয়তো একসঙ্গে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে তো শুরু করা যায়। আমি সরকারকে আহ্বান জানাব, অন্তত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি এ ক্ষেত্রে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে, তাহলে এটিকে অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এগিয়ে যেতে পারবে।
এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নীতিগত সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশ কখনো টেকসইভাবে উন্নতির দিকে যেতে পারে না।
স্ট্রিম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার বর্তমান অবস্থাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষা দেওয়া হয়, আমি মনে করি, পৃথিবীর যেকোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এখনো এর একটি মান আছে। আমি বলব না যে আমরা সবার চেয়ে শতভাগ ভালো। কিন্তু আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখছেন, ভালো ফল করছেন এবং সফল হচ্ছেন।
এর অর্থ হলো, আমাদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একাডেমিক প্রশিক্ষণের একটি শক্ত ভিত্তি রয়েছে। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়েও কোনো প্রশ্ন নেই।
তবে গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা এখনো বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। এর একটি কারণ হলো, দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কৃতি ও সুযোগ-সুবিধা আমাদের এখানে পর্যাপ্ত ছিল না। এখন অবশ্য ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। অনেক শিক্ষক গবেষণার দিকে ঝুঁকছেন, নতুন নতুন গবেষণা ও প্রকাশনার সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন সূচকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।
তারপরও আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও অর্থায়নের সুযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়। আমাদের মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের উদ্যোগে, বিদেশি বিভিন্ন তহবিল এবং সীমিত সরকারি অর্থায়নের সমন্বয়ে গবেষণা করছেন।
স্ট্রিম: গবেষণায় বিশ্বমানের অবস্থানে যেতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অর্থায়ন। আমরা যদি গবেষণার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে দেখতে চাই, তাহলে গবেষণা বাজেট বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
তবে শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না। গবেষণাকে একটি সুশৃঙ্খল ও টেকসই ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। আমাদের গবেষণাগারগুলোকে আধুনিক করতে হবে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনা নিতে হবে।
একই সঙ্গে গবেষণাকে বিচ্ছিন্ন বা শুধু প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে হবে না। একটি শক্তিশালী গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষকদের গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিমালাও গবেষণাবান্ধব হতে হবে।
সরকারি অর্থায়ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর পাশাপাশি আমাদের শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা তহবিলের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অনুদান ও সহযোগিতা দেশে আনতে পারলে গবেষণার সুযোগ আরও বাড়বে। অর্থাৎ সরকারি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক তহবিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সক্ষমতা—এই তিন জায়গায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্ট্রিম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে নীতিগতভাবে কী ধরনের পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: প্রথমেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু প্রচলিত কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান করা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করবে, নতুন চিন্তার জন্ম দেবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে। আর নতুন জ্ঞান সৃষ্টির প্রধান মাধ্যম হলো গবেষণা।
সে কারণে গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল অগ্রাধিকারের জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে এবং ধারাবাহিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আমরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আছি। প্রযুক্তির পরিবর্তন খুব দ্রুত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আলোচনা করতে করতেই আমরা পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দিকেও এগোচ্ছি। এই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে নতুন জ্ঞান তৈরি করতে হবে। আর গবেষণা ছাড়া নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।
স্ট্রিম: বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কীভাবে দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারে?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে দূরত্ব কমানো। আমাদের শিল্পখাতের কী ধরনের চাহিদা রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী ধরনের শিক্ষা ও গবেষণা করছি—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা পড়াচ্ছি, শিল্পখাতের প্রয়োজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা—সেটি দেখতে হবে। কিছু বিষয়ে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কারিকুলাম পরিবর্তন হচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এখনো পুরোনো কাঠামো রয়েছে। সব বিষয়ের সঙ্গে শিল্পখাতের সরাসরি সম্পর্ক থাকবে না, সেটিও সত্য। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে সহযোগিতা আরও বাড়ানো দরকার।
পৃথিবীর অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়ই ছয় মাস বা এক বছর শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে তারা বইয়ে শেখা জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে। শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পায়, দক্ষতা অর্জন করে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত জনশক্তি পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগ ও অনুষদে এ ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। তবে এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন কোনো পণ্য বা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা সেখানে ভূমিকা রাখতে পারেন। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় গবেষণার ফল পাওয়া সম্ভব হবে, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
শিল্প ও একাডেমিয়া কাছাকাছি এসে কাজ করলে দুই পক্ষই লাভবান হবে। এ জন্য একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
স্ট্রিম: গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের বাস্তব প্রয়োজনকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: অবশ্যই দেশের প্রয়োজনকে সামনে রেখে গবেষণার ক্ষেত্র নির্ধারণ করতে হবে। কোন খাতে কী ধরনের গবেষণা প্রয়োজন, কোথায় দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আমাদের কী ধরনের প্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রয়োজন হবে—এসব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা দরকার।
শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলেই হবে না। এমন শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যার ফল রাষ্ট্র, অর্থনীতি, শিল্প ও সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা যদি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে গবেষণার ফল বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ, শিল্প কিংবা নতুন অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্র—দেশের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
স্ট্রিম: গবেষণায় বিনিয়োগ করে এগিয়ে যাওয়া দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কী শিখতে পারে?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: আমি চীন ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিতে চাই। প্রায় ২০ বছর আগে গবেষণার ক্ষেত্রে চীন যেখানে ছিল, এখন তারা অনেক দূর এগিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা সম্মেলনে আগে চীনা গবেষকদের যে ধরনের কাজ দেখা যেত, আজকের সঙ্গে তার রাতদিন পার্থক্য।
এর কারণ হলো, চীনা সরকার গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অর্থায়নের সুযোগ দিয়েছে। ফলে তারা আজ নিজেদের দেশেই বিশ্বমানের গবেষণা করতে পারছে।
একসময় চীনা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাপকভাবে বিদেশে যেত। এখন চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে। কারণ, তারা তাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে।
সিঙ্গাপুরও আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ছোট একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেছে। ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানের অভিজ্ঞতাও একই কথা বলে। মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো ছাড়া কোনো দেশ আজকের উন্নত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
স্ট্রিম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভবিষ্যতে আপনি কোথায় দেখতে চান?
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য আছে। কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল পরিচয় হওয়া উচিত শিক্ষা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে।
আমি চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি শক্তিশালী গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠুক। এর জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, শিক্ষকদের গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা তহবিল আকর্ষণের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশকে যদি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই, তাহলে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে—সরকারকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং শিক্ষকদেরও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও শিল্পখাত একসঙ্গে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলেই গবেষণার শক্তিকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
স্ট্রিম: ঢাক স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অধ্যাপক আব্দুস সালাম: আপনাকেও ধন্যবাদ।
.png)
.png)








