পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচনে উপস্থিতি ৮৯ শতাংশ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৫৫
ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন। ছবি: এনডিটিভি

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে গড় ভোটের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে গড় ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ৯৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। এ ছাড়া কোচবিহারে ৯২ দশমিক ০৭ শতাংশ, বীরভূমে ৯১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং জলপাইগুড়িতে ৯১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৯১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ, ঝাড়গ্রামে ৯০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বাঁকুড়ায় ৮৯ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং উত্তর দিনাজপুরে ৮৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, গতবারের তুলনায় এবারের ভোটের হারে এত তফাৎ মূলত নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে ভুয়া ভোটার ঢুকিয়ে নিজেদের পাল্লা ভারী করছে।

রেকর্ড পরিমাণ ভোটার উপস্থিতি নিয়ে চলছে রাজনৈতিক বাদানুবাদ। কৃষ্ণনগরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উচ্চ হারের প্রশংসা করে বিজেপির ভূমিধস জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।’ মোদির মতে, উচ্চ ভোটার হার ও নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, কলকাতার বউবাজারে এক নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, প্রথম দফার ভোট থেকেই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস জেতার মতো অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো পদের জন্য লড়ছি না, দিল্লির ক্ষমতা দখল আমার লক্ষ্য নয়। আমার একমাত্র লক্ষ্য দিল্লির বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো।’

তবে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) বিতর্ক ভোটের দিনও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে । বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান জেলাগুলোতে। যদিও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু

সম্পর্কিত