দুই বছরে বাংলাদেশে ১৬৭৯ জনকে ঠেলে পাঠানো হয়েছে : আসামের মুখ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২: ২৮
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে পুশইন চেষ্টার পর শূন্যরেখায় আটকা কয়েকজন। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে গত দুই বছরে ১ হাজার ৬৭৯ জনকে ‘ঠেলে পাঠানো’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সোমবার (১৩ জুলাই) আসামের বিধানসভায় অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমলের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন তিনি। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর।

বিধানসভায় বদরুদ্দিন আজমল বাংলাদেশে কতজনকে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে আসাম সরকার জানায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এদেরকে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার’ (ডিপোর্টেশন), ‘ফেরত পাঠানো’ (সেন্ট ব্যাক) এবং ‘বহিষ্কার’ (এক্সপেলড)— এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।

বিধানসভা থেকে জানা যায়, এই সময়ে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ১৯৩ জনকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করেছে। এর মধ্যে ৬৭ জনকে ১৯৫০ সালের অভিবাসী বহিষ্কার আইন প্রয়োগ করে সীমান্ত পার করে পাঠানো হয়েছে।

কাকতালীয়ভাবে একই দিন ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ওই আদেশে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ গৌহাটি হাইকোর্টের ২৭টি রায় বাতিল করে দেন। ওইসব রায়ে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একতরফা (এক্স পার্টি) আদেশ বহাল রাখা হয়েছিল, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া অবশ্যই ন্যায্য, আইনসম্মত ও যুক্তিসংগত হতে হবে। আদালত ২৭টি মামলাই নতুন করে শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠান। আর পর্যবেক্ষণে বলেন, নাগরিকত্বের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়।

আইন অনুযায়ী, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ঘোষিত বিদেশিরা গৌহাটি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্য দেশের নাগরিক হিসেবে পারস্পরিক যাচাইয়ের পর সেই দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে আসাম সরকার ‘পুশ ইন’ নীতি অনুসরণ করছে। এর আওতায় ‘বিদেশি’ ঘোষিতদের বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট, ১৯৫০ পুনরায় ব্যবহার করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করে। ওই আইনের আওতায় একাধিক ক্ষেত্রে ঘোষিত বিদেশিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ তাঁদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে দেয়।

আসাম সরকারের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ‘এক্সপালশন’ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে পাঠানো ৬৭ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মধ্য আসামের নগাঁও জেলার। পশ্চিম আসামের কোকরাঝাড় জেলার ১৬ জন, বরপেটা জেলার ৭ জন, চিরাং ও মধ্য আসামের কার্বি আংলং জেলার ৪ জন করে রয়েছেন।

এ ছাড়া দিমা হাসাও ও হোজাই জেলার ৩ জন করে, কামরূপ (গ্রামীণ) ও ধুবড়ি জেলার ২ জন করে এবং বঙ্গাইগাঁও, তামুলপুর, উদালগুড়ি, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, লখিমপুর ও হাইলাকান্দি জেলার একজন করে রয়েছেন।

অন্য ১২৬ জন ঘোষিত বিদেশিকে ‘রিপ্যাট্রিয়েটেড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের ‘সেন্ট ব্যাক’ বা ফিরিয়ে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজমল আরও জানতে চান, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। জবাবে সরকার জানায়, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কোনো আপিল বিচারাধীন থাকলে কোনো চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীকে প্রত্যাবাসন করা হয় না। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই।

Ad 300x250

সম্পর্কিত