সংঘাত বন্ধে স্বাধীনতাকামী কুর্দিদের জন্য নতুন আইন তুরস্কের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৩২
২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর উত্তর ইরাকের কান্দিল অঞ্চলে একটি অনুষ্ঠানে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যোদ্ধারা। ছবি: সংগৃহীত

দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত বন্ধে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বিলুপ্তির আইনি কাঠামো তৈরি করে একটি আইন পাস করেছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। সোমবার (১০ আগস্ট) ৬০০ আসনের পার্লামেন্টে ৪৬৮ ভোটে আইনটি পাস হয়। খবর আলজাজিরার

আইনটি পিকেকের সাবেক অনেক সদস্যকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নির্দিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা এ সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া পিকেকে সদস্য হওয়ার দায়ে কারাদণ্ড পাওয়া কিছু ব্যক্তির সাজা স্থগিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে তাদের সমাজে পুনর্বাসনের পথ তৈরি হবে।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি, তাদের জাতীয়তাবাদী মিত্র ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) এবং কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টির সমর্থনে আইনটি পাস হয়।

কারাবন্দী পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওজালান ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনটির অস্ত্র সমর্পণ করেন এবং বিলুপ্তির আহ্বান জানান। এর তিন মাস পর পিকেকে জানায়, তারা সংগঠনটি ভেঙে দেবে। এরপর গত বছরের জুলাইয়ে উত্তর ইরাকে এক অনুষ্ঠানে পিকেকের একদল যোদ্ধা প্রতীকীভাবে তাঁদের অস্ত্র পুড়িয়ে দেয়।

তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে থাকা পিকেকে ১৯৮৪ সালে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। দীর্ঘ এই সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সংঘাতের কারণে তুরস্কের প্রধানত কুর্দি-অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনও গভীর হয়েছে।

পিকেকে বিলুপ্তির পর সংগঠনটির হাজার হাজার সদস্যের কী হবে— শান্তি প্রক্রিয়ায় এটিই ছিল অন্যতম বড় প্রশ্ন। নতুন আইনটি মূলত নিরস্ত্রীকরণ ও পিকেকের সদস্যদের সমাজে পুনর্বাসনে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে করা হয়েছে।

শান্তি প্রক্রিয়ার বর্তমান ধাপটি প্রকাশ্যে শুরু হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ওই সময় এমএইচপি নেতা দেভলেত বাহচেলি অপ্রত্যাশিতভাবে প্রস্তাব দেন, ওজালান পার্লামেন্টে বক্তব্য দিয়ে পিকেকে বিলুপ্তির ঘোষণা দিতে পারেন। বাহচেলি দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত।

এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে তুরস্কের পার্লামেন্ট একটি কমিশন গঠন করে। কমিশনটি রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও অন্যদের বক্তব্য নেয়। পরে তারা পিকেকের নিরস্ত্রীকরণ ও সদস্যদের সমাজে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া পরিচালনায় আইন প্রণয়নের সুপারিশ করে।

তবে নতুন আইনটি কুর্দিদের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করছে না।

তুরস্কের সরকার এই উদ্যোগকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক’ গড়ার লক্ষ্যের অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে কুর্দি রাজনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে আরও বিস্তৃত গণতান্ত্রিক ও আইনি সংস্কার প্রয়োজন।

১৯৭৮ সালে আবদুল্লাহ ওকালানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে। শুরুতে এটি ছিল একটি কট্টর মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী সংগঠন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার কুর্দি-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো নিয়ে একটি স্বাধীন, সমাজতান্ত্রিক ‘কুর্দিস্তান’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

১৯৯৯ সালে ওকালান গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠনটি পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি থেকে সরে এসে তুরস্কের অধীনেই কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক অধিকারের দাবি তুলতে শুরু করে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত