সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরানের হামলায় মার্কিন ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ বিমান ধ্বংস, নজরদারি ব্যবস্থায় বড় আঘাত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটির রানওয়েতে পড়ে আছে মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমানের ধ্বংসাবশেষ। সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে দূর থেকে ইরানি হুমকি শনাক্ত করার মার্কিন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। সিএনএন-এর জিওলোকেশন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া বিমানটির লেজ ভেঙে গেছে এবং এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাডার ডোমটি মাটিতে পড়ে আছে।

সাবেক মার্কিন কর্নেল সেড্রিক লেইটন এই ঘটনাকে আমেরিকার নজরদারি ব্যবস্থার জন্য এক ‘গুরুতর আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এর ফলে যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাবে।

উল্লেখ্য, এই এওয়াক্স বিমানটি আকাশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে এই হামলার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং একটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১১ মার্চ ২০২৬ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান দেখা যাচ্ছে। ছবি: এয়ারবাস
১১ মার্চ ২০২৬ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান দেখা যাচ্ছে। ছবি: এয়ারবাস

ই-৩ সেন্ট্রি বিমানটি একই সঙ্গে ৬০০টি লক্ষ্যবস্তু (ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা ট্যাংক) ট্র্যাক করতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য পেন্টাগন বা রণতরীতে পাঠাতে সক্ষম। গ্রিফিথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো পিটার লেইটনের মতে, এটি ২০০ মাইল দূর থেকে আসা ইরানি শাহেদ ড্রোনকে গ্রাউন্ড রাডারের চেয়ে অন্তত ৮৫ মিনিট আগেই শনাক্ত করতে পারে। সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি এই বিমানটিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ‘কোয়ার্টারব্যাক’ বা মূল পরিচালক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিশ্লেষকরা এই নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাধারণত এই বিমানকে সুরক্ষার জন্য যুদ্ধবিমান পাহারা দেয়। মাটিতে বিমানটি ধ্বংস হওয়াকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সেড্রিক লেইটন। তিনি ধারণা করছেন, ইরান সম্ভবত রাশিয়ার স্যাটেলাইট ইমেজ ও ভৌগোলিক স্থানাঙ্কের সহায়তায় এই নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। স্টিমসন সেন্টারের ফেলো কেলি গ্রিকো মনে করেন, ইরান কৌশলী হয়ে মার্কিন রাডার, ট্যাঙ্কার ও এওয়াক্স-এর মতো উচ্চমূল্যের সম্পদগুলোকে লক্ষ্য বানাচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৭টি ই-৩ বিমান অবশিষ্ট রয়েছে, যা ২০১৫ সালেও ছিল ৩২টি। ১৯৭৮ সালে প্রথম যুক্ত হওয়া এই বিমানগুলোর একেকটির বর্তমান দাম প্রায় ৫৪০ মিলিয়ন ডলার। বিকল্প হিসেবে নৌবাহিনীর ‘ই-২ হকআই’ থাকলেও তা উচ্চতা এবং সক্ষমতার দিক থেকে ই-৩ সেন্ট্রির সমান নয়।

সম্পর্কিত