৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ০৯: ১৭
রাস্তার পাশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনির ছবিযুক্ত একটি বিলবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার পথও খুলতে পারে এই সমঝোতা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন প্রয়োজন। খবর আল জাজিরা

বৃহস্পতিবার আল জাজিরাকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে অচল থাকা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এই সমঝোতা বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ৬০ দিনের এই সময়সীমা আলোচনার শেষ সময় কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

এর আগে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। বৃহস্পতিবারও উভয় পক্ষ সীমিত আকারে হামলা চালায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই সমঝোতার খবর প্রকাশ করে। পরে হোয়াইট হাউসও আল জাজিরার কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তেহরানের দাবি, ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে হওয়ায় এই প্রণালি যৌথভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা জাহাজ থেকে টোল আদায়ের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ওমানকে সতর্ক করে বলেন, যদি দেশটি হরমুজ প্রণালিতে ফি আরোপে সহায়তা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে।

তবে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই সমঝোতার খবর অস্বীকার করেছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবে। এর আগে পশ্চিমা গণমাধ্যমের কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

চুক্তির খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতির কথাও রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও তেহরান দাবি করেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। যুদ্ধের শুরুতে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফতোয়া দিয়েছিলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার আবারও বলেন, ইরাস পারমাণবিক অস্ত্রের পথে হাঁটছে না। আমরা অপমানজনক কূটনীতিতে বিশ্বাস করি না।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ইস্যুতে সমাধান এলেও নিষেধাজ্ঞা, ইউরেনিয়াম মজুত ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো বড় বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

একই সময়ে লেবানন পরিস্থিতিও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিন সপ্তাহ পর আবারও বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটি রাজধানীটিতে দ্বিতীয় হামলা।

ইরান আগেই জানিয়েছিল, যেকোনো যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। অন্যদিকে, লেবানন সরকারও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত