জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

আলটিমেটামের সময় বাড়ালেন ট্রাম্প, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার ইঙ্গিত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৮: ১৭
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা থেকে সরে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এর কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ট্রাম্প এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে হরমুজ প্রণালি নিরাপদে খুলে দিতে বলেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দেন তিনি। তাঁর এই আলটিমেটাম কার্যত বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। এখন তিনি বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার যে হুঁশিয়ারি ছিল তা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে দুই দেশের মধ্যে ‘খুব ভালো ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পুরোপুরি সমাধানের লক্ষ্যে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সপ্তাহজুড়ে সংলাপ চলবে।

তিনি আরও জানান, আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত চলমান আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে, ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। তারা সতর্ক করে বলে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও তেল স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয় তারা। প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার এই উদ্যোগ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তবে সংঘাত কমবে নাকি আবারও নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে—তা নির্ভর করছে এই সংলাপের অগ্রগতির ওপর।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একদিকে সামরিক হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি সমান্তরাল চিত্র তুলে ধরছে।

অন্যদিকে, হামলা স্থগিতের ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। ঘোষণার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার থেকে প্রায় ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১০০ ডলার থেকে ৮৫.২৮ ডলারে নেমেছে।

তবে নাম প্রকাশ না করা ইরান সরকারের এক সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বা হচ্ছে না।

সূত্র: আল জাজিরা

সম্পর্কিত