দুই ছেলের অভিযোগ /‘সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত আক্রোশে ইমরান খানকে তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছে’
স্ট্রিম ডেস্ক

ইমরান খানের ছেলেরা পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ওপর ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ মেটানোর অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি তাদের বাবাকে কারাগারের ভেতর তিলে তিলে ‘হত্যা’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের কাছে এমন অভিযোগ তুলে ধরেছেন ইমরান-জেমিমা গোল্ডস্মিথের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান।
২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতির অভিযোগে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ইমরান খান। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো নেই বলে দাবি করে আসছেন ইমরানের স্বজনরা। এই দাবিতে তাঁর মুক্তি চেয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার কাসিম ও সুলাইমান।
তারা অভিযোগ করেছেন, ছয় মাস হয়ে গেছে তাদেরকে ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমনকি যুক্তরাজ্য থেকে তাদেরকে পাকিস্তানেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটিকে সুলাইমান খান বলেন, ‘তাঁর একচোখে সমস্যা আছে, কয়েক মাস ধরে কোনো চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। সম্ভবত তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন।’
ইমরানের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাই, নিশ্চিত হতে চাই তিনি ভালো আছেন কিনা, আর কিছুই চাইনা।’
ইমরানের ছেলেরা মনে করেন, তাদের বাবার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ আছে।

২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই প্রধানের দায়িত্ব পান আসিম মুনির। কিন্তু মাত্র ৮ মাসের মাথায় ২০১৯ সালের জুনে তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাকে বরখাস্ত করেন। তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ জেনারেল ফয়েজ হামিদকে আইএসআই প্রধান করেন ইমরান।
২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর নতুন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এরপর ইমরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে।
সুলাইমান বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আসিম মুনিরের নির্দেশেই এসব করা হচ্ছে। গত এক বছরে মুনিরের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। ট্রাম্প তাকে “আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল” বলে আখ্যায়িত করেছেন।’
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই ইনসাফ-পাকিস্তান (পিটিআই) প্রতিষ্ঠা করে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইমরান এখন বন্দি ৬ ফুট বাই ৮ ফুটের নির্জন কারাকক্ষে।
স্বজন ও পিটিআইয়ের অব্যাহত দাবির মুখে, ইমরানের চিকিৎসা ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে একটি আদেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।
আদেশে ইমরান খানকে কারাগার থেকে বেসরকারি 'শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে' স্থানান্তরিত করে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড ও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা করাতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ দিতেও বলা হয়েছিল।
কিন্তু এই আদেশ না মেনে ইমরানকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তাকে কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং কারাগারে ফেরত পাঠানোর মতো সুস্থ ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনা তাঁর পরিবার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ইমরানের আরেক ছেলে কাসিম বলেন, ‘একজন নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে আমাদের বাবার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের বিশ্বাস, তারা কারাগারের ভেতরে তাকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আসল ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রতিশোধের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যে।’
এদিকে আদালতের আদেশ না মানায় ইমরানের বোন উজমা খান এবং তাঁর দল পিটিআই-এর আইনজীবীরা সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন। বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করবে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
.png)






