তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, আবেদন শুরু ১৬ সেপ্টেম্বর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের 'উদ্যোগ' কর্মসূচি
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের 'উদ্যোগ' কর্মসূচি

উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচিত উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন। এর মধ্যে কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলার ৬৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। জেলাগুলো হলো মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা।

অর্থায়ন পেতে আগ্রহী তরুণরা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করা যাবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে 'উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি' নামে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করা হয়।

যারা আবেদন করতে পারবেন

নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি তাঁর নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন ব্যবসা স্থাপনের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।

তবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে এবং ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ কর্মসূচির অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবেন না। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও এ অর্থায়নের জন্য যোগ্য হবেন না।

যেভাবে অর্থায়ন হবে

নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিং’ (মিশ্র অর্থায়ন) দেওয়া হবে। এই অর্থায়নের ৫০ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা) দেওয়া হবে ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা) দেওয়া হবে ম্যাচিং গ্র্যান্ট বা অনুদান হিসেবে।

অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যাবে। ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঋণ ও অনুদানের অর্থ একই সময়ে এককালীনভাবে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। নগদ অর্থ দেওয়া হবে না। ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা প্রাপ্ত তহবিলের অপব্যবহার করা হলে অনুদানের অংশটিও সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা আদায় করা হবে।

অর্থায়নের চেয়েও বাড়তি কিছু

অর্থায়নের পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের আর্থিক বিষয়াবলীর প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞদের পরামর্শ, বাজার সংযোগ সুবিধা এবং ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ধরনের তদবির করা হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা অন্যের ব্যবসায়িক ধারণা নিজের নামে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পূরণ করা ফরম সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দেওয়া যাবে। আবেদনকারীর ওই ব্যাংকে আগে থেকে হিসাব (অ্যাকাউন্ট) থাকা বাধ্যতামূলক নয়। এ ছাড়া আবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো ফি বা খরচ দিতে হবে না।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত