গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, শিল্প কারখানায় স্বস্তির আশা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৩৩
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ হয়েছে ২৬২ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটে। এতে শিল্প কারখানায় স্বস্তির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, রাত ৮টায় মোট সরবরাহের মধ্যে দেশীয় কূপগুলো থেকে আসে ১৬০ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। আর আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহ করা হয় ১০১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট।

নতুন এলএনজি কার্গো খালাসের পর সোমবার রাত থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। সোমবার রাত ১০টায় মোট সরবরাহ ছিল ২৫৮ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট; এরমধ্যে দেশীয় ১৬০ কোটি ২০ লাখ ও এলএনজি ৯৮ কোটি ঘনফুট। মঙ্গলবার দুপুর থেকে তা আরও বাড়ে।

বেলা ১২টায় ২৬১ কোটি ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ হয়। অথচ, সোমবার বিকেল ৪টায় সরবরাহ ছিল দৈনিক ২৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ঘনফুট।

সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে কিছু এলাকায় শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে সারা দেশেই শিল্প কারখানায় গ্যাসের চাপ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে সরবরাহ ২৬২ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলেও এখনো দৈনিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ১১৮ কোটি ঘনফুট। এ কারণে বিদ্যমান সংকট এখনই পুরোপুরি কাটছে না।

গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গিয়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়। মেরামতের পর ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি প্রস্তুত হলেও পর্যাপ্ত কার্গো না থাকায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না।

বর্তমানে সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো কোম্পানির একটি কার্গো এক্সিলারেটের টার্মিনালে যুক্ত হওয়ায় সেখান থেকেও সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে দুটি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

এর আগে সোমবার ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আশা প্রকাশ করেন যে, শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ মঙ্গলবার থেকে দেড়-দুই মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন স্ট্রিমকে বলেন, যে লক্ষণ দেখছি, তাতে আশা করছি আজ (মঙ্গলবার) রাত থেকে গ্যাসের চাপ আশাব্যঞ্জক হবে।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ফ্যাক্টরিগুলোতে অলরেডি গ্যাসের প্রেসার বেড়েছে বলে জেনেছি। চট্টগ্রামে সঙ্গে সঙ্গেই গ্যাসের চাপ পাওয়া যায়, কিন্তু ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সেটা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। এখানে এক-দুই দিন সময় লাগে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে স্বাভাবিকভাবে কারখানা পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, তার তুলনায় বর্তমানে চাপ কম। আশা করছি যে কালকে রাতের মধ্যে আমাদের এখানেও গ্যাসের প্রেসার বাড়বে।’

ফতুল্লা বিসিকের ফেয়ার অ্যাপারেলসের ডাইংয়ের জিএম মো. মাসুম বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। স্বাভাবিক সময় পেতাম ৮ থেকে ৯ পিএস। তবে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলের পর থেকে গ্যাসের চাপ ২-১ করে বাড়ছে।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনে ইতোমধ্যে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ অনেক বেড়েছে। তবে দীর্ঘ সময় কম চাপ থাকার কারণে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। আজ (মঙ্গলবার) রাত অথবা আগামীকাল ভোরের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের সঠিক চিত্র আগামীকাল (বুধবার) সকালে শিল্প মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো দেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে আরামকোর দুটি এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে মোট চারটি কার্গো ইতিমধ্যে দেশে এসে সরবরাহ শুরু করেছে।

বাকি পাঁচটি কার্গোর মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গো আসার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া আগামী অক্টোবরের জন্য ইতোমধ্যে ৬টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৫টি কার্গো আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত