ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড

‘মবের শিকার’ দাবি তুলে অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ছাত্রলীগ নেত্রীর, নাকচ করলেন শিক্ষক-সহপাঠী

তাঁকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি—এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও সহপাঠীরা। তিনি কানাডায় বসে বিশেষ ব্যবস্থায় অনলাইনে পরীক্ষা দিয়েছেন।

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ১৫
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

‘মবের শিকার’ হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন তাহসিন জাহান। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক। তবে এই নেত্রীর অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

বিভাগের চেয়ারপারসন জানিয়েছেন, ভাইভার সময় তাহসিন দেশেই ছিলেন না। তিনি কানাডায় বসে বিশেষ ব্যবস্থায় অনলাইনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

গতকাল সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন তাহসিন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্যাম্পাসে তিনি মব আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। তাঁকে চূড়ান্ত ভাইভায় অংশ নিতে এবং থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়। শারীরিক নিরাপত্তার কারণে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মৌলবাদী মব’কে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তিনি আরও লেখেন, তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ অনেক নিরপরাধ মানুষের রক্তের দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রয়েছে।

‘মবের প্রমাণ নেই, তিনি ছিলেন কানাডায়’

তাহসিনের এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকেরা। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাঈম সুলতানা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের বিভাগে কোনো ধরনের মবের ঘটনা ঘটেনি। তিনি কানাডা থেকে আবেদন করেছিলেন যে পরীক্ষা দিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবু আমরা উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিশেষ অনুমতি নিয়ে তাঁকে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিই।’

চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেনই না, বিভাগ থেকে তাঁকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়েছে।’

গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার কারণে সংগঠনটির নেতাদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরে তাহসিনের সহপাঠীরা তাঁকে সামাজিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।

তাহসিনের অন্তত দুজন সহপাঠী ফেসবুকে লিখেছেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী নেত্রী হওয়ায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে একই বোর্ডে ভাইভা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাঁর পরীক্ষা আলাদাভাবে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাহসিন সপরিবার কানাডায় চলে যান। সেখানে তাঁকে কেউ শারীরিকভাবে হেনস্তা বা মব করেনি।

পদ্ম আলম নামে তাঁর এক সহপাঠী ফেসবুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে ঠিক কী মব তৈরি করেছি? কোথায়? কখন? আমি এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চাই।’

ক্যাথলিন ধর নামের আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘তাহসিন যে মবের কথা বলছেন তা কখনোই ঘটেনি, কারণ তিনি তখন কানাডায় ছিলেন।’

সিআরআইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা

জানা গেছে, ছাত্রলীগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রিসার্চ উইং ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের’ (সিআরআই) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাহসিন।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও সিআরআইয়ের কনসালটেন্ট শাহ আলী ফরহাদের পলিসি ব্লগ ‘দ্য কনফ্লুয়েন্সের’ সহপ্রতিষ্ঠাতা। নিজের ওয়েবসাইটে তাহসিন নিজেকে সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ‘ছাত্র-রাজনীতিবিদ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

এ ছাড়া ২০২৩ সালে সিআরআই আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানেও সামনের সারিতে থেকে শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করেছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এই নেত্রী।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত