আজাদ কাশ্মীরে ইন্টারনেট নেই ১০০ দিনের বেশি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৫
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিমালয়ের কাশ্মীর। ছবি: সংগৃহীত
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিমালয়ের কাশ্মীর। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরে ১০০ দিনের বেশি ইন্টারনেট সেবা সীমিত রয়েছে। জুনের শুরুতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নতুন সরকার গঠন হলেও এখনো ইন্টারনেট পুরোপুরি চালু হয়নি। খবর আল-জাজিরার।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি ব্যবসা ও শিক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে সরকার।

ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ৫ জুন থেকে সেখানে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

যেভাবে বিক্ষোভ শুরু

গত ২৭ জুলাই আজাদ কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনকে সামনে রেখে জুনের শুরুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ৫ জুন দেশটির জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি) সংগঠন নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠনটি আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।

এরপর ৫ জুন ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু হয়। ২৭ জুলাই তা প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭ সদস্য রয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত কারণে বিক্ষোভপ্রবণ কয়েকটি এলাকায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের অন্য এলাকাগুলোর নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে পরে সরকার গঠন করা হয়।

কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। দুই দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবি করে। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। সেখানে নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী ও ৪৫ সদস্যের আইনসভা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি আসন পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত