গাজার ধংসস্তুপ গুঁড়িয়ে সমান করছে ইসরায়েল, সম্মান পাচ্ছে না মৃতদেহও: জাতিসংঘ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বুলডোজার দিয়ে গাজার ধ্বংসস্তূপ সমতল করে ফেলছে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: আনাদোলু
বুলডোজার দিয়ে গাজার ধ্বংসস্তূপ সমতল করে ফেলছে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: আনাদোলু

গাজার বিস্তীর্ন এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বুলডোজার দিয়ে সমতল করে ফেলছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। এতে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদেহ উদ্ধারের আর কোনো সুযোগ থাকছে না বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে টুর্ক বলেন, ‘ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং ভারী যন্ত্রপাতি ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে গাজার বড় একটি অংশ সমতল করে দেওয়া হয়েছে। এখন গাজায় ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন থাকা অনেক এলাকাতেই, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মৃতদেহের প্রতি কোনো সম্মান না দেখিয়েই বুলডোজার দিয়ে সমতল করা হচ্ছে।’

ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে অনেক স্থানেই ‘পুরো পরিবারের’ মরদেহ বলে মনে হওয়া দেহাবশেষও উদ্ধার হচ্ছে। এসব ঘটনায় আশঙ্কা জানিয়ে টুর্ক বলেন, যা পাওয়া যাচ্ছে, তা ‘হিমশৈলের চূড়ামাত্র’ হতে পারে।

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৩০টির বেশি মরদেহ ও মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের শনাক্ত ও মরদেহের তথ্য সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়ে টুর্ক বলেন, ‘এই ভুক্তভোগীদের নথিভুক্ত ও শনাক্ত করা, ফরেনসিক তথ্য ও জৈবিক নমুনা সংরক্ষণ, তাদের দাফনের স্থান নথিভুক্ত করা এবং পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা নিতে হবে।’

গাজায় সংঘাত নিয়ে চলমান আইনি কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি। এ জন্য আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের গাজার সব এলাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

টুর্ক এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপকভাবে বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা হয়নি।

গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের নিচে বিপুলসংখ্যক মানুষের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টুর্ক বলেন, ‘গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের নিচে বিপুলসংখ্যক মানুষের দেহাবশেষের সন্ধান যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের বিষয়ে এসব উদ্বেগকে আবার সামনে এনেছে।’

আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তবে মরদেহ উদ্ধার ও দাফন করাই যথেষ্ট নয়; কী পরিস্থিতিতে এসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

আবাসিক ভবনে হামলায় শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ একই পরিবারের বিপুলসংখ্যক সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন টুর্ক। এসব হামলায় যুদ্ধ পরিচালনার আন্তর্জাতিক বিধি মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব হামলার কার্যকর তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে, গাজার সব এলাকা থেকে মরদেহ মর্যাদা ও মানবিকতার সঙ্গে উদ্ধারে আরও সহযোগিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত