সৌদিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিতে চাইছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলের উদ্বেগ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৫
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের কাছে ২ হাজার ৪৩০ কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ৪৯টি ইঞ্জিন রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার অপেক্ষায় আছে। কংগ্রেস সায় দিলে ইসরায়েলের পর মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সৌদি আরব অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান পরিচালনার সুযোগ পাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ এফ-৩৫ মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম সেরা ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। সৌদি আরবকে এই যুদ্ধবিমান দেওয়া হলে দেশটির আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বলেছে, চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে সম্ভাব্য প্রভাব, চীনের সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে আলাদাভাবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের একটি প্রতিরক্ষা প্যাকেজে সম্মত হয়েছিল। নতুন এই চুক্তি সৌদি আরবের বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

এফ-৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। এটি মূলত শত্রুর নজর এড়িয়ে চলার সক্ষমতা, উন্নত সেন্সর এবং বিভিন্ন যুদ্ধব্যবস্থাকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করে পরিচালনার প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

কেন এই চুক্তি বিতর্কিত

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত চুক্তিটি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কী পরিবর্তন আসতে পারে।

ইসরায়েল কয়েক বছর ধরে এফ-৩৫ ব্যবহার করছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নিজেদের সামরিক সক্ষমতায় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে থাকা তাদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নষ্ট করবে না।

সৌদি আরবকে দেওয়া যুদ্ধবিমান ও এর ব্যবস্থাপনা ইসরায়েলের এফ-৩৫ থেকে আলাদা হতে পারে। ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানগুলোতে বিশেষ সক্ষমতা যুক্ত রয়েছে।

তা সত্ত্বেও এই যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের হাতে গেলে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

চুক্তিটিকে ঘিরে আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, চীনের সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সামরিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক বাড়িয়েছে সৌদি আরব।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলেছে, সৌদি স্থাপনায় চীনের প্রবেশাধিকার বা রিয়াদের সঙ্গে দেশটির বিস্তৃত সম্পর্ক এফ-৩৫ প্রযুক্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও এফ-৩৫ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এবং মার্কিন প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবিত ক্রয়প্রক্রিয়া থমকে যায়।

এফ-৩৫ চুক্তির পথে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য বিক্রিতে অনুমোদন দিলেও আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি পর্যালোচনা করে আপত্তি জানাতে পারেন।

এই বিতর্কে শুধু ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও চীনের কাছে মার্কিন প্রযুক্তি পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকিই নয়; সৌদি আরবের আগের কর্মকাণ্ড ও নীতির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি রিয়াদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কৌশলগত প্রভাব আলোচনায় ঠাঁই পেতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত