হাসিনার ‘প্রকাশ্যে আসা’ নিয়ে সম্পৃক্ততা অস্বীকার দিল্লির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত সংবাদ সম্মেলনে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিল্লিতে মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানান তিনি।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, ৫ আগস্ট ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় সম্মেলন করবেন শেখ হাসিনা। সেখানে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন তিনি।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়। এই ঘটনার ঠিক দুই বছর পূর্তির দিনে প্রথমবার জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের ফেসবুকেও এই সংবাদ সম্মেলনের তথ্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পোস্ট দিচ্ছেন।

এই বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘ওই সম্মেলন বেসরকারি সংবাদমাধ্যম বা মিডিয়া প্রতিষ্ঠান আয়োজন করছে। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে প্রকাশিত কোনো মতামতকেও সরকার সমর্থন করে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে- এমন রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার অনুরোধ দেশটির বাংলাদেশ সরকার।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোনো গণমাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বা নিউজ প্রচার করলে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জয়সোয়াল বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।’

দিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

চলতি বছর শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নে ভারতের সংসদীয় কমিটির সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সোয়াল জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী প্রবাহিত রয়েছে। দুই দেশের পানিবণ্টন-সংক্রান্ত আলোচনায় যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) নামে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। চুক্তি নবায়নের আলোচনা উভয়ের বিদ্যমান ব্যবস্থারই অংশ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত