পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বন্দিশিবির, টার্গেট বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ২০: ৫৪
ভারতের আসাম রাজ্যের একটি বন্দিশিবির। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের ২৩ জেলায় ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা’ অনুপ্রবেশকারীদের আটকে রাখতে বন্দিশিবির (হোল্ডিং সেন্টার) তৈরির নির্দেশ দিয়েছে বিজেপি সরকার।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি ঘোষণা করেন। এর তিন দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নির্দেশ জারি করল।

নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা না করে বন্দিশিবির তৈরির সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রাজ্যের ২৩ জেলার ম্যাজিস্ট্রেটদের (ডিএম) পাঠানো সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএ) গাইডলাইন মেনে বন্দিশিবির তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ এই বিতর্কিত পদক্ষেপ নিল। এসব বন্দিশিবিরে দুই ধরনের মানুষকে রাখা হবে— অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় আটক হওয়া বিদেশি নাগরিক এবং সাজা শেষ করে দেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি বন্দি।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তে প্রতিটি জেলায় পুলিশের ‘বিশেষ টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হবে। আটক ব্যক্তি নিজেকে যে রাজ্যের বাসিন্দা দাবি করবেন, সেই রাজ্যের পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে তাঁর পরিচয় নিশ্চিতের প্রতিবেদন দিতে হবে।

প্রতিবেদন না এলে সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরআরও) সরাসরি আটক ব্যক্তির প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করবেন।

ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এই নীতিমালার অপপ্রয়োগে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকেরা ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এবার খোদ পশ্চিমবঙ্গেই সেই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
গত এপ্রিলের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ হঠানো। ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই এই নির্দেশ জারি করে বিজেপি তার অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিল।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বা কোস্ট গার্ড সীমান্তে আটক সন্দেহভাজনদের বায়োমেট্রিক ও ডেমোগ্রাফিক তথ্য সরাসরি এমএইচএ-র ‘ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে’ যুক্ত করবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

সম্পর্কিত