হামাস সদস্যদের বন্দিশালা ঘিরে নীল নদের কুমির রাখবে ইসরায়েল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ২২: ৪৬
নীল নদের কুমির। ছবি: সংগৃহীত

হামাস সদস্যদের রাখা একটি কারাগারের চারপাশে নীল নদের কুমির ছাড়বে ইসরায়েল। বুধবার (২২ জুলাই) দেশটির সংবাদমাধ্যম ইদিওথ আহরোনোথের বরাতে এই খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইসরায়েলের কেতজিওট কারাগারের চারপাশে খাল তৈরি করা হচ্ছে। এর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১৭০ মিটার। কারাগারটি রামাত নেগেভ আঞ্চলিক পরিষদের এলাকায় অবস্থিত।

সেখানকার এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, খালগুলো কারাগারের ভেতরে একটি বিশেষ অংশের চারপাশে তৈরি করা হচ্ছে। বাইরে থেকে এগুলো দেখা যাবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সেখানে সত্যিই কুমির রাখা হবে কিনা, তা কেউ জানে না। তবে এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ও কুমির পালনের জন্য নির্ধারিত খাল তৈরির কাজ শুরুর বিষয় নিশ্চিত করেছে।

‘পোষ মানা বন্যপ্রাণীর’ তালিকায় সংযুক্ত কুমির

ইসরায়েলের পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলম্যানের একটি সিদ্ধান্তের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি গত সপ্তাহে নীল নদের কুমিরকে ‘পোষ মানা বন্যপ্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। তবে তাঁর মন্ত্রণালয়ের পেশাদার কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কার্যালয় জানায়, সিলম্যানের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেতজিওট কারাগারের একটি অংশে কুমির পালন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ কুমিরের দেখভাল, নজরদারি ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি পরিকল্পনাপত্র তৈরি করেছে। কারারক্ষীদের কুমির সামলানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ১০ লাখ শেকেল (প্রায় ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে।

ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শত শত ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। দেশটির দাবি, তাঁরা হামাসের সামরিক শাখার নুখবা ইউনিটের সদস্য। এসব বন্দির বিচার বিশেষ আদালতে করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে বেন-গভির কেতজিওট কারাগারের বিশেষ অংশের ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে বন্দিদের অমানবিক ও চরম কষ্টের মধ্যে রাখার চিত্র দেখানো হয়।

ইদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ কারাগারে কুমির ব্যবহারের বিষয়ে জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীল নদের কুমিরকে পোষ মানা বন্যপ্রাণী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওট ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় কারাগার। এখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য আলাদা অংশ রয়েছে। গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের বন্দিদের দীর্ঘদিন এই কারাগার রাখা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যে, গাজায় ২০২৩ সালের সামরিক অভিযান শুরুর পর ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বেড়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত