বাগেরহাটে সরকারি নথিতে ‘নেই’ ডেঙ্গুর ১১ মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

রিয়া মজুমদার। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ায় পুরো পরিবারে আনন্দ। রিয়াও স্বপ্ন বুনছে ভালো কলেজে ভর্তির। ফল প্রকাশের সপ্তাহ দেড়েক পরে জ্বর আসে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর কয়েক দিনেই শেষ পুরো পরিবারের আশা।

সবাইকে কাঁদিয়ে গত ২৯ আগস্ট না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় রিয়া মজুমদার। শোকে নীল বাগেরহাট সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সাহসপুর গ্রামের মানুষ। রিয়া মজুমদারের মতো ডেঙ্গুতে চলতি বছরে বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় ঝরে গেছে অন্তত ১২ প্রাণ। কিন্তু তাদের কারও নাম নেই সরকারি নথিতে। এই সময়ে সরকারি হিসাবে মাত্র একজন মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। তবে তাঁর নাম জানতে পারেনি স্ট্রিম।

জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুল আলম বলেন, জেলা বাইরে গিয়ে কিংবা কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলে, তা সরকারি হিসাবে আসে না। সরকারি তালিকা করা হয় জেলা সদর হাসপাতালসহ ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যে।

তিনি বলেন, মে থেকে জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলেও, নিয়ম অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে হিসাব শুরু হয়। বর্তমানে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্থিতিশীল।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে, ১ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৫ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০৭ জন।

বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে স্ট্রিম ডেঙ্গুতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সাহসপুর গ্রামের শিক্ষার্থী রিয়া মজুমদার (১৭) মারা গেছে গত ২৯ আগস্ট। ৩১ আগস্ট মারা যান বাগেরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়ার শিক্ষক সুমন সাহা (৩৮)। আক্রান্ত হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় তিনি মারা যান।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে, ১ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৫ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০৭ জন।

একই পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাসাবাটি গ্রামের ফকির বুজরুক আলী (৮২) মারা যান ১ সেপ্টেম্বর। ফকির বুজরুক আলীর ছেলে জাহিদ হাসান পলাশ বলেন, বাবা স্ট্রোকের রোগী ছিলেন। আগস্টের শেষদিকে তাঁর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বাবার সঙ্গে আমার ভাই হুমায়ুন কবিরও ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। বাবাকে প্রথমে বেসরকারি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১ সেপ্টেম্বর তাঁকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের অনার্স প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ হাসান (২২) মারা যান ৯ আগস্ট। একই উপজেলায় দিগন্ত নামে এক কিশোর মারা যান ১৮ মে। ১৬ আগস্ট খান মোহাম্মদ লিয়াকত আলী (৫৩) এবং ২৬ মে মারা যান গোপালপুর গ্রামের শামসুর রহমান (৭৫)।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু (১৮) মারা যান গত ২৬ আগস্ট। একই উপজেলার বিষখালী গ্রামের রাধারানী দাস (৪২) মারা যান ৫ জুন। ফকিরহাট উপজেলায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থী রমজান আলী মোল্লা (২৩) মারা যান গত ২৮ আগস্ট। একই উপজেলার সাতসইয়া গ্রামের তুলি বেগম (৪৭) মারা যান তাঁর দুদিন আগে ২৬ আগস্ট। এ ছাড়া গত ১৯ জুলাই মোংলা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দুই বছরের ইফা আক্তার মারা যায়।

জেলার বাইরে গিয়ে কিংবা কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলে, তা সরকারি হিসাবে আসে না। সরকারি তালিকা করা হয় জেলা সদর হাসপাতালসহ ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যে। বর্তমানে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্থিতিশীল। আ স ম মাহবুবুল আলম, সিভিল সার্জন, বাগেরহাট

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বাগেরহাটের সাধারণ সম্পাদক এস কে হাসিব বলেন, স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ তাদের বিষয়ে সরকারি তালিকায় তথ্য না থাকা দুঃখজনক। এই চিত্র ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের সচেতনতার অভাব সামনে আনছে। সরকার মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরলে, সংক্রমণ আরও কমানো সম্ভব হবে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, তাদের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ২৫টি শয্যা রয়েছে। চার মাসে ধরে দিনে গড়ে ৫০ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভিন্ন রোগ মিলে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৬৫ জন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত