ট্রাম্প দূতের সঙ্গে পুতিনের দীর্ঘ বৈঠক, যুদ্ধ বন্ধের ফল ‘শূন্য’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে ক্রেমলিনে স্বাগত জানাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সংগৃহীত ছবি
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে ক্রেমলিনে স্বাগত জানাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে মার্কিন বিশেষ দূতদের সঙ্গে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এই দীর্ঘ আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পুতিনের এই বৈঠক হয়।

ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ এই আলোচনাকে ‘অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতার কথা জানাননি।

তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা সংকট সমাধানের সম্ভাব্য কিছু উপায় উপস্থাপন করেছেন। জবাবে পুতিন জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘প্রকৃত অগ্রগতি’ করছে এবং তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে আত্মবিশ্বাসী। তবে স্থায়ী শান্তির জন্য সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ ছিল এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে তাঁদের পরের পদক্ষেপ ঘোষণা হবে।

গত জানুয়ারির পর এই প্রথম কোনো মার্কিন দল মস্কো সফরে গেল। উশাকভ বলেন, ‘বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সমস্যা এবং দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’ পুতিনের বিনিয়োগ দূত কিরিল দিমিত্রিভ বৈঠককে ‘গুরুত্বপূর্ণ শান্তিমূলক সফর’ বলে অভিহিত করেন।

বৈঠক শেষে ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা রয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই তিন দিন ইউক্রেনের রাজধানীতে সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। এর আগের তারা ১০ দিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কিয়েভে লাগাতার হামলা চালিয়েছিল রুশ বাহিনী। এর মধ্যে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে হামলাও হয়েছে।

অন্যদিকে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনও সোমবার পর্যন্ত মস্কোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে।

যুদ্ধ বন্ধের মূল শর্ত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মতপার্থক্য এখনো আকাশচুম্বী। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি অংশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে চান পুতিন। এর আগে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই।

তবে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকরা এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন মনে করছেন। ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ড হস্তান্তরের দাবিকে আত্মসমর্পণের শামিল আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনকে চারটি অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়া ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত