ইসরায়েলে হুথির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বন্ধ হতে পারে বাবেল-মান্দেব প্রণালি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৩১
২০২৫ সালে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে সানায় এক হুথি সমর্থকের হাতে প্রতীকী রকেট । ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথিরা। শনিবার (২৮ মার্চ) এই হামলার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে প্রবেশের কথা নিশ্চিত করেছে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী।

হুথি সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান, লেবানন, ইরাক এবং ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী প্রথম সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। দক্ষিণ ইসরায়েলের (অধিকৃত ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চল) সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।’ মিত্র দেশগুলোর ওপর ‘আগ্রাসন’ ও ‘গণহত্যা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সব ফ্রন্টে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছিল, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং সেটি আকাশেই প্রতিহত (ইন্টারসেপ্ট) করেছে।

হুথিদের এই যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশের ফলে লোহিত সাগর করিডোর দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুথিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে এক বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের আক্রমণ আরও বাড়ায়, তবে ইয়েমেন উপকূলের ‘ বাবেল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়া তাদের জন্য ‘বাস্তবসম্মত বিকল্প’। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে বৈশ্বিক শিপিং রুটের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

হুথি বিদ্রোহীদের উত্থান ও সক্ষমতা

‘আনসার আল্লাহ’ (আল্লাহর সমর্থক) নামে পরিচিত এই হুথি আন্দোলন ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান পক্ষ। নব্বইয়ের দশকে জাইদি শিয়া সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় হুসেইন আল-হুথির নেতৃত্বে এর উত্থান ঘটে। ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নিলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ২০১৪ সালের পর থেকে ইরানের সহায়তায় হুথিরা নিজেদের ড্রোন, ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। এর আগেও তারা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও অ্যান্টি-শিপ মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছিল।

সম্পর্কিত