স্ট্রিম ডেস্ক

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শেষ হয়েছে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের শুরুতে মিত্রদের কড়া সমালোচনা, স্পেনকে হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে দাবি তুলে উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ন্যাটোর নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে বদলে যায় ট্রাম্পের সুর। পরে সম্মেলনকে ‘অত্যন্ত সফল’ আখ্যা দিয়ে ন্যাটোর ঐক্যের প্রশংসা করেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মাত্রই তুরস্কে একটি অত্যন্ত সফল ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলাম।’ আয়োজক দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে তিনি ‘একজন মহান নেতা’ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে, সম্মেলন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এর আগে সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্প স্পেনকে ন্যাটোর সবচেয়ে খারাপ অংশীদার বলে সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং ইরান যুদ্ধের সময়ও ন্যাটোর পাশে দাঁড়ায়নি। এমনকি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার হুমকিও দেন তিনি।
একই সঙ্গে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প, যা সম্মেলনের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানিয়ে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।’ তাঁকে সমর্থন জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
তবে ন্যাটোর মিত্র নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্পের সুর বদলে যায়। তিনি বলেন, ‘সেই কক্ষে অনেক ভালোবাসা ছিল, অনেক ঐক্য ছিল।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আগের চেয়ে অনেকটা উষ্ণ পরিবেশে বৈঠক করেন তিনি। পরে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প বলেন, গত বছরের হেগ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে, ২০২৫ সালে ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তাঁর দাবি, এবার সম্মেলনে ‘অসাধারণ ঐক্য’ দেখা গেছে।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বিশাল সামরিক সাফল্য’ ছিল এবং ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ফোর্স’ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান আবার হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ‘১০ গুণ শক্তিশালী জবাব’ দেবে। এর আগে ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মেলন শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ন্যাটো এখন ‘আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ’। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মতে, আঙ্কারা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘আরও ইউরোপকেন্দ্রিক ন্যাটোর’ সূচনা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের দাবিও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সম্মেলনকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মিত্র দেশগুলো আগামী বছরও ইউক্রেনকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে সম্মেলনের আয়োজক দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সম্মেলনকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এদিকে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক ছিল ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ’। তবে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া ট্রাম্পের বক্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে সমালোচনা করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু ও এএফপি

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শেষ হয়েছে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের শুরুতে মিত্রদের কড়া সমালোচনা, স্পেনকে হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে দাবি তুলে উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ন্যাটোর নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে বদলে যায় ট্রাম্পের সুর। পরে সম্মেলনকে ‘অত্যন্ত সফল’ আখ্যা দিয়ে ন্যাটোর ঐক্যের প্রশংসা করেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মাত্রই তুরস্কে একটি অত্যন্ত সফল ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলাম।’ আয়োজক দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে তিনি ‘একজন মহান নেতা’ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে, সম্মেলন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এর আগে সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্প স্পেনকে ন্যাটোর সবচেয়ে খারাপ অংশীদার বলে সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং ইরান যুদ্ধের সময়ও ন্যাটোর পাশে দাঁড়ায়নি। এমনকি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার হুমকিও দেন তিনি।
একই সঙ্গে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প, যা সম্মেলনের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানিয়ে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।’ তাঁকে সমর্থন জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
তবে ন্যাটোর মিত্র নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্পের সুর বদলে যায়। তিনি বলেন, ‘সেই কক্ষে অনেক ভালোবাসা ছিল, অনেক ঐক্য ছিল।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আগের চেয়ে অনেকটা উষ্ণ পরিবেশে বৈঠক করেন তিনি। পরে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প বলেন, গত বছরের হেগ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে, ২০২৫ সালে ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তাঁর দাবি, এবার সম্মেলনে ‘অসাধারণ ঐক্য’ দেখা গেছে।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বিশাল সামরিক সাফল্য’ ছিল এবং ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ফোর্স’ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান আবার হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ‘১০ গুণ শক্তিশালী জবাব’ দেবে। এর আগে ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মেলন শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ন্যাটো এখন ‘আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ’। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মতে, আঙ্কারা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘আরও ইউরোপকেন্দ্রিক ন্যাটোর’ সূচনা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের দাবিও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সম্মেলনকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মিত্র দেশগুলো আগামী বছরও ইউক্রেনকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে সম্মেলনের আয়োজক দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সম্মেলনকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এদিকে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক ছিল ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ’। তবে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া ট্রাম্পের বক্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে সমালোচনা করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু ও এএফপি
.png)

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন হামলায় ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। একই দিনে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি সামরিক ব্যারাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাত সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
৬ মিনিট আগে
ইরানের তেল রপ্তানির সঙ্গে জড়িত একটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৫০টির বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরাকে অবস্থানরত সব মার্কিন সেনা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এ তথ্য জানিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফররত আল-জাইদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এ ঘোষণা এলো।
৪ ঘণ্টা আগে
তিনি নিজে হামলা বন্ধের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আলোচনায় না বসলে আগামী সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি।
৬ ঘণ্টা আগে