আরএসএস ইস্যুতে কানাডায় ২১ সংস্থার তদন্ত দাবি, অনুদান বর্জন যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ নেতার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

কানাডার টরন্টোতে ২০২৬ সালের ভাদ্রপদ কৃষ্ণ তৃতীয়া উদযাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (মাঝখানে)। ছবি: সংগৃহীত
কানাডার টরন্টোতে ২০২৬ সালের ভাদ্রপদ কৃষ্ণ তৃতীয়া উদযাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (মাঝখানে)। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কানাডায় আরএসএস সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২১ দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন জাস্ট পিস অ্যাডভোকেটস (জেপিএ)। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) এ দাবি জানায় তারা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের প্রায় ৯০ রাজনৈতিক নেতা আরএসএস-সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক অনুদান না নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

জেপিএ কানাডা রেভিনিউ এজেন্সির (সিআরএ) কাছে দেওয়া অভিযোগে ২১টি নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানের দাতব্য মর্যাদা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগে হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ কানাডা, একল বিদ্যালয় ফাউন্ডেশন অব কানাডা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অব অন্টারিও এবং সেবা কানাডা ইন্টারন্যাশনাল এইড ইনকরপোরেটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

জেপিএ বলছে, ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের (সিইআরআই) তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা কানাডায় আরএসএস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। এসব সংগঠন থেকে বিদেশে আরএসএস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোতে আরও প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

জেপিএর অভিযোগ, কানাডার আইন অনুযায়ী দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে জনকল্যাণে কাজ করতে হয়। ধর্মীয় কারণে বৈষম্য করে বা জননীতির পরিপন্থী কাজ করে— এমন সংগঠন দাতব্য মর্যাদার যোগ্য কি না, তা সিআরএর পরীক্ষা করা উচিত।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, আরএসএস-সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈষম্যমূলক আচরণ ও সহিংসতায় জড়িত। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন প্রতিবেদন ও ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছে জেপিএ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মোহন ভাগবতের সফরের পর প্রায় ৯০ জন রাজনৈতিক নেতা আরএসএস ও এর সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক অনুদান প্রত্যাখ্যানের অঙ্গীকার করেছেন। হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস অ্যাকশন ও স্যাক্রেড অ্যাক্টসের উদ্যোগে নেওয়া এই অঙ্গীকারে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রত্যাখ্যান, আরএসএস-সংশ্লিষ্ট অনুদান গ্রহণ না করা এবং এমন অর্থ পাওয়া গেলে তা ফেরত দেওয়া বা গণতন্ত্রপন্থী সংগঠনকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অঙ্গীকারে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পাল ও রো খান্নাসহ ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীরা সই করেছেন। আটটি অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এতে যুক্ত হয়েছেন।

কংগ্রেস সদস্য রো খান্না জানিয়েছেন, আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা এক ধনকুবেরের কাছ থেকে পাওয়া ৬ হাজার ৬০০ ডলারের অনুদান তিনি ফেরত অথবা অন্যত্র দান করে দেবেন।

ভাগবতের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আগে থেকেই বিরোধিতা ও বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশও করেছে।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে বিরোধিতা করেছেন।

গত ২৬ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশ সমর্থন করেন না। হিন্দুত্ববাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করেছে।

সূত্র: দ্য স্ক্রল, দ্য ওয়্যার

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত