সাংবাদিক উৎস হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান অভিযুক্ত খালাসে অসন্তোষ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১৫
হত্যাকান্ডের শিকার সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস । সংগৃহীত ছবি
হত্যাকান্ডের শিকার সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস । সংগৃহীত ছবি

রংপুরের সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদি আছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল।

আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রুবেল ওরফে হেকরম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুজন হলেন এলিন ও শুভ কুমার।

এদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। সাংবাদিক উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম নুরী বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে উৎস রহমানকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জহিরন আক্তার জুঁইয়ের সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে ও অন্য চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলোর কার্যালয়ে যান সাংবাদিক উৎস রহমান। তবে রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন নগরের ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় উৎস রহমানের মা বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চলা মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল বলেন, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী জহিরন আক্তার জুঁই হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ এবং উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘এই মামলার মূলহোতা খালাস পাওয়ায় আমরা সংক্ষুব্ধ। সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় চিহ্নিত আসামিরা খালাস পেলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে।’

রায় নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘এ রায়ে সাংবাদিক সমাজ সন্তুষ্ট নয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক, আবার মূলহোতাও খালাস পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এটি বিস্ময়কর একটি রায়।’

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান ছালেক বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতির কারণে মূল অভিযুক্ত খালাস পেয়েছেন। এতে তাঁরা মর্মাহত। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত