যান চলাচলের জন্য খুলল ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪৯
সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। দুই লেনের প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩.১৭ কিলোমিটার।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকল্পটির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একাংশ খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বক্তব্য দেন।

সালাউদ্দিন বাবু জানান, আশুলিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রকল্প এটি। এই এলাকায় অসংখ্য কারখানা থাকায় নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আজ সড়কটি চালু হওয়ায় সেই ভোগান্তি কমবে। সবাই এর সুফল ভোগ করবেন।

তুরাগ পারাপারে লাগবে না টোল

তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি আর রাখা হচ্ছে না। ফলে নতুন সার্ভিস লেন ব্যবহার করে টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পার হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

উড়ালসড়কটির একাংশ চালু হওয়ায় চালক ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সাইফুল ইসলাম নামে এক পিকআপ চালক বলেন, ‘আগে রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। এখন তা কমে যাবে, যেকোনো জায়গায় দ্রুত যেতে পারব।’

আশুলিয়া এলাকার বাসিন্দা দীপংকর দাস বলেন, ‘আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবশেষে চালু হয়েছে। এত দিন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আশা করছি, এখন যানজট থেকে অনেকটা রক্ষা পাব।’

বাবুল হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, ‘যানজট নিরসনে এক্সপ্রেসওয়ে অনেক ভূমিকা রাখবে। উত্তরা থেকে আশুলিয়া আসতে প্রচুর ভোগান্তি হতো। এখন আর ভুগতে হবে না আশা করছি।’

প্রকল্পের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশে পৌঁছায়।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের পাশাপাশি নতুন নকশায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তিনতলা দৃষ্টিনন্দন ‘ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ’।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু খুলে দেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত