স্ট্রিম প্রতিবেদক

মানুষ যত অটিজম নিয়ে সচেতন হচ্ছে, ততোই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন থেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। থেরাপি সেন্টারের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা সেবার মান কি বাড়ছে, নাকি এগুলো শুধুই লোকদেখানো প্রতিষ্ঠান, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
রাজধানীর আদাবরে অবস্থিত বাংলাদেশ থেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশনের সেন্টারের অকুপেশনাল থেরাপিস্ট সায়মা হোসেন ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘কোভিডের পর থেকে শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেড়ে গেছে। আমরা প্রায়ই এটিকে রোগ বলে ভাবি কিন্তু এটি একধরনের মানসিক বিকাশজনিত সমস্যা বা শিশুর ব্যক্তিত্বের একটি আলাদা ধরন। এখানে থেরাপি নিতে আসা শিশুদের বেশিরভাগই অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত।’
তিনি জানান, তার এখানে আসা ২০ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে এডিএইচডি বা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ সমস্যার আক্রান্ত। এই শিশুরা সাধারণত অত্যন্ত চঞ্চল বা হাইপারঅ্যাক্টিভ প্রকৃতির হয় এবং কোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধায় ভোগে। বাকি ১০ শতাংশ শিশুর মধ্যে মূলত সেন্সরি প্রসেসিং ডিজঅর্ডার, সামাজিক মেলামেশায় সীমাবদ্ধতা কিংবা যোগাযোগ করতে না পারার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে সেরিব্রাল পালসি কিংবা শারীরিক দুর্বলতা (যেমন: হাত বা পায়ের পেশির দুর্বলতা) লক্ষ করা যায়।
সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্যা বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের থেরাপি দেওয়া হয়। এই থেরাপির ফি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাজারের ওপর। অর্থাৎ এক মাসে যদি পাঁচটা সেশন নেওয়া হয়, একেকটি সেশনে পাঁচ হাজারের বেশি গুনতে হয় অভিভাবকদের।
মাহবুবুল কবির নামের এক অভিভাবিক বলেন, ‘শান্তিনগরের একটি থেরাপি সেন্টারে আমার বাচ্চা তিন ধরনের থেরাপি নেয়। এখানে ৪৫ মিনিটের স্পিচ থেরাপি ৯০০ টাকা, অকুপেশনাল থেরাপি ১০০০ টাকা আর এবিএ থেরাপি বা এপ্লাইড বিহেইভিয়ার এনালাইসিস থেরাপি ফি ১৫০০ টাকা। সাধারণত মাসে ৩-৪টা এবিএ থেরাপি, ৭-১০টা স্পিচ থেরাপি আর ৫-৮টা অকুপেশনাল থেরাপি নিতে হয়।’
পেশার চিকিৎসক মাহবুবুল কবিরের মতে, ব্যয়বহুল এসব থেরাপি চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হলেও কোনো নিম্নবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই চিকিৎসাভার বহন করা বেশ কঠিন।
এই থেরাপিগুলো কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সায়মা হোসেন বলেন, ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য কোনো সমস্যা না। আপনাকে যেমন ডায়বেটিস হলে সারাজীবন, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে; ঠিক তেমনি অটিজম থাকলেও তা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন প্যাকেজ-নির্ভর থেরাপি সেবা দিয়ে থাকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক থেরাপি সেন্টার আছে যেগুলো তুলনামূলক কম খরচ করে থেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। এগুলো শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে কি-না তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এই চিকিৎসাভার বহন করতে পারেন না কিন্তু শিশুকে সুস্থ করতে চান, তাঁদের জন্য আমরা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও করে থাকি। কিন্তু বাচ্চাদের থেরাপি নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু যে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করে, বিষয়টি তা নয়। অনেকেই আমাদের এখানে আসেন, যাদের পরিবার এই সমস্যা নিয়ে সচেতন না। তারা অনেক সময়ই পুরো সেশন প্রক্রিয়া শেষ না করেই চলে যান। এক্ষেত্রে অর্থনীতি মুখ্য বিষয় বলে আমার মনে হয় না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন অভিভাবক ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চার সুরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত। কিন্তু অনেক থেরাপি সেন্টার আছে যেগুলো শুধু নিজেদের লাভের জন্য এসব থেরাপি সেন্টার চালায়। আমার বাচ্চা আগে যে থেরাপি সেন্টারে ছিল, সেখানেও এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। তাঁরা কোন প্রক্রিয়ায় শিশুদের সেশন নিচ্ছে, কিছুই অভিভাবকদের জানায় না। আমি যদি না জানি আমার শিশু সেখানে কী করছে, আমি কী করে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি? এ কারণে আমি থেরাপি সেন্টার পরিবর্তন করেছি।’
অটিজম রয়েছে এমন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে থেরাপি যতটা জরুরি, বাবা-মায়ের সর্বোচ্চ সহযোগিতাও ঠিক ততোটাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সের স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফিদা আল শামস।
তিনি বলেন, এ ধরনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই দ্রুত ফলাফল দেখতে চান। তারা হয়ত মনে করেন, আমার শিশু কথা বলতে পারছে না, এখানে এক মাস থেরাপি দিলেই হয়তো কথা বলতে পারবে। অথচ এই পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সময় সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের কাজ। মাঝেমধ্যে অভিভাবকদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে। তবে অভিভাবকেরা এখন আগের চেয়েও বেশি সচেতন।’
বাচ্চাকে থেরাপি দিয়ে উপকৃত হয়েছেন এমন একজন অভিভাবক আয়েশা রহমান। তাঁর সন্তান আগে কথা বলত না, কারও সঙ্গে চোখে চোখ মেলাতে চাইত না। কিন্তু প্রায় দুই বছর থেরাপি নেওয়ার পর তাঁর সন্তান এখন অনেকটাই সুস্থতার পথে।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘থেরাপি নেওয়ার পর আমার সন্তানের অনেক পরিবর্তন লক্ষ করেছি। এই পরিবর্তন বেশ ধীরে ধীরে হয়। তাই ধৈর্য্য রাখা জরুরি। প্রতি মাসে বাচ্চার পেছনে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করি। আমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম। বাচ্চার জন্য চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি। সে যখন আমাকে ‘মা’ বলে ডাকে, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়।’
এসব থেরাপি বাচ্চার বিকাশে ভূমিকা রাখছে কি-না প্রশ্ন করা হলে ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সঠিক থেরাপি পেলে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বেশ দ্রুত হয়। তবে এখন রাজধানীতে প্রচুর থেরাপি সেন্টার গড়ে উঠেছে, সবগুলোতেই যে যোগ্যতাসম্পন্ন থেরাপিস্ট কাজ করছেন, এমনও না। তাই একটু খোঁজখবর নিয়ে বাচ্চাকে থেরাপি দিতে হবে।’
অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এসব থেরাপি অত্যন্ত জরুরি। তবে কেবল থেরাপি সেন্টার বাড়ালেই হবে না, সেবার মানের দিকেও লক্ষ রাখা উচিত। থেরাপিস্টদের দক্ষ হতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে হতে হবে মানবিক।

মানুষ যত অটিজম নিয়ে সচেতন হচ্ছে, ততোই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন থেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। থেরাপি সেন্টারের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা সেবার মান কি বাড়ছে, নাকি এগুলো শুধুই লোকদেখানো প্রতিষ্ঠান, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
রাজধানীর আদাবরে অবস্থিত বাংলাদেশ থেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশনের সেন্টারের অকুপেশনাল থেরাপিস্ট সায়মা হোসেন ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘কোভিডের পর থেকে শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেড়ে গেছে। আমরা প্রায়ই এটিকে রোগ বলে ভাবি কিন্তু এটি একধরনের মানসিক বিকাশজনিত সমস্যা বা শিশুর ব্যক্তিত্বের একটি আলাদা ধরন। এখানে থেরাপি নিতে আসা শিশুদের বেশিরভাগই অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত।’
তিনি জানান, তার এখানে আসা ২০ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে এডিএইচডি বা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভ ডিজঅর্ডার’ সমস্যার আক্রান্ত। এই শিশুরা সাধারণত অত্যন্ত চঞ্চল বা হাইপারঅ্যাক্টিভ প্রকৃতির হয় এবং কোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধায় ভোগে। বাকি ১০ শতাংশ শিশুর মধ্যে মূলত সেন্সরি প্রসেসিং ডিজঅর্ডার, সামাজিক মেলামেশায় সীমাবদ্ধতা কিংবা যোগাযোগ করতে না পারার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে সেরিব্রাল পালসি কিংবা শারীরিক দুর্বলতা (যেমন: হাত বা পায়ের পেশির দুর্বলতা) লক্ষ করা যায়।
সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্যা বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের থেরাপি দেওয়া হয়। এই থেরাপির ফি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাজারের ওপর। অর্থাৎ এক মাসে যদি পাঁচটা সেশন নেওয়া হয়, একেকটি সেশনে পাঁচ হাজারের বেশি গুনতে হয় অভিভাবকদের।
মাহবুবুল কবির নামের এক অভিভাবিক বলেন, ‘শান্তিনগরের একটি থেরাপি সেন্টারে আমার বাচ্চা তিন ধরনের থেরাপি নেয়। এখানে ৪৫ মিনিটের স্পিচ থেরাপি ৯০০ টাকা, অকুপেশনাল থেরাপি ১০০০ টাকা আর এবিএ থেরাপি বা এপ্লাইড বিহেইভিয়ার এনালাইসিস থেরাপি ফি ১৫০০ টাকা। সাধারণত মাসে ৩-৪টা এবিএ থেরাপি, ৭-১০টা স্পিচ থেরাপি আর ৫-৮টা অকুপেশনাল থেরাপি নিতে হয়।’
পেশার চিকিৎসক মাহবুবুল কবিরের মতে, ব্যয়বহুল এসব থেরাপি চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হলেও কোনো নিম্নবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই চিকিৎসাভার বহন করা বেশ কঠিন।
এই থেরাপিগুলো কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সায়মা হোসেন বলেন, ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য কোনো সমস্যা না। আপনাকে যেমন ডায়বেটিস হলে সারাজীবন, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে; ঠিক তেমনি অটিজম থাকলেও তা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন প্যাকেজ-নির্ভর থেরাপি সেবা দিয়ে থাকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক থেরাপি সেন্টার আছে যেগুলো তুলনামূলক কম খরচ করে থেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। এগুলো শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে কি-না তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এই চিকিৎসাভার বহন করতে পারেন না কিন্তু শিশুকে সুস্থ করতে চান, তাঁদের জন্য আমরা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও করে থাকি। কিন্তু বাচ্চাদের থেরাপি নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু যে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করে, বিষয়টি তা নয়। অনেকেই আমাদের এখানে আসেন, যাদের পরিবার এই সমস্যা নিয়ে সচেতন না। তারা অনেক সময়ই পুরো সেশন প্রক্রিয়া শেষ না করেই চলে যান। এক্ষেত্রে অর্থনীতি মুখ্য বিষয় বলে আমার মনে হয় না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন অভিভাবক ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চার সুরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত। কিন্তু অনেক থেরাপি সেন্টার আছে যেগুলো শুধু নিজেদের লাভের জন্য এসব থেরাপি সেন্টার চালায়। আমার বাচ্চা আগে যে থেরাপি সেন্টারে ছিল, সেখানেও এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। তাঁরা কোন প্রক্রিয়ায় শিশুদের সেশন নিচ্ছে, কিছুই অভিভাবকদের জানায় না। আমি যদি না জানি আমার শিশু সেখানে কী করছে, আমি কী করে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি? এ কারণে আমি থেরাপি সেন্টার পরিবর্তন করেছি।’
অটিজম রয়েছে এমন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে থেরাপি যতটা জরুরি, বাবা-মায়ের সর্বোচ্চ সহযোগিতাও ঠিক ততোটাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সের স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফিদা আল শামস।
তিনি বলেন, এ ধরনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই দ্রুত ফলাফল দেখতে চান। তারা হয়ত মনে করেন, আমার শিশু কথা বলতে পারছে না, এখানে এক মাস থেরাপি দিলেই হয়তো কথা বলতে পারবে। অথচ এই পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সময় সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের কাজ। মাঝেমধ্যে অভিভাবকদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে। তবে অভিভাবকেরা এখন আগের চেয়েও বেশি সচেতন।’
বাচ্চাকে থেরাপি দিয়ে উপকৃত হয়েছেন এমন একজন অভিভাবক আয়েশা রহমান। তাঁর সন্তান আগে কথা বলত না, কারও সঙ্গে চোখে চোখ মেলাতে চাইত না। কিন্তু প্রায় দুই বছর থেরাপি নেওয়ার পর তাঁর সন্তান এখন অনেকটাই সুস্থতার পথে।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘থেরাপি নেওয়ার পর আমার সন্তানের অনেক পরিবর্তন লক্ষ করেছি। এই পরিবর্তন বেশ ধীরে ধীরে হয়। তাই ধৈর্য্য রাখা জরুরি। প্রতি মাসে বাচ্চার পেছনে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করি। আমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম। বাচ্চার জন্য চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি। সে যখন আমাকে ‘মা’ বলে ডাকে, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়।’
এসব থেরাপি বাচ্চার বিকাশে ভূমিকা রাখছে কি-না প্রশ্ন করা হলে ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সঠিক থেরাপি পেলে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বেশ দ্রুত হয়। তবে এখন রাজধানীতে প্রচুর থেরাপি সেন্টার গড়ে উঠেছে, সবগুলোতেই যে যোগ্যতাসম্পন্ন থেরাপিস্ট কাজ করছেন, এমনও না। তাই একটু খোঁজখবর নিয়ে বাচ্চাকে থেরাপি দিতে হবে।’
অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এসব থেরাপি অত্যন্ত জরুরি। তবে কেবল থেরাপি সেন্টার বাড়ালেই হবে না, সেবার মানের দিকেও লক্ষ রাখা উচিত। থেরাপিস্টদের দক্ষ হতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে হতে হবে মানবিক।

সারা দেশে এক মাসব্যাপী অভিযানে প্রায় পৌনে ৪ লাখ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযানে মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দুজনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং একজনকে সচিব ও আরেকজনকে গ্রেড-২ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট আমদানি শূন্যের কাছাকাছি হলেও ঢাকার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সীমিত কিছু বিক্রয় চ্যানেলে বিক্রি হচ্ছে পার্সিয়ান বা ইরানি কার্পেট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যবর্তী দেশ হয়ে আসা এই পণ্য বিলাসবহুল ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।
২ ঘণ্টা আগে
এক্সট্রিম ও এন্ডুরেন্স অ্যাথলেটদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এবং পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লেখা খোলা চিঠিতে তিনি এই দাবি জানান।
২ ঘণ্টা আগে