রামিসার মৃত্যু এবং আমাদের নীরবতার অপরাধ

মাশিয়াত নূর প্রাপ্তি
মাশিয়াত নূর প্রাপ্তি

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১৭: ১৮
স্ট্রিম গ্রাফিক

পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল সে। ক্লাসমেটদের সঙ্গে উদযাপন করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই আনন্দ আর হলো না। পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ঘরে, প্রতিবেশী সোহেল রানার হাতে সাত বছরের রামিসা আক্তারের জীবনপ্রদীপ নিভে গেল। ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে তার।

এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সিস্টেমের ব্যর্থতার সবচেয়ে নির্মম প্রতিফল— সেই সিস্টেম যা মেয়েশিশুদের, নারীদের, দুর্বলদের রক্ষা করতে পারে না। রামিসার মৃত্যু আমাদের জিজ্ঞেস করছে: আমরা কোথায় আছি? আমরা কোন সমাজে বাস করছি?

নিজের ঘরেও নিরাপদ নয় শিশু

রামিসার হত্যা ঘটেছে তার নিজের বাড়ির পাশের ফ্ল্যাটে। অপরাধী তার পরিচিত প্রতিবেশী। এই তথ্যটি আমাদের জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা বহন করে—নিরাপত্তা এখন শুধু রাস্তায় নয়, চারদেওয়ালের মধ্যেও নেই।

বাংলাদেশে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার যে পরিসংখ্যান, তা রীতিমতো আতঙ্কজনক। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ধর্ষণের পর বা নির্যাতনের পর ৬৪৩ জন শিশু নিহত হয়েছে, প্রতি মাসে গড়ে ৩২ জনেরও বেশি। শুধু ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসেই ২০৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়। এগুলো একেকটি মুখ, একেকটি নাম, একেকটি ভবিষ্যৎ—যা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ ছায়া

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের বলেছেন এক করুণ কথা: ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার দিতে পারবেন না।’

এই একটি বাক্যে যে হতাশা এবং অবিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে, তা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের একটি যৌথ গবেষণা জানাচ্ছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। প্রায় ৭০ শতাংশ আসামি বেকসুর খালাস পায়। আইনে বলা আছে, এই মামলাগুলো ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা—বাস্তবে গড়পড়তা সময় লাগে সাড়ে তিন বছরের বেশি।

আইনমন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। এই মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের সমাজে কেন প্রতিটি ঘটনার পরেই এই একই চক্র ঘুরতে থাকে—প্রতিবাদ, প্রতিশ্রুতি, এবং তারপর নীরবতা?

লিঙ্গ দৃষ্টিকোণ: এটি কি শুধু অপরাধের সমস্যা?

রামিসার ঘটনাকে যদি আমরা শুধু একটি অপরাধের ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে মূল সমস্যাটা দেখা হবে না। প্রতিবার এরকম একটি নৃশংস হত্যার পর আমরা বলি ‘দোষীর ফাঁসি চাই’, ‘কঠোর আইন চাই’— এবং এই দাবিগুলো যথার্থ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু আইন দিয়ে কি সেই মাটি বদলানো যাবে, যেখান থেকে এই অপরাধীরা জন্মায়?

এই সহিংসতার শিকার নারী এবং মেয়েশিশু কেন? কেন পুরুষ শিশুরা একই মাত্রায় যৌন সহিংসতার শিকার হয় না? কেন ধর্ষণের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধী পুরুষ এবং শিকার নারী বা মেয়েশিশু? এই প্রশ্নের উত্তর কোনো ব্যক্তিবিশেষের মনোবিকারে নেই, উত্তর আছে আমাদের সমাজের কাঠামোগত পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধে।

আমাদের সমাজে মেয়েশিশু জন্মের সাথে সাথেই একটি নির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারিত হয়ে যায় তার জন্য। পরিবারে তাকে শেখানো হয় ‘চুপ থাকতে’, ‘মেনে নিতে’, ‘বেশি কথা না বলতে’। রাস্তায় বের হলে পোশাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্কুলে শিক্ষক বলেন ‘মেয়েরা একটু শান্ত থাকবে’। বিজ্ঞাপনে নারীর শরীর ব্যবহার হয় পণ্য বিক্রির হাতিয়ার হিসেবে। সিনেমায় নায়িকার ‘না’ মানে ‘হ্যাঁ’—এই বার্তাটি দশকের পর দশক ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে স্বাভাবিক বলে চলে আসছে।

এমন এক সমাজ যেখানে নারীর শরীরকে দেখা হয় নিয়ন্ত্রণের বিষয় হিসেবে, যেখানে মেয়েশিশুকে ‘বোঝা’ বলা হয়, যেখানে ‘মেয়েমানুষ’ শব্দটি ব্যবহার হয় তুচ্ছার্থে -সেই সমাজে রামিসারা জন্ম নেয়, এবং রামিসারা মরে।

আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—রামিসার মৃত্যু কি শুধু একটি খবর, নাকি একটি জাগরণ? আমরা কি শুধু আইনের পরিবর্তন চাইব, নাকি সমাজের মূল কাঠামোয় প্রশ্ন তুলব?

লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধর্ষণ কোনো যৌন চাহিদার ফল নয়—এটি ক্ষমতার প্রদর্শন। যে সমাজ পুরুষকে শেখায় যে নারী ‘জয়’ করার বিষয়, দখলের বিষয়- সেখানে ধর্ষণ একটি ‘কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার’ পথ হয়ে দাঁড়ায়। রামিসার মতো একটি সাত বছরের শিশুও সেই ‘কর্তৃত্বের’ শিকার হয়—কারণ তার লিঙ্গ-পরিচয়ই তাকে সেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ক্রিস্টিয়ান রেবেকা সিংহ এ বিষয়ে যথার্থই বলেছেন— রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি আমাদের সমাজের গভীর ব্যর্থতার প্রতিফলন। বাংলাদেশে নারী ও মেয়েশিশু ঘরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায়—কোথাও নিরাপদ নয়।

আরেকটি বিষয় এখানে না বললেই নয়: ধর্ষণের পর শিকারকেই যে সমাজ প্রশ্ন করে— ‘মেয়েটা কী পরেছিল?’, ‘একা কেন গিয়েছিল?’, ‘ওর চরিত্র কেমন ছিল?’—সেই সমাজ আসলে অপরাধীকেই প্রশ্রয় দেয়। রামিসা মাত্র সাত বছরের শিশু, তবু এই প্রশ্নগুলোর একটি উল্টো রূপ আমরা দেখি যখন কেউ বলে ‘বাচ্চাকে একা ছাড়া কেন?’—যেন দোষটা মায়ের, বাবার, শিশুটির নিজের; অপরাধীর নয়।

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: সোহেল রানার মতো একজন মানুষ কীভাবে তৈরি হয়? কোন পরিবেশ, কোন সংস্কৃতি, কোন নীরবতা তাকে মনে করতে দেয় যে একটি সাত বছরের শিশুকে সে যা ইচ্ছা করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজলে রামিসার পরের নামটি কে হবে, সেটা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

পুরুষতন্ত্র ও নারীর শরীর: অধীনতার রাজনীতি

নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতাকে আমরা প্রায়ই ‘মনস্তাত্ত্বিক বিকার’ বলে চিহ্নিত করি - যেন একটি ‘পাগল’ মানুষের কাজ, যেন সমাজের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এই ব্যাখ্যাটি সুবিধাজনক, কারণ এতে বাকি সবাই দায়মুক্ত থাকে। কিন্তু এটি একটি মিথ্যা সান্ত্বনা।

এটি আসলে একটি রাজনৈতিক সমস্যা—ক্ষমতার অসম বণ্টনের সমস্যা।

পিতৃতন্ত্র মানে শুধু পুরুষের শাসন নয়। পিতৃতন্ত্র মানে এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে নারীর শরীর, নারীর যৌনতা, নারীর সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা- সবকিছুকে পুরুষের নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাখা হয়। এই ব্যবস্থায় নারী একজন স্বায়ত্তশাসিত মানুষ নয়—সে পুরুষের ‘সম্পত্তি’: বাবার, স্বামীর, ভাইয়ের।

এই মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয় ‘ইজ্জত’ নামক ধারণাটি—যেখানে একটি পরিবারের ‘সম্মান’ নির্ভর করে তার নারীদের শরীরের উপর। ধর্ষণ হলে পরিবার ‘লজ্জিত’ হয়—ধর্ষণকারী নয়। বিয়ের আগে সম্পর্ক হলে ‘মেয়েটার চরিত্র নষ্ট’—ছেলেটার নয়। এই দ্বিচারিতা বাংলাদেশের সমাজে এতটাই গভীরে প্রোথিত যে আমরা অনেক সময় নিজেরাও বুঝতে পারি না কখন এই ভাষায় কথা বলছি।

যে পুরুষ মনে করে নারীর শরীরে তার অধিকার আছে, সে একা সেই মনোভাব তৈরি করেনি। সমাজ তাকে প্রতিনিয়ত এই বার্তাই দিয়েছে—বিজ্ঞাপনে, সিনেমায়, পাঠ্যপুস্তকে, পরিবারের ভেতরে। মেয়েরা ‘দেখার বিষয়’, মেয়েরা ‘ভোগের বিষয়’—এই মনোভাব যতদিন আমাদের সংস্কৃতির শিরা-উপশিরায় বহমান থাকবে, ততদিন সোহেল রানারা তৈরি হতে থাকবে।

এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে: পুরুষতন্ত্র শুধু নারীর ক্ষতি করে না, এটি পুরুষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। যে সমাজ পুরুষকে শেখায় ‘কাঁদতে নেই’, ‘দুর্বলতা দেখাতে নেই’, ‘ক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে’—সেই সমাজ একটি বিকৃত পুরুষত্বের ধারণা তৈরি করে। ক্ষমতা প্রমাণের এই চাপ যখন হিংসায় রূপান্তরিত হয়, তখন শিকার হয় রামিসারা।

নারীবাদী তাত্ত্বিকরা বলেন, ধর্ষণ ‘যৌন সুখের’ জন্য নয়—এটি ‘আধিপত্য প্রতিষ্ঠার’ হাতিয়ার। এ কারণেই বিভিন্ন সংঘর্ষে, যুদ্ধে, দাঙ্গায় ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই বয়স্কা নারী থেকে শুরু করে সাত বছরের শিশু পর্যন্ত সবাই শিকার হতে পারে—কারণ এখানে ‘যৌন আকর্ষণ’ বিষয়টা গৌণ, মূল বিষয় হলো ক্ষমতার চর্চা।

তবে একটি কথা স্পষ্ট করা দরকার: এই বিশ্লেষণ কোনোভাবেই পুরুষদের সামগ্রিকভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করার জন্য নয়। বরং এটি সেই কাঠামোকে প্রশ্ন করছে যা নির্দিষ্ট ধরনের সহিংসতাকে সম্ভব করে তোলে এবং সেই কাঠামো ভাঙতে পুরুষদেরও সমান ভূমিকা আছে, বরং বলা যায় পুরুষদের ভূমিকাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বারের আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা সোহেলের পক্ষে মামলা লড়বেন না। এটি একটি প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—সমাজের একটি অংশ যখন বলে ‘এই অপরাধকে আমরা স্বাভাবিক করব না’, তখন সেটি একটি শক্তিশালী বার্তা।

কিন্তু আইনজীবীদের এই প্রতিবাদের চেয়েও জরুরি হলো সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন। যতদিন না আমরা পরিবারে, চায়ের দোকানে, বন্ধুমহলে—যেখানে নারীকে নিয়ে অবমাননাকর কথা বলা হয়, যেখানে ধর্ষণের রসিকতা করা হয়—সেখানে প্রতিবাদ করতে শিখব, ততদিন রামিসার মৃত্যু থেকে আমরা কোনো শিক্ষা নেইনি।

প্রতিবাদ ও তার সীমাবদ্ধতা

রামিসার হত্যার পর সারাদেশে প্রতিবাদ হয়েছে। মানববন্ধন হয়েছে। থানা ঘেরাও হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল হয়েছে।

এই ক্ষোভ স্বাভাবিক। এই ক্ষোভ প্রয়োজনীয়। কিন্তু আমাদের ইতিহাস বলছে, এই ক্ষোভ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিছুদিন পর আরেকটি খবর আসে, আমরা সেই খবরে মনোযোগ দিই, এবং রামিসারা ধীরে ধীরে বিস্মৃত হয়।

এই বিস্মৃতির সংস্কৃতিই হলো সবচেয়ে বড় অপরাধ। মনুষ্যত্বের দাবিদার একটি সমাজ কি পারে প্রতি মাসে ৩২ জন শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে? পারে কি যখন জানি যে এই মামলার ৭০ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে যাবে?

আমরা কী করতে পারি

এই প্রশ্নের উত্তর কেবল রাষ্ট্রের কাছে নেই—উত্তর আমাদের নিজেদের কাছেও আছে।

পরিবারে: ছেলেশিশুদের শেখাতে হবে যে নারীর শরীর তার নিজের, কারো সম্পত্তি নয়। সম্মান ও সমতার শিক্ষা শুরু হয় ঘর থেকে। মেয়েদের ‘নিরাপদে থাকতে’ শেখানোর পাশাপাশি ছেলেদেরও শেখাতে হবে সীমারেখা মানতে।

বিচারব্যবস্থায়: ধর্ষণ ও শিশু হত্যার মামলায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সাক্ষীদের সুরক্ষা দিতে হবে। ৩ শতাংশের সাজার হার একটি জাতির জন্য লজ্জার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে: লিঙ্গ সমতার শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শুধু নৈতিক বক্তৃতা নয়, বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

গণমাধ্যমে: ধর্ষণের ঘটনাকে সেনসেশনালাইজ না করে কাঠামোগত কারণ নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। ভিকটিমের পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

রামিসা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

রামিসা আক্তার পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল। সে স্বপ্ন দেখছিল। সে বাঁচতে চেয়েছিল।

আজ রামিসার সহপাঠীরা কাঁদছে। তার বাবা মেয়ের স্কুলের ক্লাসরুমে গিয়ে ভেঙে পড়েছেন। একটি দেশ শোকে মুহ্যমান। কিন্তু শোক যদি পরিবর্তনে পরিণত না হয়, তবে তা শুধু অশ্রু হয়েই থেকে যায়।

আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—রামিসার মৃত্যু কি শুধু একটি খবর, নাকি একটি জাগরণ? আমরা কি শুধু আইনের পরিবর্তন চাইব, নাকি সমাজের মূল কাঠামোয় প্রশ্ন তুলব?

বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের মেয়েরা কি নিজের ঘরের পাশের ফ্ল্যাটে যেতে ভয় পাবে? নাকি আমরা তাদের জন্য এমন একটি সমাজ গড়তে পারব যেখানে তারা ভয় ছাড়া বাঁচতে পারবে, স্বপ্ন দেখতে পারবে?

রামিসার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। তার নীরব আর্তনাদ আমাদের বিবেকের কাছে পৌঁছাক।

  • মাশিয়াত নূর প্রাপ্তি: শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সম্পর্কিত