গাংনীতে শিশুর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

‘ছেলেকে এই এতিমখানায় দেওয়া আমার ঠিক হয়নি’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মেহেরপুর

গাংনী এতিমখানা। সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের গাংনীতে একটি এতিমখানায় হাসাইন আলী (৯) নামে এক আবাসিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। এতিমখানার ভেতর একা থাকার সময় তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পাশে রক্ত ছিল জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে চিকিৎসক জানায়, সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে গাংনী এতিমখানায় এই ঘটনায় ঘটে। এর পাশাপাশি সেখানে মাদ্রাসা কার্যক্রমও চলে। এতিমখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসাইন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করত।

হাসাইন গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আযান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে। সে ছাড়াও তার জমজ ভাই হুসাইন আলী সেখানে পড়ালেখা করে। প্রায় ছয় মাস আগে তাদের মা মারা গেছেন। বিপ্লব বলেন, ‘ছেলেকে এই এতিমখানায় দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। কীভাবে আমার ছেলের মৃত্যু হলো, আমি জানি না।’

এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এতিমখানার নিজস্ব জমিতে আগাছা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। সে সময় হুসাইন সিঁড়ির ওপরে বসে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এক ছাত্র রুমে ফিরে তাকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার শরীরের পাশে রক্ত দেখতে পেয়ে সে দ্রুত তাঁকে ও বাবুল হুজুরকে খবর দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বলে, হুসাইন ভালো ছেলে। কারও সঙ্গে ঝামেলায় ছিল না। তার চলাচল একটু এলোমেলো ছিল। তার মৃত্যুর পর তাদেরও এতিমখানায় থাকতে ইচ্ছে করছে না।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাসাইন ও হুসাইন দুই ভাই গাংনী এতিমখানার শিক্ষার্থী। হাসাইনের বুদ্ধি কিছুটা কম, কথাও কম বলতে পারে। সে তার শয়নকক্ষে শুয়ে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

তবে এতিমখানার সহকারী শিক্ষক তাওহিদুল ইসলাম জানান, সকালে হুসাইন ঘরের মধ্যে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহবুব নয়ন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নয়ন বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়।’

তবে শিশুটির মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলে চিকিৎসকদের মনে হয়েছে। পরে খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর মর্গে পাঠায় গাংনী থানা-পুলিশ।

শিশুর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ময়নাতদন্তে যদি অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। কোনো অপরাধী থাকলে তার শাস্তি হোক।’

এদিকে শিশুর মৃত্যুর পর এতিমখানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। তারা বলেন, মাঠ পরিচ্ছন্নতার সময় ৯ বছরের শিশুকে ভবনে একা রেখে যাওয়া ঠিক হয়নি। সেখানে তাকে উদ্ধারের সময় পাশে রক্ত পাওয়া বিষয়ে প্রশ্ন তুলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যদি কোনো অস্বাভাবিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়, সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত