শরিকদের সঙ্গে বসছেন প্রধানমন্ত্রী, দূরত্ব ঘোচানো নাকি নতুন বার্তা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্ট্রিম গ্রাফিক

সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শরিক দলগুলোর দেড় শতাধিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে এই বৈঠক নিয়ে শরিকদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে শরিকদের দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি, নাকি কেবল সৌজন্য সাক্ষাতে সীমাবদ্ধ থাকবে এই বৈঠক– তা নিয়ে আলোচনায় চলছে। তবে শরিকদের আগ্রহ– বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী তাদের কী বার্তা দেন, তা জানার।

শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বড় পরিসরের এমন বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার সুযোগ সীমিত থাকে।

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘দাওয়াতপত্রে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ উল্লেখ রয়েছে। টুকটাক আলোচনা হয়তো হবে। প্রতিটি দল থেকে পাঁচজন করে আমন্ত্রণ জানানোয় অনেক লোক হবে। ফলে এই ধরনের বড় বৈঠকে সিরিয়াস রাজনৈতিক আলাপের সুযোগ খুব একটা থাকে না। তারপরও আমার ধারণা, কিছু আলাপ-আলোচনা হবে।’

বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে চারটি জোটসহ নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলে ৪০টির মতো রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল। নির্বাচনের সময় শরিকদের মধ্যে ১১টি দলকে ১৬টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। সরকার গঠনের পর শরিকদের থেকে দুজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরিক একটি দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা জানিয়েছেন, শরিকদের অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে গত পাঁচ মাসে বিএনপির সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই কারণে হয়তো প্রধানমন্ত্রী সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি ডিনারের আয়োজন করেছেন। সেখানে কোনো আলাপের সুযোগ হবে বলে মনে হয় না। তবে প্রধানমন্ত্রী আলাপ তুললে তারা কিছু বিষয় নজরে আনবেন বলে জানান তিনি।

যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বড় পরিসরের এমন বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার সুযোগ সীমিত থাকে।

এই নেতা বলেন, আলোচনার সুযোগ পেলে আমরা বিগত পাঁচ মাসে সরকারের ভালো দিকগুলো যেমন বলব, তেমনি খারাপ বিষয়ও নজরে আনব। রাজনৈতিক দিক থেকেও সরকার পিছিয়ে পড়েছে। জামায়াতকে ছাড় দেওয়া থেকে আইনশৃঙ্খলা ও জানমালের নিরাপত্তায় দুর্বলতাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব।

শরিক দলের নেতারা বলছেন, আলোচনা হলে নির্বাচনের আগে শরিকদের বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে কিনা, তা তোলা হবে। বিএনপিই নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছে। সেটি করতে গেলে তো রেইনবো সরকার লাগবে, সেটি তো এখনো হয়নি। তারা জাতীয় সরকারের কথা বলেছিল, তা এখনো আছে কিনা, প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচনা হবে। পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু তোলা হবে।

তারা আরও বলছেন, সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে সরকারকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরিক আরেকটি দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, শরিকদের সঙ্গে সরকার তাদের সম্পর্ক এখানে শেষ করবে নাকি সেটিকে ভবিষ্যতেও চালিয়ে নেবে– এগুলো আলোচনায় আসবে। বিএনপির ২০২২ সাল থেকে জাতীয় সরকারের কথা বলে আসছিল। কিন্তু সরকারে শরিকদের থেকে দুজনকে মন্ত্রী করলে তো সেটা জাতীয় সরকার হয়ে যায় না। এছাড়া সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এটাও নজরে আনা হবে।

জাতীয় দলের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগদান করেন। এই বৈঠকে তাঁকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সৈয়দ এহসানুল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছেন। আমরা যাব। যাওয়ার পর কী ধরনের আলোচনা হবে, তখন আসলে বলতে পারব।’

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক জোট ছিল গণতন্ত্র মঞ্চ। জোটটির শরিক দলগুলোর মধ্যে নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাউকে প্রার্থী করেনি বিএনপি। এই নিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শরিকদের বৈঠকে দল দুটিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জেএসডি বিএনপিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না।

গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘বৈঠকে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলে আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরা হবে।’

বিএনপির নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাদের সরাসরি অবহিত করাও এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি শরিকদের মতামতগুলো ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক জোট ছিল গণতন্ত্র মঞ্চ। জোটটির শরিক দলগুলোর মধ্যে নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাউকে প্রার্থী করেনি বিএনপি। এই নিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শরিকদের বৈঠকে দল দুটিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে জেএসডি ইতোমধ্যে বিএনপিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না। অন্যদিকে, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য বৈঠকে অংশ নেবে কিনা, সে বিষয়ে রোববার (১৯ জুলাই) রাত ১০টা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে বগুড়ায় আছি। আমরা এখনো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেব কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিইনি।’

জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জানান, তাদের দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবে না। চিঠি দিয়ে তা জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট জাতীয় অবস্থান এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে ওঠার আগে বিএনপির সঙ্গে পৃথক রাজনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, অগ্রাধিকার এবং জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার সম্পর্কে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব হলো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রাখা। এই বিবেচনায় জেএসডি এই মুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত