সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশে পাঁচ মাস কম সময় নয়

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ২২: ১১
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিএনপি সরকারের পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র আন্তরিকতা ও সাফল্যের সঙ্গে সরকারের দায়িত্ব পালনের যে বিবরণ দিয়েছেন, সে বিষয়ে কেউ শতভাগ একমত কিংবা ভিন্নমত হবেন না।

দেশে একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে এবং তারা গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনায় সচেষ্ট, এটি অবশ্যই বড় অগ্রগতি। তাছাড়া সরকারটি এসেছে পাঁচ বছরের জন্য। এ অবস্থায় মাত্র পাঁচ মাসে তার কাজের মূল্যায়নে অনেকেই অনাগ্রহী হবেন। আর তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার যে পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে, সেটা অভূতপূর্ব বৈকি। অর্থনৈতিক দিক থেকেও সময়টা চ্যালেঞ্জপূর্ণ। আঞ্চলিক আর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ঘোলাটে।

এ অবস্থায় নবীন ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ে গঠিত একটি সরকারের পক্ষে দায়িত্ব পালন কঠিন, এটি মানুষের বিবেচনায় রয়েছে। তবে দেশ পরিচালনায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের জন্য পাঁচ মাস কম সময়ও নয়। জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার কতখানি সচেষ্ট, তার স্বাক্ষর রাখাটাও এটুকু সময়ে কঠিন নয়। সরকার যেহেতু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত, তাই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা কতখানি উদ্যোগী, সেটা স্পষ্ট করার অবকাশও এর মধ্যে ছিল বলে মনে হয়।

বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে, এটাও অনস্বীকার্য। গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশ পাওয়া প্রত্যাশা পূরণও বড় এজেন্ডা হিসেবে সামনে রয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের তরফ থেকে ঘোষিত সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রশ্নও রয়েছে বৈকি। অন্তর্বর্তী শাসনামলে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথাও সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে। এইসব সময়সাপেক্ষ বাস্তবায়নের বিষয়ের পাশাপাশি নিয়মিত দায়িত্ব পালনে সরকার কতটা আন্তরিক, সেটিও জনগণ দেখতে চাইবে।

নিত্যদিনের কাজে সুশাসন এত গভীরভাবে প্রত্যাশিত যে, অনেক সময় সেটি পালনে সরকারকে উদ্যোগী দেখলেই মানুষ খুশি হয়ে যায়। নির্বাচিত সরকারের আমলেও এদেশের মানুষ সুশাসনের দেখা পেয়েছে কম। এমনও হয়েছে, এর তীব্র অভাবের মধ্যে মানুষ অপেক্ষা করে থাকত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। জনপ্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে এ ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে নির্বাচিত সরকারকেই। সীমিত সাধ্যে সব রকম প্রত্যাশা পূরণ অবশ্য কঠিন। তবে এদেশের মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অপূর্ণ কিছু প্রত্যাশা পূরণ হলেই তারা খুশি হয়ে যায়। জনগণ প্রথমত চায় জান-মালের নিরাপত্তা; অতঃপর কাজের সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার নিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে তারা একটি স্বাভাবিক জীবন লাভের আশায় থাকে। সরকারের কাছ থেকে এ ক্ষেত্রে তারা কেবল চায় আন্তরিক সহায়তা। আর সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তারা দেখতে চায় এর স্বীকারোক্তি। এটুকু অগ্রগতি দেখলেই মানুষ আশায় বুক বাঁধবে; অপেক্ষা করতেও রাজি হবে।

সরকারের ১৮০ দিন অর্থাৎ ছয় মাসে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু অঙ্গীকারও রয়েছে। সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও মানুষ সহজভাবে নেবে, যদি দেখে নানা সীমাবদ্ধতায়ও সরকার তার কাজে আন্তরিক। অতিক্রান্ত পাঁচ মাসে নতুন বাজেট বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়নও সহজ ছিল না। ইরান যুদ্ধে পরিস্থিতি অনেকখানি বদলে গেছে, সন্দেহ নেই। বিগত সময়ে সৃষ্ট সংকট এবং অনিষ্পন্ন কাজের কারণেও কিছু বাড়তি জটিলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। এটা জনগণ বোঝে না, তাও নয়। তবে তারা দেখতে চায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নীতিনিষ্ঠ ও দৃঢ় পদক্ষেপ। সাফল্যের পাশাপাশি সরকার নিজে থেকে তার ব্যর্থতার দিকগুলো তুলে ধরলেও মানুষ খুশি হবে। আর সেটা হবে সরকারের স্বচ্ছতার পরিচায়ক।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত