বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ২১: ২৯
ঝিনাইদহ শহরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অসমাপ্ত ভাস্কর্য। স্ট্রিম ছবি

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে, নাকি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বুধবার নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য ভাঙার কাজ গত ১৩ জুলাই শুরু হয়। তবে কার নির্দেশে এটি অপসারণ করা হচ্ছে, তা প্রশাসনের কেউ জানাতে পারেনি।

সভার পরে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গণমাধ্যমে ভাঙা নিয়ে খবর প্রকাশের আগে আমি জানতাম না এটা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর বা ভাস্কর্য। আকার-আকৃতি দেখেও বোঝার উপায় ছিল না। চত্বরের নির্মাণকাজ শুরুর পরপরই স্থানীয়দের আপত্তির মুখে স্থগিত রাখা হয় বলে জানতে পেরেছি। পরে ভাস্কর্যটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের– জানার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙার কাজ স্থগিত করেছি।

ঘটনার কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, অতীতের কোনো কথায় আর যেতে চাই না। এই বিষয়ে মন্তব্যও করব না। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহের শ্রেষ্ঠ সন্তান, তিনি সারা দেশের গর্ব।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ’ নামে ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এই বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলাপ করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী বুধবার। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হবে। কোন জায়গায় এটি নির্মিত হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

সরেজমিন রোববার দুপুরে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত রয়েছে। চত্বরে ভাস্কর্যের বিভিন্ন ভাঙা অংশ পড়ে রয়েছ। বেদির ভাঙা অংশ থেকে ঢালাইয়ের লোহা বের হয়ে আছে। সেখানে কোনো শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি।

২০১৯ সালে পৌরসভার উদ্যোগে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা লিংক সড়কে ৩০ ফুট উচ্চ ও ১০ ফুট প্রস্থের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। কয়েক বছর পার হলেও অজ্ঞাত কারণে ভাস্কর্যটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হয়নি।

এর মধ্যে দুই দফা মেয়র পরিবর্তন এবং দুই দফা প্রশাসক নিয়োগ হলেও চত্বরের কাজ শেষ হয়নি। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাস্কর্যের সম্পূর্ণ আকৃতি ছিল না।

২০১২ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র থাকাকালে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরে হামলায় দেশের বিভিন্ন স্থাপনার মতো বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত