বলপয়েন্ট থেকে নিউইয়র্কের নীল আকাশ: হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনের দিনলিপি

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ২৩: ১০
স্ট্রিম গ্রাফিক

“পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে।

শ্রাবণ মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে।

সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না।

কোনো মানে হয়... ”

মৃত্যু নিয়ে এমনই ছিল নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ভাবনা। ‘প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে’ বলেই হয়ত এক শ্রাবণের রাতেই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। তাঁর লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থগুলোতে কখনো গেয়েছেন জীবনের জয়গান, কখনো মজার স্মৃতিগুলোকে বাক্সবন্দী করেছেন আবার কখনো লিখেছেন মৃত্যুর রহস্যময়তা নিয়ে।

হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন যেমন বর্ণাঢ্য, ব্যক্তিজীবনও সব সময় ছিল আলোচনায়। তিনি কোন সময়কে নিয়ে লিখছেন তার ওপর নির্ভর করে বদলে গেছে বইয়ের বিষয়বস্তু আর স্মৃতিগুলোও। যেমন ‘আমার ছেলেবেলা’ তাঁর শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক জীবন এবং বেড়ে ওঠার গল্প নিয়ে রচিত। আবার ‘রং পেন্সিল’ বইয়ে জীবনের টুকরো টুকরো আনন্দময় স্মৃতি লিখেছেন। ‘কাঠ পেন্সিল’, ‘ফাউনটেনপেন’ (১ ও ২), ‘বলপয়েন্ট’, ‘হোটেল গ্রেভার ইন’, ‘অনন্ত অম্বরে’ আর ‘আমার আপন আঁধার’ বইয়ে উঠে এসেছে লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের নানান অনুভূতি, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর দর্শন। তাঁর সর্বশেষ আত্মজীবনীমূলক বই ছিল ‘নিউ ইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ’। ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর নিউ ইয়র্কে বসে এই বই লিখেছেন তিনি।

‘আমার বাবা ছিলেন একজন ‘দুঃখী বলপয়েন্ট’’

২০১১ সালে প্রকাশিত হয় হুমায়ূন আহমেদের ‘বলপয়েন্ট’ বইটি। এই বই তিনি উৎসর্গ করেন ছেলে নিষাদ হুমায়ূনকে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বাবাকে সে খুব বেশিদিন কাছে পাবে বলে মনে হচ্ছে না। যদি কোনো বিষণ্ণ চৈত্রের দিনে বাবার কথা তার জানতে ইচ্ছা করে, তখন এই বই সে পড়বে। এবং সে নিশ্চয়ই বলবে, আমার বাবা ছিলেন একজন ‘দুঃখী বলপয়েন্ট’!’

সেখানে তিনি লেখালেখিকে ‘এক নিঃসঙ্গ যাত্রা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘লেখালেখি এক নিঃসঙ্গ যাত্রা। বলপয়েন্টে সেই নিঃসঙ্গ যাত্রার কথা বলার চেষ্টা করেছি।’

এই বইয়ের প্রথমাংশে রবীন্দ্রনাথের কবিতা শেখার স্মৃতি নিয়ে বলেছেন। হুমায়ূন আহমেদ খুব ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এবার ফেরাও মোরে’ আবৃত্তি করেছেন স্কুলের এক অনুষ্ঠানে। তাঁর কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁর হাতে তুলে দেন বিশালাকার ‘ইংলিশ টু বেঙ্গলি ডিকশনারি’। তিনি লিখেছেন, ‘আমার চোখে পানি আসার উপক্রম হলো। ডিকশনারি দিয়ে আমি কী করব? অন্যরা কত সুন্দর সুন্দর পুরস্কার পেয়েছে- গল্পের বই, থালাবাটি, চায়ের কাপ। আর আমার হাতে কিনা ডিকশনারি?’

শৈশবের মধুর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলেই হয়ত হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন নাটক উপন্যাসে আমরা স্কুলের শিক্ষকদের ডিকশনারির প্রতি বিশেষ ভালোবাসা দেখতে পাই।

লেখালেখির পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন অনেকদিন। এর আগে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করলাম। ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কোনো অর্জন নেই। সবই বিসর্জন। ছোট্ট একটা অর্জন আছে—এক বর্ষার রাতে ‘সৌরভ’ নামে একটা ছোটগল্প লিখেছিলাম। গল্পটা বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল। সৌরভ আমার লেখা প্রথম ছোটগল্প, যা হারিয়ে যায়নি। ছফা ভাইয়ের পত্রিকায় ছাপা হওয়া গল্পটার এখন কোনো অস্তিত্ব নেই।’

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আহমদ ছফার একসময় দারুণ সুসম্পর্ক ছিল। বলপয়েন্টে প্রকাশিত একটা লেখার অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি আমার যৌবনে হন্টন পীরের মতো একজনকে পেয়েছিলাম। আমরা দলবেঁধে তাঁর পেছনে হাঁটতাম। তিনি যদি কিছু বলতেন মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। গভীর রাতে নীলক্ষেত এলাকায় তিনি হাঁটতে হাঁটতে আবেগে অধীর হয়ে দুই হাত তুলে চিৎকার করতেন। ‘আমার বাংলাদেশ! আমার বাংলাদেশ!’

আমরা গভীর মুগ্ধতায় তাঁর আবেগ এবং উচ্ছ্বাস দেখতাম। তাঁর নাম আহমদ ছফা। আমাদের সবার ছফা ভাই।

ছফা ভাই ছিলেন আমার Mentor. এই ইংরেজি শব্দটির সঠিক বাংলা নেই। Mentor এমন গুরু যার প্রধান চেষ্টা শিষ্যকে পথ দেখিয়ে উঁচুতে তোলা। ছফা ভাই শুধু যে একা আমার Mentor ছিলেন তা না, অনেকেরই ছিলেন।’

ভালবেসে যদি সুখ নাহি, তবে কেন মিছে ভালবাসা?

‘হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস’ বইটি তাঁর প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খানকে উৎসর্গ করে তিনি লিখেছিলেন, ‘ভালবেসে যদি সুখ নাহি তবে কেন, তবে কেন মিছে ভালোবাসা.......গুলতেকিনকে’

১৯৮৯ সালে প্রকাশিত ‘হোটেল গ্রেভার ইন’ বইটিতে বিভিন্ন স্মৃতিকথায় উঠে এসেছে তাঁর প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খানের কথা। বইয়ের শুরুর দিকে তিনি লিখেছেন, ‘দেশে সতেরো বছর বয়সী আমার স্ত্রীকে ফেলে এসেছি। তার শরীরে আমাদের প্রথম সন্তান। ভালোবাসাবাসির প্রথম পুষ্প। ঢাকা এয়ারপোর্টে আরও অনেকের সঙ্গে সে-ও এসেছিল। বিদায়ের আগ মুহূর্তে সে বললো, আমাদের প্রথম বাচ্চার জন্মের সময় তুমি পাশে থাকবে না?

আমার চোখে প্রায় পানি এসে যাবার মতো অবস্থা হলো। ইচ্ছে করল টিকিট এবং পাসপোর্ট ছুঁড়ে ফেলে তার হাত ধরে বলি—চলো, বাসায় যাই। অল্প কিছুদিন আমাদের আয়ু। এই অল্পদিনের জন্যে আমাদের মতো আয়োজন—পাস, ডিগ্রি, চাকরি, প্রমোশন, টাকা-পয়সা, বাড়িঘর-কোনো মানে হয়? কোনোই মানে হয় না।’

হুমায়ূন আহমেদের লেখার এই অংশটুকু যদি কোনো উপন্যাসের অংশ হতো, সেখানে আমরা হয়ত দেখতাম, স্বামীটি তাঁর স্ত্রীকে ফেলে চলে যাননি। চাকরি, খ্যাতি, ব্যস্ততা আর বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে লেখক পরম মমতায় হাত রাখছেন স্ত্রীর হাতে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের মতো জনপ্রিয় লেখকও জীবনের ‘সকল কাঁটা ধন্য’ করতে পারেননি।

ওই বইয়ে তিনি আরও লিখছেন, ‘অনেক রাতে স্ত্রীকে চিঠি লিখতে বসলাম। সেই চিঠিটা খুব অদ্ভুত ছিল। কারণ চিঠিতে তুষারপাতের একটা বানানো বর্ণনা ছিল। তুষারপাত না দেখেই আমি লিখলাম—আজ বাইরে খুব তুষারপাত হচ্ছে। রাস্তাঘাট ঢেকে গেছে সাদা বরফে। সে যে কি অপূর্ব দৃশ্য তুমি না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবে না। আমি হোটেলের জানালার কাছে বসে-বসে লিখছি। তুমি পাশে থাকলে দুজন হাত ধরাধরি করে তুষারের মধ্যে দাঁড়াতাম।’

হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ২০০৪ সালের ৬ জুন। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের সংসারজীবনের ইতি ঘটে। ২০০৫ সালে বিয়ে করেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে।

‘তিনি হুমায়ূন আহমেদ টাইপ বাজারি লেখকদের বই ছেপে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন’

সাধারণ পাঠকদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা যেমন আকাশচুম্বী, ঠিক তেমনি তাঁর সমালোচনাও রয়েছে অনেক। সাহিত্যসমালোচক মহলে তাঁকে ‘বাজারি লেখক’ বলার প্রচলন ছিল। এ বিষয়ে লেখক নিজেও ওয়াকিবহাল ছিলেন। তাঁদের জবাব দিয়েছেন ‘ফাউন্টেনপেন’ বইয়ে।

সেখানে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, ‘আমি যে ফ্ল্যাটে থাকি, তার পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন মাজহারুল ইসলাম, অন্যপ্রকাশের মালিক। তিনি হুমায়ূন আহমেদ টাইপ বাজারি লেখকদের বই ছেপে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন। তার স্টলের সামনে নাকি ভিড় লেগে থাকে। অপরিপক্ক তরুণ-তরুণীরা মাছির মতো ভিড় করে বাজারি লেখকদের বই কিনতে চায়।

আমার চোখে প্রায় পানি এসে যাবার মতো অবস্থা হলো। ইচ্ছে করল টিকিট এবং পাসপোর্ট ছুঁড়ে ফেলে তার হাত ধরে বলি—চলো, বাসায় যাই। অল্প কিছুদিন আমাদের আয়ু। এই অল্পদিনের জন্যে আমাদের মতো আয়োজন—পাস, ডিগ্রি, চাকরি, প্রমোশন, টাকা-পয়সা, বাড়িঘর-কোনো মানে হয়? কোনোই মানে হয় না।’

ভালো কথা, বাজারি লেখক বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা দরকার। বাজারি লেখক মানে তুচ্ছ লেখক। তেল-সাবান-পেঁয়াজ-কাঁচামরিচ বিক্রেতা টাইপ লেখক। এদের বই বাজারে পাওয়া যায় বলেও বাজারি। যাঁদের বই বাজারে পাওয়া যায় না, তাঁদের বাড়িতে কার্টন ভর্তি থাকে, তাঁরা মহান লেখক, মুক্তবুদ্ধি লেখক, কমিটেড লেখক, সত্যসন্ধানী লেখক। তাঁদের বেশির ভাগের ধারণা, তাঁরা কালজয় করে ফেলেছেন। এঁরা বাজারি লেখকদের কঠিন আক্রমণ করতে ভালোবাসেন। তাঁদের আক্রমণে শালীনতা থাকে। তাঁরা সরাসরি কখনো আমার নাম নেন না। তবে বুদ্ধিমান পাঠকরা বুঝে ফেলেন কাকে ধরা হচ্ছে। এরা সৎসাহিত্য থেকে বঞ্চিত।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘কালজয়ী এসব মহান লেখকের সঙ্গে মাঝে মাঝে আমার দেখা হয়ে যায়। বেশির ভাগ দেখা হয় দেশের বাইরের বইমেলায়। আমার সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে তাঁরা কিছুটা বিচলিত বোধ করেন। কেন করেন তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। এমন একজনের সঙ্গে কথোপকথনের নমুনা:

কালজয়ী: কেমন আছেন?

আমি: জি ভালো।

কালজয়ী: ইদানীং কিছু কি লিখছেন?

আমি: একটা সস্তা প্রেমের উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছি। যতটা সস্তা হওয়া দরকার ততটা সস্তা হচ্ছে না বলে অস্বস্তিতে আছি। আপনার দোয়া চাই যেন আরেকটা সস্তা লেখা লিখতে পারি।

কালজয়ী: (গম্ভীর)

আমি: আপনি কি মহান কোন লেখায় হাত দিয়েছেন?

কালজয়ী: আপনার রসবোধ ভালো। আচ্ছা পরে কথা হবে।’

‘দীর্ঘ ভ্রমণ চমৎকারভাবে শেষ করে সে মৃত’

হুমায়ূন আহমেদের শেষ আত্মজীবনীমূলক বই ‘নিউ ইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ’। ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে থাকাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি নিয়ে লিখেছেন বইটিতে।

হুমায়ূন আহমেদ যতই মৃত্যুর পথে পা বড়ান, মৃত্যুই হয়ে ওঠে তাঁর আলোচনা কিংবা রসিকতার বিষয়বস্তু। তিনি বইয়ের শুরুতেই লিখেছেন, ‘পুত্র নিষাদকে পাশে নিয়ে স্যুটকেস খুললাম। আমাদের দুজনকে চমকে দিয়ে স্যুটকেস থেকে একটা তেলাপোকা বের হলো। অসম্ভব প্রাণশক্তির এই পোকা বাংলাদেশ থেকে চলে এসেছে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। তেলাপোকাটা আমার দিকে সামান্য এগিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। তার পাগুলো শূন্যে, পাখা মেঝেতে। কিছুক্ষণ পা নেড়ে সে স্থির হয়ে গেল। দীর্ঘ ভ্রমণ চমৎকারভাবে শেষ করে সে মৃত।’

তাঁর এই বইয়ে ঘুরেফিরে বারবার মৃত্যুর কথা এসেছে। যেন লেখক বইটি লিখেছেনই মৃত্যুর জন্য অপেক্ষার সময়টা সুন্দর করতে। এই বইয়ের একটি অংশ প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়। তা হলো, ‘আমার ডাক্তারের নাম স্টিফান আর ভেচ…তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের সব কাগজপত্র পরীক্ষা করলেন। ওই হাসপাতাল থেকে মূল স্লাইড তলব করলেন। আমি একসময় বললাম, আমার ক্যানসার কোন পর্যায়ের? ডাক্তার বলেন, চতুর্থ পর্যায়ের। ক্যানসার যখন মূল কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আমরা তাকে বলি চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার।

আমি ভীত গলায় বললাম, ডাক্তার, আমি কি মারা যাচ্ছি?

ডাক্তার ভেচ নির্বিকার গলায় বললেন, হ্যাঁ।

শাওনের দিকে তাকিয়ে দেখি, সে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। আমি ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম।

মারা গেলে করার তো কিছু নেই। কে সারা সারা!

ডাক্তার ভেচ হঠাৎই আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, তুমি একা তো মারা যাচ্ছ না। আমরা সবাই মারা যাচ্ছি। এই কারণে বললাম তুমি মারা যাচ্ছ। তবে খুব দ্রুত যে মারা যাবে, সে রকম মনে হচ্ছে না।’

কিন্তু সেই চিকিৎসকের বলা কথা সত্যি হয়নি। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হুমায়ূন আহমেদ।

চেয়েছিলেন, ‘চাঁদনি পসর রাইতে’ যেন তাঁর মরণ হয়। সেদিন আমেরিকার আকাশে চাঁদনি পসর ছিল কিনা জানা যায় না। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ তাঁর অসংখ্য পাঠকের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে যাত্রা করেছেন অপূর্ব লীলাময় অলৌকিক কোনো ভুবনে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত