স্ট্রিম সংবাদদাতা

ঢাকার বাইরে পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। রাজশাহীতে ডেঙ্গু কমলেও বাড়ছে চট্টগ্রামে। আবার রংপুরে চলতি বছর কারও মৃত্যু না হলেও ছোট বিভাগ ময়মনসিংহে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচজন।
এদিকে বরিশালে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হওয়ায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে এসব বিভাগে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর—এডিস মশার ঘনত্ব, ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি এবং আক্রান্ত মানুষের চলাচল। বর্ষা মৌসুম আগেভাগে শুরু হওয়ায় জুন থেকেই বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, মশা, ভাইরাস ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি হলেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে। মশার বংশবিস্তার রোধ করা গেলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ডেঙ্গুও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। দেশের যেকোনো এলাকার ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।
রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত গত ৬ মাসে ৪৩৪ জন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪১৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন তিনজন। বর্তমানে ১৭ জন রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ হরিষ চন্দ্র প্রামানিক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
হরিষচন্দ্র জানান, বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮২ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে সিরাজগঞ্জে। এছাড়া রাজশাহীতে তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২, নওগাঁয় ২০, নাটোরে ১৮, জয়পুরহাটে ২ ও বগুড়ায় ১০ জন রোগী ভর্তি হন। এর বাইরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৭৩ জন, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪৪ জন ও সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন ভর্তি হন।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১৭ জন রোগীর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন, সিরাজগঞ্জে ১, পাবনায় ৩, রামেক হাসপাতালে ৪ ও এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন রয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম। রোগী দিনে দিনে আরও কমছে। ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের আপাতত কোনো কারণ নেই। তারপরও রোগী বাড়লে আমাদের প্রস্তুতি আছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পিরোজপুরে ৫৩১ জন, ঝালকাঠিতে ৪৪০ ও বরগুনায় ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একমাত্র মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরে।
বরিশাল জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬১ জন, পটুয়াখালীতে ২৯৬ এবং ভোলায় ৭৪ জন। বিভাগীয় সদর হাসপাতাল হিসেবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনও ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। একইভাবে পিরোজপুরে এখনো ৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে বরিশালে বরাবরই ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ২০১৯ সালে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেই বছর আক্রান্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে মারা যান ১৮ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত ৩৮ হাজার ৬৪ জনের মধ্যে ২০৯ জন, ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৪৫৭ জনের মধ্যে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ২১ হাজার ৫৫১ জনের মধ্যে ৫০ জন ডেঙ্গুতে মারা যান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে জীবাণু স্থানান্তরিত হতে পারে। পরিবেশগত কারণেই ছোট একটি জেলা ঝালকাঠীতে এবার ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তার পার্শ্ববর্তী বিশাল আয়তনের পিরোজপুর জেলা এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর রোগী ও মৃত্যুতে শীর্ষে অবস্থান করছে। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দুটি জেলার পরিণতি বরগুনার মতো হতে পারে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, বর্ষার মূল সময় এখনো বাকি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখতে হবে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জোরালো ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে চলতি বছরের শুরু থেকে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৬ জন, বেসরকারিতে ১৪১ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৯৮ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন ৯ জন ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। একইভাবে কক্সবাজারে নতুন ৫ জন ভর্তি হওয়ায় ১০ জনে ও বান্দরবানে ৭ জন বাড়ায় ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। খাগড়াছড়িতে নতুন ৪ জনের রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় একজন করে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় তিন জেলায় বর্তমানে মোট ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বর্ষা মৌসুম আগেভাগে শুরু হওয়ায় জুন থেকেই বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালের শতাধিক চিকিৎসক ও শতাধিক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি কুমিল্লা এবং পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে ডা. রাব্বি বলেন, এসব এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর ৫ জনের মৃত্যু হলো। এসব তথ্য নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পার্সন মোস্তফা ফয়সাল রাহাত বলেন, হাসপাতালে এখনো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হয়নি। আপাতত মেডিসিনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীগুলো ভর্তি আছে।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ জন, মার্চে ১১ জন, এপ্রিলে ৯ জন, মে মাসে ২০ জন এবং জুন মাসে ৫৩ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে এক রোগী এবং চলতি জুন মাসে আরও ৩ রোগীর মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, আমরা বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই এ বিষয়ে কথা বলেছি। এডিস মশা নিধনের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সেই সঙ্গে প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য স্থাপনাগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং পানি যাতে জমে না থাকে সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য যে কীট প্রয়োজন তা প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত রয়েছে, একইসঙ্গে স্যালাইনও যথেষ্ট রয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৫ জন। তবে কোনো মৃত্যু নেই।
এদিকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভর্তি হয়েছে ১৪ জন। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ২ ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালে ৫, ঠাকুরগাঁও ৩, নীলফামারী ৩ ও রংপুরে একজন রয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপপরিচালক ওয়াজেদ আলী বলেন, রংপুরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। যেহেতু এই সময়ে প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই বিভাগীয় মিটিংয়ে আলোচনা করেছি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা পানি ডোবায় যেন মশার লার্ভা জন্ম নিতে না পারে, সে ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে প্রকোপ দেখা দিলে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

ঢাকার বাইরে পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। রাজশাহীতে ডেঙ্গু কমলেও বাড়ছে চট্টগ্রামে। আবার রংপুরে চলতি বছর কারও মৃত্যু না হলেও ছোট বিভাগ ময়মনসিংহে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচজন।
এদিকে বরিশালে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হওয়ায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে এসব বিভাগে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর—এডিস মশার ঘনত্ব, ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি এবং আক্রান্ত মানুষের চলাচল। বর্ষা মৌসুম আগেভাগে শুরু হওয়ায় জুন থেকেই বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, মশা, ভাইরাস ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি হলেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে। মশার বংশবিস্তার রোধ করা গেলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ডেঙ্গুও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। দেশের যেকোনো এলাকার ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।
রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত গত ৬ মাসে ৪৩৪ জন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪১৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন তিনজন। বর্তমানে ১৭ জন রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ হরিষ চন্দ্র প্রামানিক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
হরিষচন্দ্র জানান, বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮২ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে সিরাজগঞ্জে। এছাড়া রাজশাহীতে তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২, নওগাঁয় ২০, নাটোরে ১৮, জয়পুরহাটে ২ ও বগুড়ায় ১০ জন রোগী ভর্তি হন। এর বাইরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৭৩ জন, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪৪ জন ও সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন ভর্তি হন।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১৭ জন রোগীর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন, সিরাজগঞ্জে ১, পাবনায় ৩, রামেক হাসপাতালে ৪ ও এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন রয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম। রোগী দিনে দিনে আরও কমছে। ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের আপাতত কোনো কারণ নেই। তারপরও রোগী বাড়লে আমাদের প্রস্তুতি আছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পিরোজপুরে ৫৩১ জন, ঝালকাঠিতে ৪৪০ ও বরগুনায় ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একমাত্র মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরে।
বরিশাল জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬১ জন, পটুয়াখালীতে ২৯৬ এবং ভোলায় ৭৪ জন। বিভাগীয় সদর হাসপাতাল হিসেবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনও ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। একইভাবে পিরোজপুরে এখনো ৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে বরিশালে বরাবরই ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ২০১৯ সালে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেই বছর আক্রান্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে মারা যান ১৮ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত ৩৮ হাজার ৬৪ জনের মধ্যে ২০৯ জন, ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৪৫৭ জনের মধ্যে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ২১ হাজার ৫৫১ জনের মধ্যে ৫০ জন ডেঙ্গুতে মারা যান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে জীবাণু স্থানান্তরিত হতে পারে। পরিবেশগত কারণেই ছোট একটি জেলা ঝালকাঠীতে এবার ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তার পার্শ্ববর্তী বিশাল আয়তনের পিরোজপুর জেলা এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর রোগী ও মৃত্যুতে শীর্ষে অবস্থান করছে। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দুটি জেলার পরিণতি বরগুনার মতো হতে পারে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, বর্ষার মূল সময় এখনো বাকি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখতে হবে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জোরালো ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে চলতি বছরের শুরু থেকে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৬ জন, বেসরকারিতে ১৪১ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৯৮ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন ৯ জন ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। একইভাবে কক্সবাজারে নতুন ৫ জন ভর্তি হওয়ায় ১০ জনে ও বান্দরবানে ৭ জন বাড়ায় ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। খাগড়াছড়িতে নতুন ৪ জনের রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় একজন করে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় তিন জেলায় বর্তমানে মোট ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বর্ষা মৌসুম আগেভাগে শুরু হওয়ায় জুন থেকেই বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালের শতাধিক চিকিৎসক ও শতাধিক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি কুমিল্লা এবং পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে ডা. রাব্বি বলেন, এসব এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর ৫ জনের মৃত্যু হলো। এসব তথ্য নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পার্সন মোস্তফা ফয়সাল রাহাত বলেন, হাসপাতালে এখনো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হয়নি। আপাতত মেডিসিনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীগুলো ভর্তি আছে।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ জন, মার্চে ১১ জন, এপ্রিলে ৯ জন, মে মাসে ২০ জন এবং জুন মাসে ৫৩ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে এক রোগী এবং চলতি জুন মাসে আরও ৩ রোগীর মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, আমরা বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই এ বিষয়ে কথা বলেছি। এডিস মশা নিধনের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সেই সঙ্গে প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য স্থাপনাগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং পানি যাতে জমে না থাকে সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য যে কীট প্রয়োজন তা প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত রয়েছে, একইসঙ্গে স্যালাইনও যথেষ্ট রয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৫ জন। তবে কোনো মৃত্যু নেই।
এদিকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভর্তি হয়েছে ১৪ জন। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ২ ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালে ৫, ঠাকুরগাঁও ৩, নীলফামারী ৩ ও রংপুরে একজন রয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপপরিচালক ওয়াজেদ আলী বলেন, রংপুরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। যেহেতু এই সময়ে প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই বিভাগীয় মিটিংয়ে আলোচনা করেছি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা পানি ডোবায় যেন মশার লার্ভা জন্ম নিতে না পারে, সে ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে প্রকোপ দেখা দিলে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
.png)

বরিশালে শিশু ধর্ষণের মামলায় আলমগীর সিকদার (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু ও তার মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।
৩ মিনিট আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার চীনা দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
১৭ মিনিট আগেমানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সময়ের সঙ্গে পরিণত হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখেই মূল্যায়নে এসেছে পরিবর্তন। কোথাও রয়েছে হতাশা, কোথাও গর্ব, আবার কোথাও সতর্ক আশাবাদ।
২২ মিনিট আগে
নওগাঁর আত্রাইয়ে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আতিকুর রহমান সুজা (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজশাহী জেলার বাগমারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩৫ মিনিট আগে