জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গাছে গাছে মুকুল, স্বপ্ন বুনছেন আমচাষিরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ২৭
রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহ। ভালো ফলন আশা করছেন চাষিরা। স্ট্রিম ছবি

গাছে গাছে মুকুল। ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে। মন উজাড় করা গন্ধে মাতোয়ারা প্রকৃতি। রাজশাহীর চাষিদের মুখেও হাসি। ভালো ফলনের আশায় স্বপ্ন বুনছেন তারা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফাল্গুনের শুরুতেই আমগাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আমের ভালো উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে চাষিরা জানিয়েছেন, গেল দুই মৌসুমে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করলেও পাঠাতে পারেননি। এবারও ভালো ফলনে আশাবাদী। রপ্তানির সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁয় আমবাগানের প্রায় ৬৩ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। ৩০ বিঘা জমিতে আমের বাগান নওগাঁর পত্নীতলার কাটাবাড়ি গ্রামের আমচাষি দেলোয়ার হোসেনের। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘গাছে এবার মুকুলের বাম্পার। জাত ভেদে একেক সময়ে গাছে মুকুল আসে। এবার প্রায় সব গাছে একই সময়ে মুকুল চলে এসেছে।’

সরেজমিন রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান। কোনো কোনো গাছে রয়েছে গুটি। গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। নিয়মিত সেচ দিচ্ছেন। মুকুল ও গুটি যাতে ঝরে না পড়ে, সেজন্য ছিটাচ্ছেন ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক।

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকার আমচাষি মো. রাজিব বলেন, এবার কুয়াশা ও অকালের বৃষ্টি না থাকায় গাছে প্রচুর মুকুল হয়েছে। ফাল্গুনের এখনো অর্ধেক বাকি। ঝড়-ঝাপটা আসতে পারে। এতে কিছু মুকুল ঝরে যাবে। তারপরও যা থাকবে, আমের বাম্পার ফলন আশা করছি।

চাষিদের পরিচর্যার পাশাপাশি আবহাওয়ায় ভালো থাকায় মুকুলে নুয়ে পড়ছে ডাল। তবে রপ্তানি নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষিরা। স্ট্রিম ছবি
চাষিদের পরিচর্যার পাশাপাশি আবহাওয়ায় ভালো থাকায় মুকুলে নুয়ে পড়ছে ডাল। তবে রপ্তানি নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষিরা। স্ট্রিম ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জেও গাছে গাছে প্রচুর মুকুল দেখা যাচ্ছে। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের চাষি ইসমাইল খান বলেন, ‘গত বছর মুকুল কম ছিল। এজন্য আমরা এবার বেশি বেশি গাছের পরিচর্যা করেছি। আবহাওয়া ভালো। ফলে প্রচুর মুকুল এসেছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘মুকুল দেখে মনে হচ্ছে আমের ফলন খুব ভালো হবে। প্রতি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তারা আমচাষিদের সব ধরনের সহায়তা করছেন।’

কৃষি বিভাগ জানায়, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি। ইতোমধ্যে ৬৩ ভাগ গাছে মুকুল এসেছে। গত মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার, নওগাঁয় ৪ লাখ ৩২ হাজার, রাজশাহীতে ২ লাখ ৬০ হাজার ও নাটোরে ১ লাখ ৩৪ হাজার টন আম উৎপাদন হয়েছে। এবার উৎপাদন আরও বেশি হবে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার শীত মৌসুম ভালোভাবে শেষ হয়েছে। শেষদিকেও তেমন কুয়াশা ছিল না। অকালের বৃষ্টি হয়নি। তাপমাত্রা বেড়েছে ধীরে ধীরে। ফলে গাছে গাছে অসংখ্য মুকুল দেখা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত চাষিরা যত্ন নিলে মুকুল টিকে যাবে এবং ভালো ফলন হবে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁয় আমবাগানের প্রায় ৬৩ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। স্ট্রিম ছবি
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁয় আমবাগানের প্রায় ৬৩ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। স্ট্রিম ছবি

ভালো ফলনের আশায় চাষিরা যেমন স্বন বুনছেন, তেমনি চিন্তাও ভর করেছে। রপ্তানি করতে না পারলে তেমন লাভের মুখ দেখবেন না বলে জানিয়েছেন আমচাষিরা। রাজশাহীর বাঘা সদরের চাষি সানাউল্লাহ সানা বলেন, ‘২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম রপ্তানি করে প্রচুর লাভ করেছি। কিন্তু গত দুই বছর রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করেও পাঠাতে পারিনি। এবারও তেমন হলে পথে বসতে হবে। নতুন সরকারের কাছে চাওয়া, তারা যেন এই সমস্যাটার সমাধান করে।’

এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, এবার যাতে চাষিরা ঠিকভাবে আম রপ্তানি করতে পারেন, সে জন্য তারা কাজ করছেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত