মাজারের কুমির এখন খুলনায়, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

বাগেরহাটের হজরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেই আলোচিত কুমিরটি। স্ট্রিম ছবি

বাগেরহাটের হজরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেই আলোচিত কুমিরটি। বুধবার দুপুরে কুমিরটিকে খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৪–৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

গত ২ জুন জরুরী বৈঠক শেষে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে। তবে করমজলে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি; বন বিভাগ পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি দিঘিতে গোসল করতে নামা এক শিশুকে প্রাণঘাতী আক্রমণ এবং একটি কুকুরকে টেনে নেওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

বাগেরহাটের এই দিঘিতে কুমির পালনের ইতিহাস কয়েক শ বছরের পুরোনো। হজরত খান জাহান আলী (রহ.) তাঁর খনন করা দিঘিতে ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে দুটি কুমির ছেড়েছিলেন। সেই বংশের শেষ কুমিরটি মারা যায় ২০১৫ সালে। বর্তমানে দিঘিতে থাকা কুমিরটি মূলত ২০০৪ সালে ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে আনা মিঠাপানির প্রজাতির।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

কুমিরটি সরিয়ে নেওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘কুমিরটি যেহেতু মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল, তাই একে জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া একটি "ওয়াইজ ডিসিশন" বা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক এম এ আজিজ বলেন, মাজারের এই কুমিরটি যেহেতু মিঠাপানির প্রজাতির, তাই একে সুন্দরবনের পরিবেশে নেওয়া ঠিক হবে না।

অধ্যাপক আজিজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘মাজারের এই কুমিরগুলো মিঠাপানির কুমির। অন্যদিকে সুন্দরবন বা করমজল হচ্ছে লোনাপানির অঞ্চল। ফলে মিঠাপানির কুমিরকে লোনাপানির পরিবেশে তথা সুন্দরবনের খালে ছাড়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত হবে না। এই কুমিরটি যেহেতু একসময় ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে আনা হয়েছিল, তাই সবচেয়ে ভালো হয় কুমিরটিকে সেখানেই ফিরিয়ে দেওয়া।’

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘কুমিরটিকে কোনোভাবেই আর মাজারে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত হবে না। কারণ এটি যেহেতু মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে, এটি আবারও হামলা করতে পারে।’

বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, এ ধরনের হিংস্র প্রাণীর ব্যবস্থাপনায় কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং প্রজাতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বিবেচনা করে বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। মিঠাপানির এই কুমিরটির জন্য তার উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে স্থায়ী সমাধান।

সম্পর্কিত