সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শিক্ষাবিদ মাশিয়াত নূর প্রাপ্তির এই প্রবন্ধটিতে স্পর্শকাতর বিষয়টির পেছনের কাঠামোগত দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে সাহসিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মীয় আবরণের আড়ালে থাকা অপরাধীদের বিচার, রাষ্ট্রের নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করার এক জরুরি ও সময়োপযোগী আহ্বান এই লেখা।
মাশিয়াত নূর প্রাপ্তি

২০ মে ২০২৬। ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকার আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে পুলিশ উদ্ধার করে ১০ বছরের এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান জানায়, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অভিযোগের তির ওই মাদ্রাসারই সিনিয়র ছাত্র শিহাব হোসেনের দিকে।
মাত্র একদিন আগেই পল্লবীতে সাত বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। একই সপ্তাহে দুটো শিশুর এই নৃশংস মৃত্যু, একটি স্কুলের পাশের ফ্ল্যাটে, একটি মাদ্রাসার বাথরুমে; পুরো দেশকে শোকের সাথে এক গভীর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে: আমাদের শিশুরা কোথাও কি আর নিরাপদ নয়?
কিন্তু এই লেখাটি বিশেষভাবে মাদ্রাসার ভেতরে ঘটে চলা যৌন সহিংসতার প্রশ্নটি সামনে আনতে চায়। কারণ এই অপরাধের চরিত্র, এর মাত্রা, এবং এর পেছনের কারণগুলো একটু ভিন্ন এবং সেই ভিন্নতা বোঝা না গেলে সমাধানের পথও মেলে না।
বনশ্রীর ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন কাণ্ড নয়। মে ২০২৬ সালের একই সপ্তাহে কুড়িগ্রামের যাত্রাপুরের নুরানি তা’লিমুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১৩ বছরের এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সেই মাদ্রাসারই মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক)-এর বিরুদ্ধে। স্বীকারোক্তির রেকর্ড স্থানীয়দের কাছে থাকলেও পুলিশ পর্যন্ত পৌঁছায়নি সেই মামলা।
এর মাত্র কিছুদিন আগে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হযরত ফাতেমাতুজ্জুহরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক আমানউল্লাহ সাগর (৩০) তার ১১ বছরের ছাত্রীকে বারবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। এপ্রিলে হঠাৎ মেয়ের শরীরের পরিবর্তন দেখে মা তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে জানা যায় শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মামলার পর সাগর পালিয়ে যান, ফেসবুক লাইভে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।
চট্টগ্রামের রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন একাডেমিতে ২০১৯-২০২১ সালের মধ্যে ছয়জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছিলেন শিক্ষক নাজিম উদ্দিন (৪১)। ২০২৫ সালে আদালত তাকে মৃত্যু পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছেন। ঢাকার দক্ষিণখানে ৮ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০২৫ সালে গ্রেফতার হয়েছেন শিক্ষক মো. ইয়াসিন। পঞ্চগড়ে হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০২২ সালে।
এ তালিকা শেষ হওয়ার নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে কমপক্ষে ৫২ জন শিশু, যার মধ্যে তিনজন মারা গেছে। এবং এটি কেবল নথিভুক্ত সংখ্যা; বাস্তব সংখ্যা নিঃসন্দেহে আরও বেশি।
এই প্রশ্নটি উঠলেই অনেকে রক্ষণাত্মক হয়ে যান, মনে করেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কিন্তু এটি ধর্মের সমালোচনা নয়, এটি একটি কাঠামোর সমালোচনা। সেই কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত না করলে শিশুরা আরও দীর্ঘকাল ভুগবে।
প্রথমত, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ নজরদারির ঘাটতি অত্যন্ত গুরুতর। বিশেষত কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিচালিত হয়। এখানে কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই, কোনো নিরপেক্ষ পরিদর্শন নেই। শিক্ষক নিয়োগে কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন নেই। পরিচালক নিজেই বিচারক, নিজেই শাসক–শিশু বা অভিভাবকের কাছে অভিযোগ জানানোর কোনো পথ নেই।
দ্বিতীয়ত, আবাসিক মাদ্রাসাগুলো শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে। বহু শিশু বছরের পর বছর পরিবার ছাড়া থাকে। অভিভাবকরা ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আস্থা এবং দারিদ্র্যের কারণে সন্তানকে সেখানে পাঠান, এবং শিক্ষকদের প্রশ্ন করার ভাবনাও আসে না তাদের মাথায়। ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি এই আনুগত্য অপরাধীদের সুযোগ করে দেয়।
তৃতীয়ত, মাদ্রাসায় সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কে ক্ষমতার একটি কঠোর শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যমান। সিনিয়র ছাত্র বা শিক্ষক যা বলেন, তা মানতে হবে—এই সংস্কৃতি ছোট শিশুদের প্রতিবাদ করার সাহস কেড়ে নেয়। বনশ্রীর ঘটনায় সিনিয়র ছাত্রের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা এই কাঠামোরই ফলাফল।
মাদ্রাসায় যৌন সহিংসতার বিষয়টি আলোচনা করতে গেলে একটি অস্বস্তিকর কিন্তু জরুরি প্রশ্ন সামনে আসে: ধর্মীয় পরিবেশে পুরুষতন্ত্র কীভাবে কাজ করে?
বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো বিশেষত কওমি ঘরানার। মূলত পুরুষ-শাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ পুরুষ, শিক্ষক পুরুষ, পরিচালনা কমিটি পুরুষ। নারী শিক্ষার্থীরা থাকলেও তাদের কণ্ঠস্বর প্রায় নেই। এই কাঠামোয় শিশু—সে মেয়ে হোক বা ছেলে সবচেয়ে ক্ষমতাহীন।
একটি বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় হলো, মাদ্রাসায় ছেলেশিশুরাও যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে—যা আসক-এর পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। এই ঘটনাগুলো আরও বেশি চাপা পড়ে কারণ আমাদের সমাজে পুরুষের শরীরকে ‘অলঙ্ঘনীয়’ ভাবা হয়। ‘বলাৎকার’ শব্দটি ব্যবহার করে এই অপরাধকে ধর্ষণের চেয়ে হালকা করে দেখানোর প্রবণতা আছে। আসক-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা যথার্থভাবে বলেছেন, ধর্ষণ তো ধর্ষণই, সে ছেলের সাথে হোক বা মেয়ের সাথে।
মাদ্রাসার শিক্ষক বা পরিচালককে কেন এই সাহস জোগায়? কারণ তিনি জানেন যে তার ধর্মীয় পরিচয় তাকে একটি সুরক্ষাকবচ দেয়। ঘটনা ফাঁস হলে প্রথমে বলা হবে ‘এটা মিথ্যা’, তারপর ‘মীমাংসা হয়ে গেছে’, তারপর ‘প্রতিষ্ঠানের ইজ্জত নষ্ট করা হচ্ছে’। নেত্রকোনার সাগর পালিয়ে গিয়ে ফেসবুক লাইভে বলেছেন ‘ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ -এটি সেই একই কৌশল।
ধর্মীয় কর্তৃত্বকে প্রশ্ন না করার যে সংস্কৃতি, তা সহিংসতাকে আড়াল করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসলাম ধর্মে শিশু নির্যাতনের কোনো স্থান নেই কিন্তু ধর্মের নামে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে, সেগুলোর মানবিক ব্যর্থতাগুলো প্রশ্নের বাইরে রাখা আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাদ্রাসায় ধর্ষণের ঘটনাগুলো এতদিন কেন প্রকাশ পায়নি? এর পেছনে কতগুলো কাঠামোগত কারণ আছে।
প্রথমত, শিশুর সামনে কথা বলার পথ বন্ধ থাকে। নেত্রকোনার শিশুটি মাসের পর মাস সহিংসতার শিকার হয়েছে কিন্তু বলতে পারেনি। কারণ শিক্ষক তাকে ভয় দেখিয়েছে, মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। শিশুর মা ছিলেন দূরে, গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। যার কাছে অভিযোগ করবে সে-ই অপরাধী—এই ট্র্যাপ থেকে বের হওয়ার পথ শিশুর জন্য শূন্য।
দ্বিতীয়ত, দারিদ্র্য ও সামাজিক সুরক্ষাহীনতা অভিভাবকদের নীরব করে রাখে। অনেক পরিবার সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠায় কারণ বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া পাওয়া যায়, কারণ মনে হয় ‘হাফেজ’ হলে সমাজে মর্যাদা বাড়বে। অপরাধ সামনে এলেও অনেক পরিবার মামলার পথে না গিয়ে ‘সামাজিক সমাধান’ খোঁজে। কারণ মামলা করতে গেলে খরচ আছে, সময় আছে, এবং সমাজে ‘কথা উঠবে’ এই ভয় আছে।
তৃতীয়ত, মাদ্রাসা কমিটি প্রায়ই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। নেত্রকোনার সাগরের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে ‘টাকায় মেটানো’র চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই প্যাটার্ন বারবার দেখা যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ‘ইজ্জত’ রক্ষার নামে শিশু শিকারের ন্যায়বিচারকে বিসর্জন দেওয়া হয়।
চতুর্থত, শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দুর্বল ভূমিকা। মাদ্রাসায় কোনো চাইল্ড প্রোটেকশন পলিসি নেই। শিক্ষকদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকারি পরিদর্শনের কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই। ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের দৃষ্টির বাইরে একটি ‘অন্ধকার জায়গা’ হিসেবে থেকে যায়।
মাদ্রাসায় সহিংসতার বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হলে একটু গভীরে যেতে হবে। এখানে শুধু ‘অপরাধী’ ব্যক্তি নেই, আছে একটি ক্ষমতার কাঠামো যা শিশুর শরীরকে প্রাপ্তবয়স্কের নিয়ন্ত্রণের বস্তু হিসেবে দেখে।
পিতৃতন্ত্র আর ধর্মীয় কর্তৃত্ব যখন একত্রিত হয়, তখন তৈরি হয় এক অভেদ্য ক্ষমতার দুর্গ। শিশু সেই দুর্গের বাসিন্দা কিন্তু নিজের শর্তে নয়, অন্যের শর্তে। এই কাঠামোয় শিশুর শরীরের উপর তার নিজের কোনো কর্তৃত্ব নেই। সে কথা বলতে পারে না, সে ‘না’ বলতে পারে না।
নারীবাদী গবেষকরা দেখিয়েছেন যে যৌন সহিংসতা কখনোই শুধু ‘যৌনতা’র বিষয় নয়, এটি ক্ষমতার বিষয়। মাদ্রাসার শিক্ষক যখন শিশুকে ধর্ষণ করেন, তখন তিনি কেবল যৌন তৃপ্তি পাচ্ছেন না, তিনি ‘আমি সবকিছু করতে পারি’ এই বোধটিকেও প্রতিষ্ঠা করছেন। এই বোধ তৈরি হয়েছে বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নহীন আনুগত্যের সংস্কৃতিতে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা দরকার—মাদ্রাসায় যেসব ছেলেশিশু সহিংসতার শিকার, তাদের যন্ত্রণা প্রায়ই পুরোপুরি অদৃশ্য থেকে যায়। আমাদের সমাজে পুরুষ শিশু ধর্ষিত হয়েছে—এই কথাটাই যেন স্বাভাবিকভাবে বলার মতো নয়। ‘লজ্জার’ ভার মেয়ের ক্ষেত্রে যতটুকু, ছেলের ক্ষেত্রে তার থেকেও বেশি চাপা পড়ে যায়। এই ছেলেশিশুরা শুধু নির্যাতনের শিকার নয়, সমাজের লিঙ্গ-বিভাজিত দৃষ্টিভঙ্গির শিকারও।
মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষার যেকোনো প্রতিষ্ঠান—সেটি মাদ্রাসা হোক, স্কুল হোক, বিশ্ববিদ্যালয় হোক, যখন শিশু/ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করার অধিকার সমাজের আছে।
সকল মাদ্রাসা - কওমি সহ সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে বাধ্যতামূলক পুলিশ ভেরিফিকেশন থাকতে হবে। অঘোষিত সরকারি পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রতিটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাইল্ড প্রোটেকশন পলিসি থাকতে হবে। শিশুকে শেখাতে হবে যে শরীর তার নিজের এবং কেউ তাকে স্পর্শ করলে সে অভিযোগ করতে পারে। অভিযোগের পথ নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে হবে।
মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযুক্তের প্রতি বিশেষ নমনীয়তা গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের আলেম সমাজ, মুফতিগণ, ধর্মীয় নেতারা তাদের সম্মিলিতভাবে এই অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ‘ধর্মের সম্মান’ রক্ষার নামে শিশু নির্যাতনকারীকে আড়াল করা ইসলামের শিক্ষার বিরুদ্ধে।
সন্তানকে কোথায় পাঠাচ্ছেন, সেই প্রতিষ্ঠানে কী হচ্ছে এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষকের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের বদলে শিশুর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বনশ্রীর সেই ১০ বছরের শিশুর নাম আমরা জানতে পেরেছি। নেত্রকোনার ১১ বছরের মেয়েটির নাম আমরা জানি না সংবাদ মাধ্যম জানায়নি, সুরক্ষার স্বার্থে। কিন্তু তারা প্রত্যেকে একটি ব্যবস্থার শিকার যে ব্যবস্থা তাদের ছোট, নিরীহ, ক্ষমতাহীন শরীরকে সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের বিষয়টি আর শুধু ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ নয়। এটি একটি প্যাটার্ন। এবং যেকোনো প্যাটার্নের পেছনে থাকে ক্ষমতার কাঠামো, জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি, লিঙ্গ-ভিত্তিক অসমতা।
ধর্ম মানুষকে শেখায় দুর্বলকে রক্ষা করতে। কিন্তু ধর্মের নামে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান যখন নিজেই দুর্বলের অপরাধীতে পরিণত হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করাই ধর্মের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা।
মাশিয়াত নূর প্রাপ্তি: শিক্ষাবিদ ও গবেষক

২০ মে ২০২৬। ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকার আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে পুলিশ উদ্ধার করে ১০ বছরের এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান জানায়, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অভিযোগের তির ওই মাদ্রাসারই সিনিয়র ছাত্র শিহাব হোসেনের দিকে।
মাত্র একদিন আগেই পল্লবীতে সাত বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। একই সপ্তাহে দুটো শিশুর এই নৃশংস মৃত্যু, একটি স্কুলের পাশের ফ্ল্যাটে, একটি মাদ্রাসার বাথরুমে; পুরো দেশকে শোকের সাথে এক গভীর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে: আমাদের শিশুরা কোথাও কি আর নিরাপদ নয়?
কিন্তু এই লেখাটি বিশেষভাবে মাদ্রাসার ভেতরে ঘটে চলা যৌন সহিংসতার প্রশ্নটি সামনে আনতে চায়। কারণ এই অপরাধের চরিত্র, এর মাত্রা, এবং এর পেছনের কারণগুলো একটু ভিন্ন এবং সেই ভিন্নতা বোঝা না গেলে সমাধানের পথও মেলে না।
বনশ্রীর ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন কাণ্ড নয়। মে ২০২৬ সালের একই সপ্তাহে কুড়িগ্রামের যাত্রাপুরের নুরানি তা’লিমুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১৩ বছরের এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সেই মাদ্রাসারই মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক)-এর বিরুদ্ধে। স্বীকারোক্তির রেকর্ড স্থানীয়দের কাছে থাকলেও পুলিশ পর্যন্ত পৌঁছায়নি সেই মামলা।
এর মাত্র কিছুদিন আগে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হযরত ফাতেমাতুজ্জুহরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক আমানউল্লাহ সাগর (৩০) তার ১১ বছরের ছাত্রীকে বারবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। এপ্রিলে হঠাৎ মেয়ের শরীরের পরিবর্তন দেখে মা তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে জানা যায় শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মামলার পর সাগর পালিয়ে যান, ফেসবুক লাইভে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।
চট্টগ্রামের রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন একাডেমিতে ২০১৯-২০২১ সালের মধ্যে ছয়জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছিলেন শিক্ষক নাজিম উদ্দিন (৪১)। ২০২৫ সালে আদালত তাকে মৃত্যু পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছেন। ঢাকার দক্ষিণখানে ৮ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০২৫ সালে গ্রেফতার হয়েছেন শিক্ষক মো. ইয়াসিন। পঞ্চগড়ে হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০২২ সালে।
এ তালিকা শেষ হওয়ার নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে কমপক্ষে ৫২ জন শিশু, যার মধ্যে তিনজন মারা গেছে। এবং এটি কেবল নথিভুক্ত সংখ্যা; বাস্তব সংখ্যা নিঃসন্দেহে আরও বেশি।
এই প্রশ্নটি উঠলেই অনেকে রক্ষণাত্মক হয়ে যান, মনে করেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কিন্তু এটি ধর্মের সমালোচনা নয়, এটি একটি কাঠামোর সমালোচনা। সেই কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত না করলে শিশুরা আরও দীর্ঘকাল ভুগবে।
প্রথমত, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ নজরদারির ঘাটতি অত্যন্ত গুরুতর। বিশেষত কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিচালিত হয়। এখানে কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই, কোনো নিরপেক্ষ পরিদর্শন নেই। শিক্ষক নিয়োগে কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন নেই। পরিচালক নিজেই বিচারক, নিজেই শাসক–শিশু বা অভিভাবকের কাছে অভিযোগ জানানোর কোনো পথ নেই।
দ্বিতীয়ত, আবাসিক মাদ্রাসাগুলো শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে। বহু শিশু বছরের পর বছর পরিবার ছাড়া থাকে। অভিভাবকরা ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আস্থা এবং দারিদ্র্যের কারণে সন্তানকে সেখানে পাঠান, এবং শিক্ষকদের প্রশ্ন করার ভাবনাও আসে না তাদের মাথায়। ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি এই আনুগত্য অপরাধীদের সুযোগ করে দেয়।
তৃতীয়ত, মাদ্রাসায় সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কে ক্ষমতার একটি কঠোর শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যমান। সিনিয়র ছাত্র বা শিক্ষক যা বলেন, তা মানতে হবে—এই সংস্কৃতি ছোট শিশুদের প্রতিবাদ করার সাহস কেড়ে নেয়। বনশ্রীর ঘটনায় সিনিয়র ছাত্রের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা এই কাঠামোরই ফলাফল।
মাদ্রাসায় যৌন সহিংসতার বিষয়টি আলোচনা করতে গেলে একটি অস্বস্তিকর কিন্তু জরুরি প্রশ্ন সামনে আসে: ধর্মীয় পরিবেশে পুরুষতন্ত্র কীভাবে কাজ করে?
বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো বিশেষত কওমি ঘরানার। মূলত পুরুষ-শাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ পুরুষ, শিক্ষক পুরুষ, পরিচালনা কমিটি পুরুষ। নারী শিক্ষার্থীরা থাকলেও তাদের কণ্ঠস্বর প্রায় নেই। এই কাঠামোয় শিশু—সে মেয়ে হোক বা ছেলে সবচেয়ে ক্ষমতাহীন।
একটি বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় হলো, মাদ্রাসায় ছেলেশিশুরাও যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে—যা আসক-এর পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। এই ঘটনাগুলো আরও বেশি চাপা পড়ে কারণ আমাদের সমাজে পুরুষের শরীরকে ‘অলঙ্ঘনীয়’ ভাবা হয়। ‘বলাৎকার’ শব্দটি ব্যবহার করে এই অপরাধকে ধর্ষণের চেয়ে হালকা করে দেখানোর প্রবণতা আছে। আসক-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা যথার্থভাবে বলেছেন, ধর্ষণ তো ধর্ষণই, সে ছেলের সাথে হোক বা মেয়ের সাথে।
মাদ্রাসার শিক্ষক বা পরিচালককে কেন এই সাহস জোগায়? কারণ তিনি জানেন যে তার ধর্মীয় পরিচয় তাকে একটি সুরক্ষাকবচ দেয়। ঘটনা ফাঁস হলে প্রথমে বলা হবে ‘এটা মিথ্যা’, তারপর ‘মীমাংসা হয়ে গেছে’, তারপর ‘প্রতিষ্ঠানের ইজ্জত নষ্ট করা হচ্ছে’। নেত্রকোনার সাগর পালিয়ে গিয়ে ফেসবুক লাইভে বলেছেন ‘ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ -এটি সেই একই কৌশল।
ধর্মীয় কর্তৃত্বকে প্রশ্ন না করার যে সংস্কৃতি, তা সহিংসতাকে আড়াল করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসলাম ধর্মে শিশু নির্যাতনের কোনো স্থান নেই কিন্তু ধর্মের নামে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে, সেগুলোর মানবিক ব্যর্থতাগুলো প্রশ্নের বাইরে রাখা আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাদ্রাসায় ধর্ষণের ঘটনাগুলো এতদিন কেন প্রকাশ পায়নি? এর পেছনে কতগুলো কাঠামোগত কারণ আছে।
প্রথমত, শিশুর সামনে কথা বলার পথ বন্ধ থাকে। নেত্রকোনার শিশুটি মাসের পর মাস সহিংসতার শিকার হয়েছে কিন্তু বলতে পারেনি। কারণ শিক্ষক তাকে ভয় দেখিয়েছে, মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। শিশুর মা ছিলেন দূরে, গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। যার কাছে অভিযোগ করবে সে-ই অপরাধী—এই ট্র্যাপ থেকে বের হওয়ার পথ শিশুর জন্য শূন্য।
দ্বিতীয়ত, দারিদ্র্য ও সামাজিক সুরক্ষাহীনতা অভিভাবকদের নীরব করে রাখে। অনেক পরিবার সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠায় কারণ বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া পাওয়া যায়, কারণ মনে হয় ‘হাফেজ’ হলে সমাজে মর্যাদা বাড়বে। অপরাধ সামনে এলেও অনেক পরিবার মামলার পথে না গিয়ে ‘সামাজিক সমাধান’ খোঁজে। কারণ মামলা করতে গেলে খরচ আছে, সময় আছে, এবং সমাজে ‘কথা উঠবে’ এই ভয় আছে।
তৃতীয়ত, মাদ্রাসা কমিটি প্রায়ই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। নেত্রকোনার সাগরের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে ‘টাকায় মেটানো’র চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই প্যাটার্ন বারবার দেখা যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ‘ইজ্জত’ রক্ষার নামে শিশু শিকারের ন্যায়বিচারকে বিসর্জন দেওয়া হয়।
চতুর্থত, শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দুর্বল ভূমিকা। মাদ্রাসায় কোনো চাইল্ড প্রোটেকশন পলিসি নেই। শিক্ষকদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকারি পরিদর্শনের কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই। ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের দৃষ্টির বাইরে একটি ‘অন্ধকার জায়গা’ হিসেবে থেকে যায়।
মাদ্রাসায় সহিংসতার বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হলে একটু গভীরে যেতে হবে। এখানে শুধু ‘অপরাধী’ ব্যক্তি নেই, আছে একটি ক্ষমতার কাঠামো যা শিশুর শরীরকে প্রাপ্তবয়স্কের নিয়ন্ত্রণের বস্তু হিসেবে দেখে।
পিতৃতন্ত্র আর ধর্মীয় কর্তৃত্ব যখন একত্রিত হয়, তখন তৈরি হয় এক অভেদ্য ক্ষমতার দুর্গ। শিশু সেই দুর্গের বাসিন্দা কিন্তু নিজের শর্তে নয়, অন্যের শর্তে। এই কাঠামোয় শিশুর শরীরের উপর তার নিজের কোনো কর্তৃত্ব নেই। সে কথা বলতে পারে না, সে ‘না’ বলতে পারে না।
নারীবাদী গবেষকরা দেখিয়েছেন যে যৌন সহিংসতা কখনোই শুধু ‘যৌনতা’র বিষয় নয়, এটি ক্ষমতার বিষয়। মাদ্রাসার শিক্ষক যখন শিশুকে ধর্ষণ করেন, তখন তিনি কেবল যৌন তৃপ্তি পাচ্ছেন না, তিনি ‘আমি সবকিছু করতে পারি’ এই বোধটিকেও প্রতিষ্ঠা করছেন। এই বোধ তৈরি হয়েছে বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নহীন আনুগত্যের সংস্কৃতিতে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা দরকার—মাদ্রাসায় যেসব ছেলেশিশু সহিংসতার শিকার, তাদের যন্ত্রণা প্রায়ই পুরোপুরি অদৃশ্য থেকে যায়। আমাদের সমাজে পুরুষ শিশু ধর্ষিত হয়েছে—এই কথাটাই যেন স্বাভাবিকভাবে বলার মতো নয়। ‘লজ্জার’ ভার মেয়ের ক্ষেত্রে যতটুকু, ছেলের ক্ষেত্রে তার থেকেও বেশি চাপা পড়ে যায়। এই ছেলেশিশুরা শুধু নির্যাতনের শিকার নয়, সমাজের লিঙ্গ-বিভাজিত দৃষ্টিভঙ্গির শিকারও।
মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষার যেকোনো প্রতিষ্ঠান—সেটি মাদ্রাসা হোক, স্কুল হোক, বিশ্ববিদ্যালয় হোক, যখন শিশু/ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করার অধিকার সমাজের আছে।
সকল মাদ্রাসা - কওমি সহ সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে বাধ্যতামূলক পুলিশ ভেরিফিকেশন থাকতে হবে। অঘোষিত সরকারি পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রতিটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাইল্ড প্রোটেকশন পলিসি থাকতে হবে। শিশুকে শেখাতে হবে যে শরীর তার নিজের এবং কেউ তাকে স্পর্শ করলে সে অভিযোগ করতে পারে। অভিযোগের পথ নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে হবে।
মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযুক্তের প্রতি বিশেষ নমনীয়তা গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের আলেম সমাজ, মুফতিগণ, ধর্মীয় নেতারা তাদের সম্মিলিতভাবে এই অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ‘ধর্মের সম্মান’ রক্ষার নামে শিশু নির্যাতনকারীকে আড়াল করা ইসলামের শিক্ষার বিরুদ্ধে।
সন্তানকে কোথায় পাঠাচ্ছেন, সেই প্রতিষ্ঠানে কী হচ্ছে এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষকের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের বদলে শিশুর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বনশ্রীর সেই ১০ বছরের শিশুর নাম আমরা জানতে পেরেছি। নেত্রকোনার ১১ বছরের মেয়েটির নাম আমরা জানি না সংবাদ মাধ্যম জানায়নি, সুরক্ষার স্বার্থে। কিন্তু তারা প্রত্যেকে একটি ব্যবস্থার শিকার যে ব্যবস্থা তাদের ছোট, নিরীহ, ক্ষমতাহীন শরীরকে সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের বিষয়টি আর শুধু ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ নয়। এটি একটি প্যাটার্ন। এবং যেকোনো প্যাটার্নের পেছনে থাকে ক্ষমতার কাঠামো, জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি, লিঙ্গ-ভিত্তিক অসমতা।
ধর্ম মানুষকে শেখায় দুর্বলকে রক্ষা করতে। কিন্তু ধর্মের নামে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান যখন নিজেই দুর্বলের অপরাধীতে পরিণত হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করাই ধর্মের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা।
মাশিয়াত নূর প্রাপ্তি: শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ইন্দো-প্যাসিফিক এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রধান ক্ষেত্র। যা শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে, তা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে পরিণত হয়েছে বাণিজ্যপথ, প্রযুক্তি, সামরিক উপস্থিতি, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে এক বৃহত্তর প্রতিযোগিতায়।
৪৪ মিনিট আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশে। গত ২ জুন ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক অভিযুক্তকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল
১ ঘণ্টা আগে
এখন বলা অত্যুক্তি হবে না, দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি গভীর সংকটে নিমজ্জিত। জুনের ১ তারিখে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সংকটটি প্রকাশ পেয়েছে আরও ব্যাপকভাবে।
২ ঘণ্টা আগে
তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে এক উজ্জ্বল ‘নক্ষত্রে’র বিদায় ঘটল। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছিলেন। ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোর মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদ একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী জননেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
১৮ ঘণ্টা আগে