-45f751.png)
চুয়াডাঙ্গায় সাত কোটি টাকায় নির্মিত স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়োবর্জ্য শোধনাগারটি তিন বছর ধরে অকেজো থাকায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়িতে ৯ বিঘা (৩ একর) জমির ওপর শোধনাগারটি নির্মাণ করা হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ সেক্টর প্রকল্পের আওতায় একটি স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও আরেকটি পয়োবর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ হয়। এতে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি ডাম্পিং স্টেশনের পাম্প হাউস, ফিল্টার, পলিশিং ও সেটেলমেন্ট ট্যাংকের সুবিধা থাকবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শোধনাগারের প্রবেশদ্বার ও চারপাশ ঘন লতাপাতায় ঢেকে গেছে। পাম্প হাউস, ফিল্টার, পলিশিং ও সেটেলমেন্ট ট্যাংকসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। দেখাশোনার জন্য ভেতরে একটি অফিস কক্ষ থাকলেও দিনের অধিকাংশ সময় সেটি তালাবদ্ধ থাকে।
-3e1d45.png)
অন্যদিকে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর ভ্যান ও ট্রাকযোগে এখানে ফেলছেন। প্রতিদিন পচনশীল বর্জ্য, পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতলসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ টন বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে জমা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এসব বর্জ্য জমে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশের কৃষিজমিতে ময়লা ছড়িয়ে পড়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন তাঁদের ভোগান্তির কারণ। বুজরুকগড়গড়ি বনানী পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জনি বলেন, ‘যে কাজে ডাম্পিং স্টেশনটি তৈরি হয়েছিল তার কোনোটিই হচ্ছে না। এখানে শুধু ময়লা ফেলা হয়, শোধনের উদ্যোগ দেখিনি।’
আরেক বাসিন্দা আব্দুর কাদির সোহান বলেন, ‘স্টেশনটি চালু না হওয়ায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। সারাদিন এলাকায় দুর্গন্ধ থাকে, বাতাস হলে তা আরও বাড়ে।’
স্থানীয় কৃষক আবু কাশেম বলেন, ‘দুর্গন্ধের কারণে আমরা মাঠে কাজ করতে পারি না। বাতাসে ময়লা-আবর্জনা ফসলি জমিতে চলে আসায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।’
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইনচার্জ জয়নাল আবেদিন বলেন, শোধনাগারে কবে উৎপাদন শুরু হবে তা জানা নেই, এটা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। আমি শুধু দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছি।
চুয়াডাঙ্গা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘শোধনাগার চালু করতে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। চুক্তি হলে কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া দ্রুত চালুর স্বার্থে আরেকটি প্রকল্পের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারা সম্প্রতি এলাকাটি পরিদর্শন করে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি দ্রুতই স্টেশন চালু সম্ভব হবে।’
.png)






